নামাজ না পড়ার শাস্তি ইসলাম অনুযায়ী

নামাজ না পড়ার শাস্তি ইসলাম অনুযায়ী বিরল।নামাজ পড়া হচ্ছে বাধ্যতামূলক। ইসলাম ধর্মের নামাজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত গুলোর একটি। নামাজকে ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ বলা হয়।মুসলমানের ওপর যে ফরজ ইবাদত গুলোর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে নামাজ তার মধ্যে প্রথম।

নামাজ-না-পড়ার-শাস্তি-ইসলাম

অথচ আজকের সমাজে অনেক মুসলমান ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবহেলায় নামাজ পড়ে না। তাই অনেকে মনে প্রশ্ন জাগে নামাজ না পড়া শাস্তি ইসলাম অনুযায়ী কি। কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিষয়টি সহজভাবে ব্যাখ্যা করব নামাজ না পড়া শাস্তি।

পেজ সূচিপত্রঃ নামাজ না পড়ার শাস্তি ইসলাম অনুযায়ী

নামাজ না পড়ার শাস্তি ইসলাম অনুযায়ী

ইসলাম শুধু কিছু নিয়ম কানুন এর নাম নয়। এটি মানুষের জীবনকে সুন্দর, শান্তি ও সুশৃঙ্খলা করার পূর্ণাঙ্গ পথনির্দেশন। এ পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নামাজ। একজন মুসলমান আল্লাহকে বিশ্বাস করার পর তার প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা। কিন্তু বাস্তব জীবনে দেখা যায় অনেকেই নামাজের গুরুত্ব জানলো তা নিয়মিত আদায় করে না। কেউ অলসতার কারণে, কেউ কাজের অজুহাতে, আবার কেউ একবারে গুরুত্বই দেয় না। তাই স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন আছে নামাজ না পড়ার শাস্তি ইসলাম অনুযায়ী কি।

নামাজ হলো আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সরাসরি কথা বলার মাধ্যম। দুনিয়ায় কোন বড় মানুষের সঙ্গে দেখা করতে যেমন অনুমতি ও সময় লাগে ঠিক তেমনি নামাজের মাধ্যমে একজন সাধারণ মানুষ আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়। নামাজ মানুষকে নিয়ম-বার্তা শিখায়, সময়ের মূল্য বোঝায় এবং গুনাহ থেকে দূরে রাখে। যে ব্যক্তি দিনে পাঁচবার আল্লাহ সামনে দাঁড়ায় সে ধীরে ধীরে মিথ্যা, অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে শেখে।নামাজ এমন একটি ইবাদত যা কোন নবীর উম্মতের ওপর বাদ দেওয়া হয়নি। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন মেরাজের রাতে আল্লাহর কাছ থেকে সরাসরি নামাজের নির্দেশ পেয়েছেন।

এটি প্রমাণ করে যে নামাজের মর্যাদা কতটা উঁচু। ইসলামের ঈমান আনার পর প্রথম যে আমলটি হিসাব নেওয়া হবে তা হল নামাজ। নামাজ ঠিক থাকলে অন্যান্য আমলের হিসাব সহজ হবে এই কথাটি স্পষ্ট ভাবে হাদিসে বলা হয়েছে। নামাজ না পড়া মানে শুধু একটি ইবাদত বাদ দেওয়া নয় এটি আল্লাহর আদেশ কে অবহেলা করা। যখন একজন মানুষ জেনে শুনে নামাজ ছেড়ে দেয় তখন সে আসলে বলে দিচ্ছে আমি আল্লাহ নির্দেশকে গুরুত্ব দিচ্ছি না। এই মনোভাব নামাজ না পড়া সবচেয়ে বড় বিপদ। নামাজ না পড়লে আর কি কি শাস্তি হয় চলুন নিচে জেনে নিন।

কুরআনে নামাজ না পড়ার শাস্তি

কোরআন শুধু একটি ধর্মগ্রন্থ নয়। এটি মানুষের জীবনের পূর্ণ দিক-নির্দেশনা। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বারবার নামাজ কায়েম করার আদেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে যারা নামাজকে অবহেলা করে বা ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করে তাদের জন্য কঠিন সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে স্পষ্ট ভাবে বোঝানো হয়েছে যে নামাজ না পড়া মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। এমন কিছু মানুষের কথা বলেছে যারা নামাজ পড়তো না এবং এর ফল কি হয়েছে তাও জানিয়েছে।

আরো পড়ুনঃ ফরজ নামাজ পড়ার ১০টি ফজিলত

  • কিয়ামতের দিন জাহান্নামে থাকা লোকেদের জিজ্ঞাসা করা হবে তোমাদের কি কারনে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়েছে। তারা বলবে আমরা নামাজ আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না। এর বক্তব্য থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় নামাজ না পড়া জাহান্নামে যাওয়ার অন্যতম বড় কারণ।
  • কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেন এক শ্রেণীর মানুষ তাদের পরবর্তী প্রজন্ম কাছে নামাজ নষ্ট করে দিয়েছে। তারা নামাজকে গুরুত্ব দেয়নি এবং নিজেদের প্রবৃত্তি অনুসরণ করেছে। এর ফল হিসেবে আল্লাহ বলেন তারা শাস্তির মুখোমুখি হবে। নামাজ নষ্ট করা মানে শুধু সময় মত না পড়া নাই বরং নামাজকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে না ধরা। এমন মানুষের জীবন ধীরে ধীরে ভরে যায়।
  • কোরআনের একটি আয়াতে এমন লোকদের জন্য ধ্বংস শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে যারা নামাজ পড়ে কিন্তু উদাসীন থাকে। এখন চিন্তার বিষয় হল যারা নামাজ পড়েও অবহেলা পড়ে তাদের জন্য যদি সতর্কতা থাকে। তাহলে যারা একেবারে নামাজ পড়ে না তাদের অবস্থা কত ভয়াবহ হতে পারে। এ থেকে বোঝা যায় আল্লাহর কাছে নামাজ কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
  • কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন যে ব্যক্তি তার সরল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তার জীবনে ধ্বংস হয়ে যায়। নামাজী আল্লাহ চরণে সবচেয়ে বড় মাধ্যম। তাই নামাজ না পড়া মানে আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে থাকা যার ফলে দুনিয়া ও আখেরাতে দুই জায়গাতে কষ্ট। কোরআন শুধু শাস্তির কথা বলা না বড় না আসার কথাও বলে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন যে ব্যক্তি তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎ কাজ শুরু করে আল্লাহ তার আগের ভুলগুলো ক্ষমা করে দেন।
  • যতদিন জীবন আছে ততদিন নামাজ ফিরে আসার সুযোগ আছে। কোরআনের আলোকে নামাজ না পড়া শাস্তি অত্যন্ত কঠিন ও ভয়াবহ। নামাজ শুধু একটি ইবাদত নয় বরং একজন মুসলমানের পরিচয়। যে ব্যক্তি নামাজ কে গুরুত্ব দেয় না সে নিজের জীবনকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়।

হাদিসে নামাজ না পড়ার শাস্তি

হাদিস হলো রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কথা কাজ ও অনুমোদনের সংকলন। কুরআনের পর ইসলামের দ্বিতীয় প্রধান উৎস। নামাজ নিয়ে রাসুল (সাঃ) যেভাবে সতর্ক করেছে তা অন্য কোন এবাদতের ক্ষেত্রে এত কঠোরভাবে আসেনি। হাদিসগুলো লক্ষ্য করলে বোঝা যায় নামাজ ত্যাগ করা শুধু গুনহা নয় বরং ঈমানের জন্য বড় হুমকি। হাদিস অনুযায়ী নামাজ না পড়লে আর কি কি শাস্তি রয়েছে।

  • নামাজ ও কুফরের মাঝখানের পার্থক্যঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, বান্দা ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হল নামাজ। এ হাদীস অর্থ খুব গভীর। এখানে বোঝানো হয়েছে নামাজ এমন একটি ইবাদত যা একজন মানুষকে মুসলমানের পরিচয় ধরে রাখে। যে ব্যক্তি নামাজ ছেড়ে দেই ছেড়ে ধীরে ধীরে ঈমানের সীমানা থেকে দূরে সরে যায়। হাদিসটি আমাদের ভয় দেখানোর জন্য নয় বরং সতর্ক করার জন্য। যেন কোন মুসলমান নামাজকে হালকা মনে না করে।
  • নামাজ না পড়লে গুনাহকে আর গুনাহ মনে হয় নাঃ হাদিসের ইঙ্গিতে আছে নামাজ মানুষের অন্তরকে জীবিত রাখে। বাস্তব কথা বললে যে মানুষ নামাজ পড়ে না তার ভিতরে ভুল ঠিক বোঝার ক্ষমতা ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। মিথ্যা বলার সহজ লাগে হারাম জিনিস তেমন খারাপ মনে হয় না। এটাই এক ধরনের শাস্তি বিবেক নষ্ট হয়ে যাওয়া যেটা মানুষ নিজেও টের পায় না।
  • আল্লাহকে মনে না রাখাঃ রাসূল (সাঃ) বলেছেন নামাজ হলো আল্লাহর স্মরণ। নামাজ না থাকলে আল্লাহর কথা শুধু মুখে থাকে কাজে থাকে না বাস্তবে দেখা যায় নামাজ না পড়লে দোয়া করতে ইচ্ছা করে না, কোরআন খুলতে মন চায় না এবং আল্লাহর নাম শুনলে তেমন অনুভূতি হয় না। এই অনুভূতিহীনতা নিজেই একটা বড় শাস্তি যা হাদিসে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
  • কিয়ামতের দিনে প্রথম প্রশ্ন আটকে যাওয়াঃ হাদিসে এসেছে কিয়ামতের দিন সবার আগে নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। এটা শুধু আখেরাতের কথা নয় এটা বাস্তব সতর্কতা। যার নামাজ নেই তার জীবনে হিসাব কিভাবে ভালো হবে। নামাজ না পড়া মানে কিয়ামতের দিনই শুরুতে পিছিয়ে পড়া।
  • বরকত উঠে যাওয়াঃ হাদিসের সরাসরি বরকত উঠে যাবে বলা না হলেও শিক্ষা খুব পরিষ্কার। নামাজ মানুষকে আল্লাহর রহমতে সঙ্গে যুক্ত রাখে। নামাজ না থাকলে দেখা যায় আয় আছে তবু শান্তি নেই, সময় আছে তবু কাল শেষ হয় নাএবং চেষ্টা আছে তবু ফল আসে না। এটাকে বাস্তবে বলা হয় নীরব শাস্তি যা মানুষ বুঝে না।

দুনিয়াতে নামাজ না পড়ার শাস্তি

অনেকে মনে করেন নামাজ না পড়া শাস্তির শুরু আখেরাতে হবে। কিন্তু ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী নামাজ ছেড়ে দিলে তার প্রভাবে দুনিয়াতে পড়তে শুরু করে। এগুলো কোন অলৌকিক শাস্তি নয় বরং ধীরে ধীরে জীবনে নেমে আসা বাস্তব পরিবর্তন যা মানুষ অনেক সময় বুঝতে পারে না। নামাজ মানুষকে আল্লাহর সঙ্গে যুক্ত রাখে। নামাজ না থাকলে এর সংযোগ কেটে যায়। যার ফলাফল হিসেবে দেখা যায় সবকিছু ঠিক থাকার পরও মন অস্থির, হাসি থাকলেও ভিতরে শূন্যতা, রাতে ঘুম এলো তৃপ্তি নেই। এটা দুনিয়ার সবচেয়ে সাধারণ কিন্তু গভীর শাস্তি মনের শান্তি হারিয়ে ফেলা। আর কি কি শাস্তির হয়েছে চলুন জেনে নিন।

  • জীবনের বরকত কমে যাওয়া
  • ছোট বিষয়ে রাগ বড় বিষয়ে ধৈর্য না থাকা
  • ভুল সিদ্ধান্ত বেড়ে যাওয়া
  • গুনাহের দিকে ঝোঁক বাড়তে থাকা
  • ভালো মানুষের সঙ্গ হারিয়ে ফেলা
  • দুয়া করতে মন না চাওয়া
  • সমসায় পড়লে আল্লাহকে মনে না আসা
  • জীবন অর্থহীন মনে হওয়া
  • মৃত্যু ভয় ও অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়া
  • দুনিয়াতে নামাজ না পড়া শাস্তি মানে হঠাৎ কোনো বিপদ নাই বরং ধীরে ধীরে শান্তি চলে যাওয়া, বরকত কমে যাওয়া এবং ঈমান দুর্বল হওয়া।

মৃত্যুর সময় নামাজ না পড়ার শাস্তি

ইসলামে নামাজ শুধু এবাদত নয় এটি একজন মুমিনের জীবনের মেরুদন্ড। যে ব্যক্তি দুনিয়াতে ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ অবহেলা করে তার প্রভাব শুধু দুনিয়াতে নয় মৃত্যুর মুহূর্ত ভয়ংকর ভাবে প্রকাশ পায় একথা হাদিসের শিক্ষা স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়। নামাজ মানুষকে আল্লাহ স্মরণে অভ্যস্ত করে। যে ব্যক্তি সারা জীবন আল্লাহকে ডাকে না মৃত্যুর সময় তার জিহবাও আল্লাহর নাম নিতে চাই না। বহু আলেমে বলেছেন, নামাজে অবহেলা করলে শেষ মুহূর্ত লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা কঠিন হয়ে যায়। অনেকে তখন দুনিয়ার কথা, টাকা পয়সা সন্তান বা ভয়ংকর দৃশ্য বলতে থাকে। কিন্তু মুখ দিয়ে কালিমা আসে না। মৃত্যু সময় নামাজ না পড়ার শাস্তি আর কি কি রয়েছে চলুন জেনে নিন।

  • মৃত্যুর সময় অস্থিরতা ও ভয় ঘিরে ধরে।
  • রুহু বের হওয়ার সময় কষ্ট বাড়ে
  • ফেরেশতাদের আগমনে স্বস্তি আসে না।
  • মৃত্যুর আগে অনুতাপ আছে কিন্তু সময় থাকে না।
  • খারাপ পরিণীতির ভয়।
  • নামাজ মানুষকে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত করে। আর নামাজের জীবন মানুষকে মৃত্যুর সামনে অপ্রস্তুত ও অসহায় করে তোলে।

কবরে নামাজ না পড়ার শাস্তি

নামাজ দুনিয়ার ইবাদত হল এর প্রভাব ছড়াছড়ি কবর জীবনে গিয়েও পড়ে। কারণ কবর হলো আখিরাতের প্রথম ধাপ। যে ব্যক্তি দুনিয়াতে নামাজকে অবহেলা করেছে কবর তার জন্য শান্তির জায়গা নয় বরং সতর্কবার্তা জায়গা হয়ে ওঠে। কবর মুনকার-নাকির ফেরেশতারা প্রশ্ন করবে তোমার রব কে, তোমার দ্বীন কি, তোমার নবী কে। নামাজ মানুষকে আল্লাহর স্মরণ ও আনুগত্য অভ্যস্ত করে। যে নামাজ পড়েনি সে এ প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে গিয়ে ভয়, দ্বিধা ও অস্থিরতায় পড়ে যাই। আলেমরা বলেন, নামাজে জীবনের ফল কবর প্রশ্নের জবাব জবানে আসে না এবং মন স্থির থাকে না। আর কি কি শাস্তি রয়েছে জানি।

  • কবর সংকীর্ণ হয়ে যাওয়া।
  • কবরের শান্তি থেকে বঞ্চিত হওয়া।
  • নামাজ না পড়লে কবরের জীবনে কোন আমল রক্ষা কবজ হয়ে দাঁড়ায় না।
  • নামাজ না পড়া শাস্তির বড় দিক হল কবরঅ গিয়েও বুঝল সংশোধনের সুযোগ থাকে না।
  • আখিরাতের ভয় শুরু হয়ে যাওয়া।
  • যে নামাজের সাথে বাঁচে তার কবর শান্ত হয়। যে নামাজ ছাড়া বাঁচে তার কবর সতর্ক বার্তা হয়ে দাঁড়ায়।

পরকালে নামাজ না পড়ার শাস্তি

নামাজ না পড়ার শাস্তি ইসলাম অনুযায়ী জানলাম। নামাজ না পড়ার শাস্তি আরেকটি হচ্ছে পরকালের শাস্তি। নামাজ শুধু দুনিয়ার ইবাদত নয় বরং আখেরাতের মুক্তির চাবিকাঠি। দুনিয়াতে নামাজকে গুরুত্ব দেয় না পরকালে তার প্রথম হিসেবে ভয়ঙ্কর অবস্থা তৈরি হয়। হাদিসের অর্থ অনুযায়ী কিয়ামতের দিন বান্দার প্রথম যে আমলের হিসাব নেওয়া হবে তা হল নামাজ। যদি নামাজ ঠিক না থাকে তাহলে অন্য আমল গুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। নামাজ না পড়া মানুষ তাই শুরুতেই হিসাবে চাপে পড়ে যায়।

  • আল্লাহর নিকট থেকে বঞ্চিত হওয়া।
  • লজ্জা ও অনুতাপে মাথা নিচু হয়ে যাওয়া।
  • মুখে কথা বলা শক্তি হারানো।
  • নামাজ ত্যাগ করা জাহান্নামে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে নিজেই স্বীকৃতি।
  • জান্নাতের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া।
  • ফেরেশতাদের তিরস্কার।
  • নামাজ না পড়ার ব্যাক্তি উপলব্ধি করে আমি সামান্য সময় নামাজ বলা আজ মুক্তি হতে পারতাম।
  • যে নামাজ আঁকড়ে ধরে সে আখেরাতে নিরাপদ। যে নামাজ ছেড়ে দিয়েছে পরকালের অসহায়।

আলেমদের ভিন্ন মতামত

নামাজ ইসলামে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। তবে নামাজ ত্যাগকারী ব্যক্তি ঈমান ও শাস্তি নিয়ে আলেমদের মধ্যে কিছু মত ভেদ রয়েছে।এই মতভেদ ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ না পড়া এবং অলসতা বা গাফিলতিতে নামাজ না পড়া এই দুই অবস্থাকে কেন্দ্র করে। এই মতে আলেমরা বলেন, যে ব্যক্তি জেনেশুনে গুরুত্ব অস্বীকার করে নামাজ ছেড়ে দে সে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যায়। অধিকাংশ আহলে সুন্নাহ আলেম বলেন, যে ব্যক্তি নামাজ ফরজ বলে বিশ্বাস করে কিন্তু অলসতা, গাফিলতি বা দুনিয়ায় ব্যস্ততা নামাজ পড়ে না সে কাফের নয় তবে বড় গুনাহই লিপ্ত।

নামাজ ত্যাগকারীর জন্য উপদেশ

ইসলাম মানুষকে শুধু শাস্তির ভয় দেখায় না বরং ভালোবাসা, বুদ্ধি ও মমতা দিয়ে সঠিক পথে ডাকে। নামাজ ত্যাগ করা যে বড় ভুল এটা বোঝাতে কোরআন, হাদিস ও আলেমদের উপদেশ কিছু গভীর বার্তা রয়েছে। আল্লাহ মানুষকে শাস্তি দেওয়ার জন্য নয় ফিরিয়ে আনার জন্য সুযোগ দেন। যে এখনো বেঁচে আছে তার জন্য দরজা বন্ধ হয়নি। নামাজ বহুদিন ছেড়েও দিল আজ থেকে পড়া শুরু করলে আল্লাহু খুশি হন। যেদিন নামাজে ফিরে আসবে সেই দিন থেকে নতুন জীবন শুরু হবে।

নামাজ হল বান্দা ও আল্লাহর সরাসরি কথা বলার মাধ্যম। নামাজ ছারলে আল্লাহ সাথে সম্পর্ক ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যায় ফলে মন অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা ও শূন্যতা বাড়ে। নামাজকে বোঝা নয় আত্মার বিশ্রাম হিসেবে দেখা। অনেকে ভাবে নামাজ ঠিকভাবে না করলে শুরু করব না। এটা একটি শয়তানের ফাঁদ। ইসলামের উপদেশ হলো আজ এক ওয়াক্ত, কাল দুই ওয়াক্ত এভাবে ফিরে আসা। অসম্পূর্ণ নামাজও নামাজ না পড়ার চেয়ে উত্তম।

নামাজ থেকে অজুহাত নিজেকে ক্ষতির মুখে ফেলে দেয়। সময় পাইনা, মন বসে না, পরে পড়বো এসব অজুহাত গুলো আল্লাহর কাছে নয় নিজের ক্ষতির তালিকা। কারণ সময় শেষ হয়ে গেলে অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না। কাজের জন্য সময় বের করা যাই তেমনি আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়ার সময় বের করা যাবে।

আরো পড়ুনঃ শবে কদরের ফজিলত ও তাৎপর্য

নামাজ মানুষকে গুনাহ থেকে দূরে রাখে। নামাজ মানুষকে ধীরে ধীরে, মিথ্যা, অন্যায় এবং হারাম কাজ থেকে দূরে রাখে। নামাজ ছেড়ে দিলে গুনাহ সহজ হয়ে যায়। নামাজকে ঢাল বানাও যাতে গুনাহ আঘাত করতে না পারে। অনেকে ভাবে এতদিন নামাজ পড়ে নি, এখন কিভাবে শুরু করব। ইসলামের উপদেশ হলো আল্লাহু লজ্জা দেন না বরং ফিরে আশায় খুশি হন।

ফিরে আসা কখনো দেরি হয় না দেরি হয় শুধু মৃত্যুর হলে। নিজের নামাজ দিয়ে পরিবারকে ডাকো কথা দিয়ে নয়। তাই নামাজ কাল থেকে নয় আজ থেকে শুরু করতে হবে। কারণ আগামী ওয়াক্ত পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। যে আজ নামাজে দাঁড়ায় সে নিরাপদে দাঁড়ায়। যে নামাজ ফেলে রাখে সে অনিশ্চয়তার পথে চলে।

উপসংহার নামাজ না পড়ার শাস্তি ইসলাম অনুযায়ী 

নামাজ না পড়ার শাস্তি ইসলাম অনুযায়ী অত্যন্ত কঠিন ও ভয়াবহ। তাই একজন সচেতন মুসলমানের উচিত নামাজকে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে গ্রহণ করা। তাই আসুন আজিজ তওবা করে নিয়মিত নামাজ শুরু করে দুনিয়া ও আখেরাতে দুই জগতে সফলতা অর্জন করি। আপনার যদি আর্টিকেলটা পড়ে উপকার হয় তাহলে মতামতটি কমেন্ট বক্সে জানান ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সামিজা৪২ কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url