আমরুল শাক খাওয়ার ২০টি উপকারিতা ও অপকারিতা

আমরুল শাক খাওয়ার ২০টি উপকারিতা স্বাস্থ্য রয়েছে তা জানবো।আমরুল শাক একটি ভেষজ ও প্রাকৃতিক উদ্ভিদ। যা গ্রামে বেশি দেখতে পাওয়া যায়। এ আধুনিক জীবনে যে মানুষ দিন দিন প্রকৃতির খাবারের প্রতিবেশী আকর্ষিত হচ্ছে। কারণ আগের গ্রামের মানুষ প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের তারা তুলনামূলকভাবে সুস্থ ও কর্ম ক্ষয় থাকতে। কিন্তু বর্তমানে মানুষের শরীর অনেক দুর্বল। ব্যস্ততা জীবন, অনিয়মিত খাওয়া দাওয়া, জীবন যাপনের অনিয়ম যার কারণে মানুষ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছে।

আমরুল-শাক-খাওয়ার-২০টি-উপকারিতা

এ পরিস্থিতিতে ডাক্তার ও পুষ্টিবিদরা আবার দেশের শাকসবজি খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। এমন একটি উপকারী কিন্তু অবহেলিত শাক হলো আমরুল শাক। সহজে পাওয়া যায় খরচ কম যার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ ও ঔষধি উপকারিতা। তাই অনেক মানুষ এমন স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত আমরুল শাক খেতে শুরু করেছেন।

পেজ সূচিপত্রঃ আমরুল শাক খাওয়ার ২০টি উপকারিতা ও অপকারিতা

আমরুল শাক খাওয়ার ২০টি উপকারিতা সম্পর্কে

আমরুল শাক গ্রাম বাংলার একটি পরিচিতি একটি গাছ। এ গাছ সম্পর্কে কয়জন বা জানে। কিন্তু আমরা প্রতিদিন রাস্তা দিয়ে হাঁটলে এসব গাছগুলো দেখতে পায়। কিন্তু কয়জন বা খেয়াল করে দেখে যে এ গাছগুলো আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকার। আমারও অনেকে চিনে কিন্তু নাম জানে না।আমরুল শাকের যে পুষ্টিগুণগুলো রয়েছে তা আমি অনেক দেহের জন্য অধিক কার্যকর।আমরুল শাক খাওয়ার ২০টি উপকারিতা রয়েছে চলুন তা জেনে নিন।

  • জ্বরও ঠান্ডা কমাতেঃ আমরা প্রায় সকলে কয়দিন পরপর জ্বরও ঠান্ডা তে আক্রান্ত হয়। এ জ্বর ও ঠান্ডা কমাতে আমরুল শাক হতে পারে প্রাকৃতিক সমাধান।আমরুল পাতার প্রাকৃতিক জ্বর নাশক হিসাবে কাজ করে। সাধারণত ২-৩ চামচ রস হালকা গরম করে দিনে ২-৩ বার খেলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ থাকে এবং দুর্বলতা কমে। বিশেষ করে সর্দি জ্বরের সময় এটি শ্রমিকের দ্রুত শক্তি দেয়।
  • কাশি ও সর্দিতেঃ প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের অনেক সময় বুকে সর্দি বা কাশি জমে থাকে। যার কারণে শিশু বা বয়স্কদের ঠান্ডা লাগলে অতিরিক্ত কাশি হয়। এই কাশি কমাতে আমরুল পাতার রস ব্যবহার করা যায়। ১ চা চামচ গরম করে দিনে ১-২ বার খাওয়ানো যায়। প্রয়োজনে সরিষার তেলের সাথে মিশিয়ে বুকে ও পিঠে হালকা মালিশ করলে আরো দুটো আরাম পাওয়া যায়।
  • পাতলা পায়খানার সমস্যাঃআমরুল শাক বা পাতা রস অল্প চিনি মিশিয়ে খেলে পাতলা পায়খানা জনিত অস্বস্তি ও তৃষ্ণা কমে। এক চা চামচ রস এবং চিনি ১/২ চা চামচ পানি দিয়ে মিশিয়ে দিনে দুইবার খেলে হজম শক্তি বাড়ে এবং পিপাসা কমে।
  • দীর্ঘমেয়াদী আমাশায় রোগঃ অনেকের আছে দীর্ঘ মিয়াদি আমাশয় রোগ। যা সহজে ভালো হতে চাই না দুদিন পর পর হতে থাকে এ সমস্যা। এ সমস্যার আপনি সমাধান পাবে এই আমরুল শাক বা পাতা খেলে। পুরাতন আমাশয় সমস্যা থাকলে ২-৩ পাতা আমরুল সিদ্ধ করে এক কাপ দুধের সঙ্গে খাওয়া যেতে পারে। দিনে ২-৩ বার খেলে দীর্ঘমেয়াদি অস্বস্তি অনেকটাই কম হয়।
  • ক্ষুধা বৃদ্ধি ও হজম শক্তিঃ যাদের খাওয়ার অরুচি বা হজম শক্তি ঠিক ভাবে হয় না তাদের জন্য আমরুল শাক হতে পারে প্রাকৃতিক ওষুধ। রান্না করা আমরুল শাক খেলে ক্ষুধা বৃদ্ধি পায় এবং হজম শক্তি বাড়ে। সাধারণত ১-২ বাটি  শাক প্রতিদিন খাবারের সাথে খাওয়া যায়।
  • ফোড়া ও স্থানীয় ব্যথাঃ যদি শরীরে কোন স্থানে ফোড়া বা ব্যথা হয় তাহলে আমরুল পাতা পেস্ট তৈরি করে ১০-১৫ মিনিট আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে রাখলে ব্যথা কমে এবং ফোড়া দ্রুত ফেটে যায়। প্রয়োজন মতে দিনে ২-৩ বার ব্যবহার করা যায়।
  • বিচ্ছু কামড়ানোর জ্বালাঃ অনেক সময় রাস্তার পথে হাটতে যেয়ে বিচ্ছু বা পোকা মা করে কামড়ায়। বিচ্ছু কামড় বা ক্ষতস্থলে আমরুল পাতার রস ব্যবহার করলে জ্বালা ও ব্যথা কম হয়। ২-৩ ফোটা রস ক্ষতস্থলে লাগে হালকা ঘষা দিতে হবে।
  • মুখের দুর্গন্ধ ও দাঁতের পরিচর্যাঃ অনেকের আছে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয় না। যার কারণে তাকে অনেকে অবহেলা করে। আমার কেউ দাঁতের পরিচর্যা জন্য আমরুল গাছের পাতা ব্যবহার করতে পারে। মুখের দুর্গন্ধ কমাতে ও দাঁত সুস্থ রাখতে আমরুল শাক বা পাতার রস ব্যবহার করা যায়। দিনে ১-২ বার এক চা চামচ রস মুখে ব্যবহার করলে দাঁতের ক্ষয় রোধ হয় এবং মুখের দুর্গন্ধ কমে
  • অম্লপিত্ত নিয়ন্ত্রণঃ যারা টক খাবার খেতে ভালোবাসেন কিন্তু অম্লতা বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয় তাদের জন্য আমরুল শাক উপকারী। এতে অম্ল মধু ও কষায় সমন্বয় আছে। খাবারের সাথে ১-২ বাটি রান্না করা শাক বা ১-২ চা চামচ রস খেলে অম্লপিত্ত বাড়ে না।
  • ত্বকের চুলকানি ও দাদ এর প্রতিকারঃ ত্বকের চুলকানি বা দাদ জাতীয় সমস্যা হলে আমরুল পাতার রস বা পেস্ট ব্যবহার করা যায়। আক্রান্ত স্থানে ১০-১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখলে আরাম পাওয়া যায়। প্রয়োজনে দিনে ১-২ বার ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • মূত্র গ্রহণের সমস্যাঃ যাদের প্রসবের সমস্যা রয়েছে ঠিকভাবে হয় না তাদের জন্য আমরুল শাক বা পাতা প্রাকৃতিক সমাধান। আমরুল পাতা রস ২ দুই চা চামচ আধা কাপ পানি দিয়ে মিশিয়ে দিলে ৪ খাওয়ালে অসুবিধা অনেকটা কমে যায়।
  • রক্ত সুস্থ রাখেঃ কাঁচা বা রান্না করে আমরুল শাক নিয়মিত খেলে রক্ত হালকা হয় এবং হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি পায়। ১-২ প্রতিদিন খাওয়া যায়।
  • মেধা ও মনোযোগ বৃদ্ধিঃ শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মেধা ও মনোযোগ বাড়াতে এক বাটি রান্না করা ছাপ বা এক চা চামচ রস খেতে পারেন। নির্মিত ব্যবহারের স্মৃতিশক্তি ও ফোকাস উন্নতি হয়।
  • লিভারের সুস্থতাঃ আমাদের সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই আমাদের লিভারের সুস্থতার প্রয়োজন রয়েছে। লিভারের কার্যকারিতা বাড়াতে ১-২ চামচ পাতা রস হালকা গরম করে দিনে ১-২ বার খাওয়া যায় এটি লিভারের ডক্সিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • কিডনি স্বাস্থ্যঃ বর্তমানে পরিস্থিতিতে মানুষের কিডনি সমস্যার বেশি ভুগছে। তাই আমাদের কিডনি সুস্থ রাখা প্রয়োজন। কিডনির সুস্থতার জন্য ১-২ চামচ রস বা পাতার কুড়ি দিনে ১-২ বার খাওয়া যায়। নিয়মিত ব্যবহারে কিডনির কার্যকারিতা বজায় থাকে।
  • হৃদরোগ প্রতিরোধঃ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ও হার্টের স্বাস্থ্য রক্ষায় ১-২ বাটি রান্না করা শাক প্রতিদিন খাওয়া যেতে পারে।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণঃ ওজন নিয়ন্ত্রণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কারণ অতিরিক্ত ওজন মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণ। ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে ১ বাটি রান্না করা শাক প্রতিদিন খাবারে সাথে খাওয়া যেতে পারে।
  • চোখের স্বাস্থ্য রক্ষাঃ চোখের জন্য ভিটামিন এ বৃদ্ধি করতে ১ বাটি শাক বা ১ চা চামচ রস খাওয়া যেতে পারে। নিয়মিত ব্যবহারের চোখে স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
  • ইমিউনিটি বৃদ্ধিঃ মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ইমিউনিটি বৃদ্ধি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বৃদ্ধি করা। ইমিউনিটি বাড়াতে ১-২ বাটি শাক বা ১-২ চামচ রস নিয়মিত খাওয়া যায়। এটি শরীরকে বিভিন্ন রোগবালায় থেকে রক্ষা করে।
  • ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিঃ বর্তমানে ছেলে ও মেয়েরা ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য বিভিন্ন কেমিক্যালযুক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহার করছে। কিন্তু ত্বক উজ্জ্বল রাখতে এবং রুক্ষতা কমাতে আমরুল শাকের রস ব্যবহার করা যায়। প্রয়োজনমতো পেস্ট বানিয়ে ত্বকে লাগিয়ে রাখলে ত্বক নরম ও কোমল হয়।

অতিরিক্ত আমরুল শাক খেলে স্বাস্থ্যের অপকারিতা

আমরুল শাক খাওয়ার ২০টি উপকারিতা উপরে জানলাম।আমরুল শাক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। তবে যে কোন খাবারের মতো এটি পরিমতে ভাবে খাওয়া জরুরি। অনেকে স্বাস্থ্য উপকারে আসায় অতিরক্ত খায়। কিন্তু অতিরক্ত গ্রহণের শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে শিশু বয়স্ক ও রোগ প্রবণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সতর্কতার প্রয়োজন। আমরা জানবো অতিরিক্ত আমরুল শাক খাওয়ার অপকারিতা গুলো।

আরো পড়ুনঃ যৌবন ধরে রাখতে থানকুনি পাতার উপকারিতা

  • অতিরিক্ত টক স্বাদের কারনে পেটে জ্বালা বা এসিডিটি হতে পারে।
  • অধিক পরিমাণে খেলে হজম ধীর হয়ে যেতে পারে এবং গ্যাস বা বদহজম হতে পারে।
  • যাদের কিডনির সমস্যা আছে তারা বেশি আমরুল শাক খেলে ক্যালসিয়াম ও অক্সালেটের কারণে ক্ষতি হতে পারে।
  • অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে পেটে ব্যথা অস্বস্তি বা গ্যাস্ট্রিকের দেখা দিতে পারে।
  • খুব বেশি আমরুল শাক খেলে রক্তের চাপ কমে যেতে পারে বিশেষ করে যারা হাইপোটেশন রোগে ভোগে।
  • কিছু মানুষ আমরুল শাক এলার্জিক প্রতিক্রিয়া দেখতে পারে বিশেষ করে যারা নতুন ভাবে খাচ্ছে।

আমরুল শাকের পরিচিত

আমরুল শাক হলো একটি ছোট শুরু এবং লতানো উদ্ভিদ যা মাটিতে বা বাড়ির আনাচে-কানাচে সহজে বেড়ে ওঠে। আবার অনেক সময় জমিতে বাড়ির সামনে রাস্তার ধারে দেখতে পাওয়া যায় আমরুল গাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Oxalis corniclata এবং এটি Oxalidaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত. স্থানীয়ভাবে একে বিভিন্ন নামে চেনা যায় যেমন আমরুল, আমবলি,চুকাত্রিপাটি।

পাতাগুলি হৃদপিন্ডের মতো তিনটি পত্রকযুক্ত যা ছাতার মাথায় গজায়। এর পাতাগুলো দেখতে অনেকটা লাভের মত। শিকর থেকে গুচ্ছ বদ্ধ ভাবে ৪-৫ একটি ডাটা বা দন্ড বের হয় যার মাথায় ছোট ছোট হলুদ বা কখনো গোলাপী রঙের ফুল ফোটে। ফুল সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাসে দেখা যায়। ফুলের আকারে জবের মতো লম্বা ও সরু। যার প্রতিটিতে ফলকোস অসংখ্যা ছোট বীজ থাকে।

আমরুল শাক মাটিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বাড়ির ছাদে ভাঙ্গা দেওয়ালে বা খোলা জমিতে সহজে এ গাছ দ্রুত জন্মায়। অনেক সময় নতুনদের জন্য এটি সুষণী শাকের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায় তবে পার্থক্য হল সুষণী শাকের পাতায় চারটি পত্রক থাকে এবং এটি টক স্বাদের নয়।

আমরুল শাক ১৫ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়।২/৩ ইঞ্চি ডগার ওপর ফুল ফোটে। ছোট আকৃতির সরলতানো গাছ হওয়ায় এবং সহজে ছড়িয়ে পড়ার কারণে আমরুল আমরুল শাক চেনা সহজ। এর পাতার আকৃতি ও ফুলের রং দেখে সহজে এটা অন্যান্য উদ্ভিদ থেকে আলাদা করা যায়।

আমরুল শাকের উৎপত্তি মূলত দক্ষিণ এশিয়ায়। বাংলাদেশ-ভারত ও নেপালের দাম অঞ্চলে এটি প্রাকৃতিকভাবে বেশি দেখা যায়।আমরুল শাকটি দেখতে ছোট ও সবুজ রঙের পাতাযুক্ত। পাতাগুলো হালকা ঝাপসা সবুজ এবং স্বাদের টক। এটি স্বাস্থ্যকর ও ঔষধি উপাদান সমৃদ্ধ হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে দেশী ওষুধের ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

আমরুল শাকের পুষ্টিগুণ ও উপাদান

আমরুল শাক প্রাকৃতিকভাবে পুষ্টিতে ভরপুর একটি দেশি শাক। গ্রাম মানুষ বহু প্রজন্ম ধরে এ শাক খেয়ে সুস্থ থাকে। এটি সহজে পাওয়া যায় এর জন্য কোন টাকা খরচ হয় না। কারণ এটি বাড়ির আঙিনায় বা রাস্তাঘাটে এমনিতেই জন্মে। তাই এটা কেনার জন্য আলাদা টাকা খরচের প্রয়োজন নাই। শাকটি শুধু খাবারের স্বাদ নয় বরং পুষ্টিগুণ ওষুধের দিক দিয়ে সমৃদ্ধ। এই পুষ্টিগুলো শরীরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে। পুষ্টিগুণ উপাদানগুলো হল।

  • ভিটামিন সি
  • আয়রন
  • ফাইবার
  • অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট
  • খনিজ উপাদান
  • কম ক্যালরি
  • ক্যালসিয়াম

আমরুল শাক খাওয়ার নিয়ম

আমরুল শাক বিভিন্নভাবে খাওয়া যায়। যে যেভাবে খেতে পছন্দ করে সেভাবে খেতে পারবে। তবে এর পরিমাণ টা সঠিক রাখা প্রয়োজন। কারণ সঠিকভাবে না খেলে আবার স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে।আমরুল শাক খাওয়ার নিয়ম হলো।

আরো পড়ুনঃ সজনে পাতা খাওয়ার নিয়ম

  • ভাজি করে
  • ডাল বা ঝোলের সাথে
  • ভর্তা বানিয়ে
  • অন্যান্য শাকের সাথে মিশিয়ে
  • সপ্তাহে ২-৩ দিন পরিমাণ মতন খাওয়ায় যথেষ্ট।

চিকিৎসকদের মতামত আমরুল শাক খাওয়া নিয়ে

পুষ্টিবিদ্যা মনে করেন প্রাকৃতিক ও দেশি শাক যেমন আমরুল শাক স্বাস্থ্য রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলেছেন ভেষজ উদ্ভিদগুলো নিয়মিত খাদ্য যোগ করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।আমরুল শাক থাকা ভিটামিন খনিজ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষ সুস্থ রাখে। চিকিৎসা করা আরো বলেন এগুলো ও ওষুধের বিকল্প নয় তবে স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে। যাদের কিডনি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে তারা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া উচিত।

FAQ: প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্নঃ কোন ধরনের মানুষের নিয়মিত আমরুল শাক খাওয়া উচিত?

উত্তরঃ শিশু, নারী ও বয়স্করা নিয়মিত বা পরিমান মত আমরুল শাক খেলে শরীরে দুর্বলতা কমায় এবং পুষ্টিযোগ করতে পারে। যারা হজম বা রক্তস্বল্পতায় সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য এটি বিশেষভাবে  উপকারী।

প্রশ্নঃ কোন ব্যক্তি আমরুল শাক খাওয়া থেকে বিরত থাকবে এবং কেন?

উত্তরঃ যাদের স্বাস্থ্যের সমস্যা দীর্ঘমেয়াদী, কিডনি অতিরক্ত গ্যাস আছে তাদের ক্ষেত্রেআমরুল শাক না খাওয়াই ভালো। অতিরিক্ত গ্রহণের পেটের ব্যথা হজমে অসুবিধা বা অন্যান্য অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

প্রশ্নঃ চিকিৎসকরা ভেষজ শাক খাওয়ার ক্ষেত্রে কি মত দেন?

উত্তরঃ চিকিৎসাকরা বলেন ভেষজ শাক নিয়মিত খাওয়া শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে পুষ্টিতে এবং বিভিন্ন সমস্যা থেকে স্বাস্থকে রক্ষা করে। বিশেষ করে যাদের কিডনি বা অম্লতার সমস্যা আছে তাদের ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়া উচিত।

প্রশ্নঃ পুষ্টিবিদরা আমরুল শাকের ব্যবহার সম্পর্কে কি পরামর্শ দেন?

উত্তরঃ পুষ্টিবিদরা বলেছেন আমরুল শাক নিয়মিত খাদ্যের তালিকায় রাখলে শরীরের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এটা বদহজম থেকে স্বাস্থ্যকে রক্ষা করে এবং শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী।

প্রশ্নঃআমরুল শাক এর মধ্যে কোন ধরনের খনিজ উপাদান বেশি থাকে?

উত্তরঃআমরুল শাক ক্যালসিয়াম পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম এর মত খনিজ উপাদান বেশি থাকে। এ উপাদানগুলো হার ও দন্তের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

লেখকের মন্তব্যআমরুল শাক খাওয়ার ২০টি উপকারিতা ও অপকারিতা

আমরুল শাক একটি সহজলভ্য কিন্তু অত্যন্ত পুষ্টিকর দেশে শাক। আধুনিক ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেক সময় প্রাকৃতিক খাবার ভুলে যাই যার ফলে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দেয়। নিয়মিত ও পরিমাণ সঠিক রেখে আমরুল শাক খেলে শরীরের সুস্থ রাখা সম্ভব। তাই স্বাস্থ্য সচেতন জীবনের অংশ হিসেবে খাদ্য তালিকায় আমরুল শাক যোগ করা হতে পারে একটা ভালো সিদ্ধান্ত।আমরুল শাক খাওয়ার ২০টি উপকারিতা উপরে আলোচনা করেছি। এবং অতিরিক্ত খেলে স্বাস্থ্যের কি ক্ষতি হয় তা জানানো হয়েছে। তাই আসল সুস্থ থাকতে প্রতিদিন খাবারের তালিকায় পুষ্টিকর শাক ও স্বাস্থ্যকর খাবার রাখার চেষ্টা করি। ধন্যবাদ

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সামিজা৪২ কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url