রমজান মাসে রোজা রাখার ফজিলত এবং গুরুত্ব
রমজান মাসে রোজা রাখার ফজিলত এবং গুরুত্ব সম্পর্কে জানব। রমজান মাস মুসলমানদের জন্য রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস। এই মাসে মহান আল্লাহ তা'আলা মানবজাতির হেদায়েতের জন্য পবিত্র কোরআন নাজিল করেছে।
রমজানের প্রধান ইবাদত হল রোজা। যা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম। রোজা শুধু ক্ষুধা, তৃষ্ণা সহ্য করার নাম নয়। রোজা হচ্ছে একটি আত্ম সংযম তাকওয়াত ও চরিত্র গঠনের এক প্রশিক্ষণ। তাই রমজান মাসে রোজা রাখার ফজিলত ও গুরুত্ব অপরিসীম।পেজ সূচিপত্রঃ রমজান মাসে রোজা রাখার ফজিলত এবং গুরুত্ব
- রমজান মাসে রোজা রাখার ফজিলত
- রোজা কি ও কেন ফরজ
- হাদিসের আলোকে রোজার মর্যাদা
- রোজার মাধ্যমে তাকওয়া অর্জনের গুরুত্ব
- রোজা সামাজিক ও নৈতিক গুরুত্ব
- রোজার মাধ্যমে আত্মিক ও চারিত্রিক প্রভাব
- রোজা ভঙ্গ না করে সওয়াব অর্জনের উপায়
- FAQ: প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর
- লেখকের মন্তব্য রমজান মাসে রোজা রাখার ফজিলত এবং গুরুত্ব
রমজান মাসে রোজা রাখার ফজিলত
সামনে আসছে পবিত্র রমজান মাস। এ মাসে নিজেদের গুনাহ ক্ষমা চাওয়ার একটি সুযোগ আল্লাহর কাছে। এটি এমন মাস যখন আল্লাহ তাআলা তার বান্দার উপর বিশেষভাবে দয়া ও রহমত নাযিল করেন। একজন মুমিন সারা বছর ধরে অপেক্ষা করেন এ রমজান মাসের জন্য। এ মাসে আল্লাহ পক্ষ থেকে রহমত বরকত গুনাহ মাফের অশেষ সুযোগ পাওয়া যায়। এই মাসে রোজা রাখা শুধু ফরজ ইবাদত নয় বরং এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম।
- রোজা রাখলে বান্দায় এমন কিছু বিশেষ পুরস্কার লাভ করে যা অন্য কোন ইবাদতে এভাবে পাওয়া যায় না। তাই রমজান মাসে রোজা রাখার ফজিলত জানা আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আসুন নিচে জেনে নিন রমজান মাসে রোজা রাখার ফজিলত, পুরস্কার এবং গুরুত্ব সম্পর্কে।
- আল্লাহ নিজ হাতে রোজাদারকে পুরস্কার দেনঃ রোজা সবচেয়ে বড় ফজিলত হলো এর প্রতিদান আল্লাহ নিজে দেন। হাদিসে আল্লাহু তা'আলা বলেছেন রোজা শুধু আমার জন্য এবং আমি এর পুরস্কার দেব। কারণ রোজা এমন একটি ইবাদত যা বান্দা এখান থেকে গোপনে আল্লাহর জন্য করে। কেউ না দেখলে না খেয়ে থাকে এবং হারাম কাজ থেকে দূরে থাকে। এই আন্তরিকতা আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি খুশি করে।
- রোজার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনঃ রমজান মাসে রোজা রাখলে আল্লাহ বান্দার উপর বিশেষভাবে সন্তুষ্ট হন। আল্লাহ এমন বান্দাকে ভালোবাসেন যে নিজের চাহিদাকে দমন করে আল্লাহর আদেশ পালন করে।
- রোজা পূর্বে গুনাহ মাফের কারণঃ রমজান মাসের ঈমান ও সওয়াবের আশায় রোজা রাখলে আল্লাহ বান্দার আগের ছোট গুনাহ গুলো ক্ষমা করে দেন। প্রতিটি রোজা যেন একটি নতুন শুরু যেখানে অতীতের ভুলগুলো মুছে ফেলা সুযোগ পাওয়া যায়। এ ক্ষমার সুযোগই রোজার এক বড় ফজিলত।
- রোজা বান্দাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করেঃ রোজা মানুষের জন্য রক্ষাকবজের মতো কাজ করে। যেমন ঢাল মানুষকে আঘাত থেকে রক্ষা করে তেমনি রোজা বান্দাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে। নিয়মিত আন্তরিকভাবে রোজা রাখলে আল্লাহর বান্দাকে কঠিন শাস্তি থেকে নিরাপদে রাখে।
- রোজাদারের দোয়া আল্লাহ ফিরিয়ে দেন নাঃ রোজা রাখা অবস্থায় বান্দার দোয়া বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। বিশেষ করে ইফতারের আগ মুহূর্তে রোজাদারের দোয়া আল্লাহ সহজে কবুল করেন। এ সময় বান্দা যা আল্লাহ তা গুরুত্ব সহকারে শুনেন। এটি রোজাদারের জন্য এক বিশেষ পুরস্কার।
- রোজাদারের জন্য জান্নাতের বিশেষ দরজাঃ রোজা রাখার কারণে জান্নাতের একটি বিশেষ দরজা রয়েছে যার নাম রাইয়্যান।কিয়ামতের দিনে শুধু রোজাদারেরা সেই দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এই সম্মান আল্লাহ শুধু রোজাদারদের জন্য রেখেছেন।
- রোজা বান্দার বৃদ্ধি মর্যাদা করেঃ রোজা বান্দার অন্তরের অবস্থা পরিবর্তন করে দেয়। আল্লাহ রোজাদারকে ফেরেশতাদের কাছে সম্মানিত করে। মানুষের চোখের সাধন হলো আল্লাহর কাছে রোজাদার অত্যন্ত মর্যাদাবান হয়ে ওঠে।
- রোজা আল্লাহর কাছে প্রিয় ইবাদত একটিঃ রোজা এমন একটি ইবাদত যার মধ্যে কোন লোকদেখানো ভাব থাকে না। এজন্য আল্লাহ রোজাকে বিশেষভাবে পছন্দ করেন। বান্দা যখন শুধু আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য না খেয়ে থাকে তখন আল্লাহ তার প্রতি বিশেষভাবে খুশি হন।
- রোজা বান্দাকে ধৈর্যশীল ও শক্ত মুমিন বানায়ঃ রোজা মানুষকে ধৈর্য করতে শেখায়। একজন মানুষ যখন সারাদিন ক্ষুদা ও তৃষ্ণা কষ্ট সহ্য করে থাকে তখন তার ঈমান শক্ত হয়। আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে দুই জায়গায় দিয়ে থাকেন।
রোজা কি ও কেন ফরজ
রোজা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পানাহার,
স্ত্রী সহবাস ও রোজা ভঙ্গকারী কাছ থেকে বিরত থাকা। এটা কেবল না খেয়ে থাকার নাম
নয় বরং নিজের নফস ও ইচ্ছাকে আল্লাহর আদেশে অধীন করে দেয়ার একটি ইবাদত।
প্রকাশ্যে নয় গোপনে আল্লাহর জন্য পালন করে। এই কারণে এর গুরুত্ব অন্য ইবাদতের
চেয়ে আলাদা। রমজান মাসে রোজা ফরজ হওয়ার মূল কারণ আল্লাহর স্পষ্ট নির্দেশ।
কুরআনে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন যে ঈমানদারদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে যাতে তারা
তাকওয়া অর্জন করতে পারে।
অর্থাৎ রোজার প্রধান উদ্দেশ্য হল আল্লাহ ভীতি সৃষ্টি করা, পাপ থেকে দূরে রাখা এবং
মানুষের চরিত্র কে পরিশুদ্ধ করা। এই তাকওয়াই একজন মুমিনের জীবনে আসল সম্পদ।
হাদিস থেকে জানা যায়, রোজা ইসলামের একটি মৌলিক স্তম্ভ। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) রোজা
কে এমন একটি ইবাদত হিসাবে উল্লেখ্য করেছেন যার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর রহমত
বা কাছাকাছি যাওয়া লাভ করে। রোজা ফরজ করা হয়েছে যেন মানুষ আল্লাহর আদেশ মানার
বাস্তব প্রশিক্ষণ নিতে পারে। যেমন ক্ষুদা ও তৃষ্ণার মাঝে হারাম থেকে দূরে থাকতে
পারে।
আরো পড়ুনঃ নামাজ না পড়া শাস্তি ইসলাম অনুযায়ী
সব মিলিয়ে বলা যায় রোজা খরচ করা হয়েছে শুধু কষ্ট দেয়ার জন্য নয়
বরং মানুষের আত্মাকে শুদ্ধ করা, তাকওয়া তৈরি করা এবং আল্লাহর
সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। রমজান মাসে রোজা রাখলে বান্দা তার সকল করা গুনাহ ও সামনে
গুনাহ করা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারবে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা পাওয়ার
সুযোগ পাবে। এর জন্য রমজান মাসে রোজা ইসলামের এত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য।
হাদিসের আলোকে রোজার মর্যাদা
হাদিসে রোজার মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ হিসাবে বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ)
বলেছেন আল্লাহ তাআলা নিজেই ঘোষণা করেছেন রোজা শুধু আমার জন্য আর আমি এর প্রতিদান
দেব। এর মাধ্যমে বোঝা যায় রোজা এমন একটি ইবাদত যা বান্দা একান্ত ভাবে আল্লাহর
জন্য পালন করে। এ গোপন ইবাদতের কারণে আল্লাহ রোজাকে বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা
দিয়েছেন। আর এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) রোজাকে মুমিনের জন্য ঢাল হিসেবে
উল্লেখ করেছেন।
হাদিস আরও এসেছে রোজাদারের মুখে দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের সুগন্ধর চেয়ে
প্রিয়। মানুষের কাছে অপছন্দনীয় আল্লাহর কাছে তার সম্মানের কারণ হয়ে যায়। এটি
রোজার মর্যাদার এক অসাধারণ দিক। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন রোজাদারের জন্য দুটি
আনন্দ রয়েছে একটি ইফতারের সময় এবং আরেকটি আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের সময়। এই
হাদিসে রোজাদারের দুনিয়া ও আখেরাতে দুই জীবনের সম্মানকে তুলে ধরে।
রমজান মাসে রোজা রাখা আল্লাহর কাছে একটি গোপন ইবাদত। গোপনে আল্লাহকে ডাকা, চোখ
দিয়ে পানি ঝরা, খাবার না খাওয়া এসব। আল্লাহর ভয় মানুষ সারাদিন না খেয়ে থাকে।
কেউ না দেখলেও আল্লাহ দেখতে পায় তার বান্দার কষ্টগুলো। তাই হাদিসের আলোকে রোজার
মর্যাদা অনেক। সব মিলে হাদিসের আলোকে স্পষ্ট হয় যে ইসলামের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ
ইবাদত হল রোজা। এটি আল্লাহর নৈকট্য, গুনাহ থেকে রক্ষা এবং জান্নাত লাভের এক
শক্তিশালী মাধ্যম।
রোজার মাধ্যমে তাকওয়া অর্জনের গুরুত্ব
রোজা ফরজ হওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন। কুরআনে আল্লাহ স্পষ্টভাবে
জানিয়েছে যে রোজা ফরজ করা হয়েছে যাতে মানুষ তাকওয়াবান হতে পারে। তাকওয়া মানে
শুধু আল্লাহকে ভয় করা নাই বরং প্রকাশ্যে ও গোপনে আল্লাহর আদেশ মেনে চলা এবং পাপ
থেকে নিজেকে রক্ষা করা। রোজার মাধ্যমে মানুষের চারিত্রিক ও তাকওয়া অর্জনের
প্রশিক্ষণ দেয়। রোজা মানুষকে নিজের চাহিদাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়।
ক্ষুধা ও তৃষ্ণা মত বৈধ চাহিদাও যখন আল্লাহর হুকুমে ছেড়ে দেওয়া হয় তখন হারাম
থেকে দূরে থাকা সহজ হয়ে যায়।
কেউ যদি গোপনে রোজা ভেঙ্গে ফেলতে চাই তবুও আল্লাহকে ভয় করে তা থেকে বিরত থাকে।
আর এটাই হচ্ছে তাকওয়া। এখানে তাকওয়ার বাস্তব প্রকাশ ঘটে। রোজা তাকওয়াতকে শুধু
অন্তরে নয় আচরণও প্রকাশ হয়। রোজাদারেরা মিথ্যা, গীবত, ঝগড়া ও অন্যায় কাজ থেকে
নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করে। এতে চরিত্র শুদ্ধ হয় এবং আল্লাহর রহমত অর্জন সহজ
হয়। কারণ তাকওয়াবান ব্যক্তিকে আল্লাহ সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে।
রোজা ছাড়া তাকওয়া অর্জনের শিক্ষা এতে গভীরভাবে আর কোন ইবাদতে পাওয়া যায় না।
রমজান মাসে প্রতিটি রোজা মানুষকে আল্লাহ ভীরু, সংযমী ও দায়িত্বশীল মুমিন হিসেবে
গড়ে তোলে আর এটাই রোজা সবচেয়ে বড় গুরুত্ব। রোজা মানুষকে দিক আচরণ ও
চরিত্র দিক থেকেও সুন্দর করে তুলে। রোজা মানুষকে ধৈর্যশীল করে। রোজা মানুষের রাগ
নিয়ন্ত্রণের সহায়ক হয়। তাই রমজান মাসে রোজা রাখা এর মাধ্যমে তাকওয়া
অর্জন করা এবং আল্লাহ রহমত লাভ করা।
রোজা সামাজিক ও নৈতিক গুরুত্ব
রোজা শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত নয় বরং এর গভীর সামাজিক ও নৈতিক প্রভাব রয়েছে। রোজা
রাখার মাধ্যমে মানুষের ক্ষুধা ও তৃষ্ণা কষ্ট অনুভব করে যা তাকে দরিদ্র ও অসহায়
মানুষের অবস্থান বুঝতে সাহায্য করে। এর ফলে মানুষের অন্তরে সহানুভূতি, দয়া
ও মানবিকতার অনুভূতি তৈরি হয়। যা সমাজে পারস্পারিক সহযোগিতা বাড়ায়। রোজা
মানুষের নৈতিক চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রোজাদার মানুষকে খাবার নয়,
মিথ্যা কথা, গীবত করা, খারাপ কাজ করা, অন্যায় করা এবং ঝগড়া করা থেকে দূরে রাখে।
যখন একজন মানুষ নিজেকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে শিখে তখন সে সমাজের জন্য নিরাপদ ও
কল্যাণকর ব্যক্তি হয়ে ওঠে।
রমজান মাসে রোজার কারণে দান সাদকা, যাকাত ও সাহায্যের মনোভাব বৃদ্ধি পায়। ধনী
গরিবের মধ্যে দূরত্ব কমে এবং সমাজে ভাতৃত্ব ও একতা গড়ে ওঠে। সবাই একসঙ্গে সাহরি
ও ইফতারের মাধ্যমে মিলিত হওয়ার সামাজিক বন্ধন আরো দৃঢ় হয়। সব মিলে রোজা
মানুষকে আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে বের করে সমাজ মুখী করে তোলে। এটাই এমন একটি ইবাদত
যার ব্যক্তিকে নৈতিকভাবে শুদ্ধ করে এবং সমাজকে আরো মানবিক ও শান্ত পূর্ণ করে গড়ে
তোলে।
রোজার মাধ্যমে আত্মিক ও চারিত্রিক প্রভাব
রোজা মানুষের আত্মার উপর গভীর প্রভাব ফেলে। রোজা রাখা সময় বান্দা সারা দিন
আল্লাহকে স্মরণ করে এবং প্রতিটি কাজ সচেতন থাকে এতে তার আত্মা পরিশুদ্ধ হয়।
গোপনে আল্লাহকে ভয় করে পাপ থেকে দূরে থাকার অভ্যাস তৈরি হয় যা আত্মিক উন্নতির
প্রধান লক্ষণ। এভাবে রোজার মানুষকে আল্লাহর কাছে যাওয়ার পথ তৈরি করে
নেই। রোজা চরিত্র গঠনের একটি কার্যকর প্রশিক্ষণ। ধৈর্য ও অভ্যাস জীবনের অন্য
ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে যেমন রাগ, হিংসা ও অহংকার কমে আসে। একজন রোজাদার ধীরে ধীরে
সংযমী ও ভারসাম্যপূর্ণ মানুষের পরিণত হয়।
রোজা মানুষের ভাষা ও আচরণকে শুদ্ধ করে। রোজাদার ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে এবং নিজেকে
গুনাহ থেকে রক্ষা করার জন্য সব কাজ সচেতন ভাবে করে। এতে তার সামাজিক আচরণ সুন্দর
হয় এবং সে অন্যের জন্য কষ্টের কারণ না হয়ে কল্যাণের উৎসে পরিণত হয়। এই
পরিবর্তনে রোজার চারিত্রিক প্রভাব বাস্তব প্রমাণ। রোজা মানুষকে শুধু সাময়িকভাবে
নয় স্থায়ীভাবে ভালো মানুষ হওয়ার পথে নিয়ে যায়। আত্মশুদ্ধি ও উন্নত চরিত্র
গঠনের জন্য রোজা এমন একটি ইবাদত যার প্রভাব রমজানের পরও মানুষের জীবনে রয়ে
যায়।
রোজা ভঙ্গ না করে সওয়াব অর্জনের উপায়
রোজার সওয়াব পূর্ণভাবে পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শুধু না খেয়ে থাকা নয়
বরং নিজের আচরণ, মনোভাব ও দৈনন্দিন কাজে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। একান্ত আল্লাহর
সন্তুষ্টি লক্ষ করে রোজা পালন করলে তা আল্লাহর কাছে কবুলযোগ্য হয়। এজন্য চোখ,
কান, জিহবা, হাত ও পা এইসব অঙ্গকে সংযমী রাখা জরুরী। মিথ্যা বলা, গীবত করা,
অন্যায় করা, আত্মসাৎ করা, আমানতের খেয়ানত করা এবং ঝগড়া বা অন্যের ক্ষতি করার
মত কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে।
আরো পড়ুনঃ
দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফজিলত
রোজা রাখার সময় কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া বৃদ্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইফতারের আগে বান্দরের দোয়া আল্লাহ সহজে কবুল করেন। পাশাপাশি নফল ইবাদত, সাদকা ও দারিদ্র থেকে মুক্তি পাওয়া জন্য দোয়া করা রোজা সওয়াব আরো বৃদ্ধি করে। নিয়মিত নামাজ, কুরআন পাঠ ও ভালো কাজের সঙ্গে রোজা পালন করলে আল্লাহর কাছে তা পূর্ণ সওয়াব হিসেবে ধরা হয়। এই নিয়মগুলো মানলে রোজাদার সর্ব দিক সওয়াব অর্জন করতে সক্ষম হয়।
FAQ: প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্নঃ রমজানের খুতবার ফজিলত কি কি?
উত্তরঃ রমজানের খুতবার ফজিলত হলো এটি মুমিনদের জন্য আল্লাহর বিধান, রোজা ও
ইবাদতের বিষয়ে শিক্ষা ও স্মরণ করানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। খুতবার
মাধ্যমে মানুষ রমজানের সঠিক গুরুত্ব, দুয়া, নফল ইবাদত এবং নৈতিক শিক্ষাগুলো
জানতে পারে। যার কারণে মানুষ আল্লাহর কাছে যাওয়ার সুযোগ পায়।
প্রশ্নঃ ইসলামের রোজা রাখার ফজিলত কি?
উত্তরঃ ইসলামী রোজা রাখার ফজিলত হলো আল্লাহকে সন্তুষ্টি করা, গুনাহ মাফ
হওয়া, তাকওয়া অর্জন করা এবং জান্নাতের বিশেষ পুরস্কার লাভ করা। রোজা মানুষকে
ধৈর্যশীল, সংযমী ও তাকওয়া সম্পূর্ণ মানুষ বানায়।
প্রশ্নঃ তিন সাদা রোজা রাখার সওয়াব কি?
উত্তরঃ তিন সাদা রোজা হল শাবান মাসে ত্রীয় রোজা। এগুলো রাখলে গুনাহ মাফ
হয় রমজানের জন্য প্রস্তুত হয় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সহজ হয়।
প্রশ্নঃ মাসে তিন দিন রোজা রাখার উপকারিতা কি?
উত্তরঃ মাসে তিন দিন রোজা রাখলে মানুষ আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও ভক্তি
বৃদ্ধি পায়। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন যে মাছের তিন দিন রোজা রাখে তার জন্য
পুরস্কার হিসেবে করা হয় সারা বছরের মত।
প্রশ্নঃ রোজা রাখার পাঁচটি উপকারিতা কি কি?
উত্তরঃ রোজা রাখার পাঁচটি উপকারিতা হলো রমজানে রোজা মানুষের হৃদয় আল্লাহ ভীরু
করে, মনকে পাপের আকর্ষণ থেকে রক্ষা করে, আত্মশক্তি ও মনোবল বৃদ্ধি করে, ধনীদের
মধ্যে দয়া ও দারিদ্র্যের প্রতি সহানুভূতি জাগায় এবং দুনিয়ার কষ্ট থেকে মুক্তি
পেতে সাহায্য করে।
লেখকের মন্তব্য রমজান মাসে রোজা রাখার ফজিলত এবং গুরুত্ব
রমজান মাসে রোজা রাখার ফজিলত ও গুরুত্ব ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। এই মাসে
আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অমূল্য উপহার। সামনে আসছে রমজান এই সুযোগ যেন আমরা অবহেলা
না করি। রোজার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করি গুনাহ মাফ করায় এবং নিজের
জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তুলি। আসুন সবাই মিলে রমজান মাসে নিজেদের ভুলের জন্য
ক্ষমা চায় এবং তওবা করে আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত এবং নাজাতের উসিলায় জীবনের
সমস্ত গুনাহ মাফ করে আল্লাহর কাছে ফিরে আসে ধন্যবাদ।

সামিজা৪২ কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url