আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার পাঁচটি উপায় ও আমল

আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার পাঁচটি উপায় ও আমল সম্পর্কে জানব। মানুষ তার জীবনে নানা সমস্যা, বিপদ, দুঃখ ও পরীক্ষার মুখোমুখি হয়।কখনো পারিবারিক সমস্যা, আর্থিক সংকট, অসুস্থতা আবার মানসিক অস্থিরতা এসব পরিস্থিতিতে মানুষ একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠেন আল্লাহ তাআলার।

আল্লাহর-সাহায্য-পাওয়ার-পাঁচটি-উপায়

আল্লাহ প্রকৃত সাহায্যকারী যিনি বান্দার কথা শুনেন ও উপযুক্ত সময় সাহায্য দান করেন।প্রতিটি মুমিনের জন্য জানা জরুরী আল্লাহ সাহায্যে কিভাবে চাইতে হয়।কোন আমল মাধ্যমে আল্লাহর রহমত লাভ করা যায়।কোরআন ও হাদিসের আলোকে আল্লাহ সাহায্য চাওয়ার পাঁচটি উপায় ও আমল বিস্তারিত জানবো।

পেজ সূচিপত্রঃ আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার পাঁচটি উপায় ও আমল

আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার পাঁচটি উপায় ও আমল

আল্লাহর সাহায্য আমাদের সকলেরই প্রয়োজন। আল্লাহর মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে তৈরি করেছে। আল্লাহ হচ্ছে আমাদের সাহায্যকর্তা। যিনি আমাদের সবসময় সাহায্য করে থাকেন। আল্লাহর ভালোবাসা পেতে হলে বা সাহায্য পেতে হলে অবশ্যই আমাদের কোরআন আলোকে জীবন গড়তে হবে। আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার জন্য আমাদের কিছু নিয়ম ফলো করতে হবে এবং তা পালন করাই লাগবে। কারণ এগুলো পালন করলে আমরা দুনিয়া ও আখেরাতে ভালো থাকবো। বিপদে আছেন, কোন কিছু দরকার, পাপ করেছেন ইত্যাদি এসব থেকে মুক্তি পেতে হলে এবং আল্লাহর রহমত লাভ করতে হলে অবশ্যই আমাদের কোরআন সম্পর্কে জানতে হবে এবং তা পালন করতে হবে। আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার পাঁচটি উপায় ও আমলগুলো আমরা নিচে এখন জানবো।

আন্তরিক দোয়া ও আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করা

আল্লাহর কাছে সাহায্য পাওয়ার বড় আমল হচ্ছে দোয়া এবং কান্নাকাটি করা। বেশি বেশি দুরুদ শরীফ পাঠ করা। অন্যায় কাজ করে থাকলে আস্তাগফিরুল্লাহ পাঠ করা। কারণ আল্লাহ কাছাকাছি যেতে হলে অবশ্যই আমাদের দোয়া করতে হবে। আল্লাহ সাহায্য পাওয়ার সবচেয়ে সহজ ও শক্তিশালী উপায় হল দোয়া। দোয়া মানে শুধু মুখে কথা বলা নয় মন থেকে বলা। যখন মানুষ নিজের সমস্যা বা অসহায় বুঝে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইবে তখন আল্লাহ সে ডাক সারা দেন। তবে দোয়া করার সময় অবশ্যই মন থেকে দোয়া করতে হবে এবং চোখের পানি ফেলে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করতে হবে। দোয়া মানুষকে হতাশা থেকে বাঁচায় এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে শেখায়। আল্লাহর সাহায্য পেতে হলে অবশ্যই আমাদের দোয়া  অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

ধৈর্যধারণ ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়া

আমরা প্রায় মানুষ সমস্যায় থাকি। সমস্যায় থাকলে মানুষ অধৈর্য হয়ে পড়ে। সমস্যা বা বিপদ যেটাই পড়েন না কেন অবশ্যই ধৈর্য ধারণ করতে হবে। বিপদে যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণ করে আল্লাহ তাকে অনেক পছন্দ করে। ধৈর্য মানুষকে অনেক সময় অনেক বিপদ থেকে রক্ষা করে। তাই বিপদে আছেন আল্লাহকে ডাকুন এবং ধৈর্য ধারণ করুন। এ ধৈর্যের বিনিময়ে আপনাকে আল্লাহ কষ্ট থেকে মুক্তি দিবেন। আমাদের সব থেকে ইবাদতের মধ্যে মূল্যবান ইবাদত হচ্ছে নামাজ পড়া। কারণ নামাজ পড়বে আপনাকে সকল গুনাহ থেকে দূরে রাখতে।

অনেক বড় বিপদে আছেন আপনি নামাজে মাধ্যমে আল্লাহর সাথে সরাসরি কথা বলতে পারবেন এবং আপনার বিপদ থেকে উদ্ধার করার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া চাইবেন। কারণ নামাজের ভিতর দিয়ে আপনি আল্লাহর সাথে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পান। তাই সকল বিপদ থেকে উদ্ধার পেতে হলে ধৈর্য ধারণ করুন এবং সময় মত নামাজ আদায় করুন। নামাজের ভিতর দিয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে পারবেন। কারণ ধৈর্য ও নামাজ আপনি যদি সঠিকভাবে পালন করেন তাহলে দুনিয়াতে শান্তি পাবেন এবং পরকালে উত্তম পরিষ্কার পাবেন।

গুনাহ থেকে তওবা ও ইস্তেগফার করা

আমরা মানুষ মাত্রই ভুল করি। ভুল করার পরে যদি কেউ তওবা করে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই আল্লাহ তাকে খুশি হয়ে সাহায্য করে। আবার অনেকে মনে করে আমি ভুল করেছি আল্লাহ আমাকে মাফ করবে কিনা। কিন্তু এটা সত্যি যে আল্লাহর রহমত অসীম। আল্লাহ তার বান্দাকে ক্ষমা করার জন্য তার ডাক শুনেন। কারণ আল্লাহর রহমতে দরজার সব সময় খোলা থাকে। তাইনা থেকে গুনাহ থেকে মাফ পেতে হলে অবশ্যই আমাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে হবে এবং ধৈর্য সহকারে তা পালন করতে হবে। কারণ গুনাহ আল্লাহ সাহায্য থেকে মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয়।

আরো পড়ুনঃ নামাজের প্রকারভেদ ও সময়সূচী

যখন মানুষ নিজের ভুল বুঝে তওবা করে এবং গুনাহ ছেড়ে দেন তখন আল্লাহ খুশি হন। আল্লাহ তওবা গ্রহণকারীকে সাহায্য করেন এবং তার জীবনে বরকত দেন। আপনি যদি বেশি বেশি ইস্তেগফার পাঠ করেন এবং মন থেকে আল্লাহর কাছে অতীতের গুনাহের জন্য ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে আর সেরকম গুনাহ করবেন না প্রতিশ্রুতি দেন তাহলে আল্লাহতালা অনেক খুশি হন। তাই পরিষ্কার অন্তরে আল্লাহর সাহায্য পাওয়া বড় মাধ্যম। তাই আল্লাহর সাহায্য পেতে হলে অবশ্যই আমাদের গুনাহ থেকে দূরে আসতে হবে এবং মন থেকে তওবা করতে হবে আর বেশি বেশি ইস্তেগফার পাঠ করতে হবে।

আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখা

আল্লাহর রহমত অনেক। আমরা অনেকে আছি যখন কোন ধরনের বিপদে পড়ি তখন আমরা ভরসা হারিয়ে ফেলি। এমনকি এমন সব কাজ করে ফেলি যেটা ইসলাম শরীয়তে ঠিক না। তাই বিপদের সময় আমাদের ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখতে হবে। আপনি যদি আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখতে পারেন তাহলে আল্লাহতালা আপনার জীবনে বরকত এনে দেবে। তাই যতই বিপদে থাকুন না কেন হাসিমুখে ধৈর্য ধারণ করে আল্লাহর উপর ভরসা রেখে জীবন যাপন করতে হবে। এতে আল্লাহ তায়ালা অতি খুশি হন এবং তার জীবনের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে তার জীবনে বরকত এনে দেবে। আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখা একজন মুমিন মুসলমানের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ পায়।

 আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখা মানে হলো নিজের শ্রাদ্ধ অনুযায়ী চেষ্টা করা এরপর ফলাফল পুরোপুরি বলে আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেওয়া। কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেন, যে আল্লাহর উপর ভরসা করে আল্লাহ তার জন্যই যথেষ্ট। মানুষ যখন ভাবে আমার আর কোন উপায় নেই ঠিক তখনই এই আয়াত থেকে আসক্ত করা যে আল্লাহই যথেষ্ট। মানুষ ভরসা শেষ হলো আল্লাহর সাহায্য শেষ হয় না। তাই আল্লাহতালাকে পেতে হলে অবশ্যই আমাদের সকল মুসলমানদের মনে প্রাণে আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখতে হবে।

নেক আমল, সাদকা ও মানুষের উপকার করা

আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার পাঁচটি উপায় এর একটি হচ্ছে নেক আমল, সাদকা এবং মানুষের উপকার করা।নেক আমল বলতে এমন সব কাজকে বোঝায় যেগুলো আল্লাহতালা পছন্দ করেন এবং যার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর রহমত লাভ করে। নামাজ, রোজা, সত্য কথা বলা, আমানত রক্ষা করা, বাবা-মায়ের খেদমত করা, পাড়া প্রতিবেশীর খোঁজ রাখা, ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়া এবং অসহায় কে সাহায্য করা ইত্যাদি কাজ নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত। নেক আমল মানুষের চরিত্র সুন্দর করে অন্তরকে পবিত্র করে এবং দুনিয়াও আখেরাতে কল্যাণ নিয়ে আসে। যে ব্যক্তি নিয়মিত নেক আমলে অভ্যস্ত হয় তার জীবনে আল্লাহর রহমত ও বরকত নেমে আসে।

সাদকা হলো নেক আমলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যার মাধ্যমে মানুষ নিজের সম্পদকে পবিত্র করে। শুধু টাকা পয়সা দেয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় গরীবকে খাবার দেওয়া, অসহায় কে সাহায্য করা এমনকি ভালো কথা বলা সাদকার অন্তর্ভুক্ত। মানুষের মনকে উদার করে এবং সমাজে ভালোবাসা তৈরি করে। আল্লাহ তা'আলা সাদকার মাধ্যমে বিপদ দূর করেন, রিজিক বাড়ান এবং মানুষের জীবনে অদৃশ্য সাহায্য পাঠান। অনেক সময় অল্প দান বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করে।

মানুষের উপকার করা ইসলামের অন্যতম শিক্ষা। যে ব্যক্তি অন্যের কষ্ট বুঝে পাশে দাঁড়ায় আল্লাহ তার কষ্ট সহজ করে দেন। অনেক সময় আমরা বিপদে থাকি কিন্তু বিপদ থেকে উদ্ধার করার মত মানুষ পাই না। কারো দুঃখের কথা মন দিয়ে শোনা, বিপদে সাহস দেওয়া, অসুস্থকে দেখতে যাওয়া এসব মানুষের উপকারের মধ্যেই পড়ে। মানুষের উপকার করলে শুধু অন্যের লাভ হয় না এবং যে উপকার করে তারও মানসিক শান্তি ও আনন্দ লাগে। 

এসব লোককে আল্লাহ তায়ালা অনেক ভালোবাসে। তাই আল্লাহর কাছে যেতে হলে এবং তার সাহায্য পেতে হলে অবশ্যই নেক আমল, উত্তম চরিত্র এবং সাদকা এর পাশাপাশি মানুষের বিপদের সময় উপকার করতে হবে। নেক আমল, ও মানুষের উপকার এই তিনটি বিষয় একে ওপরের সাথে গভীরভাবে জড়িত। এগুলো মানুষের ঈমানকে শক্ত করে সমাজকে সুন্দর করে এবং আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের পথ সহজ করে দেয়। যে ব্যক্তি নিয়মিত এসব আমল করে সে শুধু দুনিয়াতে নয় আখিরাতও সফলতা লাভ করে।

আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার গুরুত্ব

আল্লাহর সাহায্য মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন কারণ মানুষ দুর্বল ও সীমাবদ্ধ। জ্ঞান, শক্তি বা সম্পদ যতই থাকুক না কেন সব পরিস্থিতিতে মানুষ নিজে নিজে সফল হতে পারেনা। বিপদ, অসুস্থ, দুশ্চিন্তা বা হতাশার সময় মানুষের সব ভরসা ভেঙ্গে পড়ে তখন আল্লাহর সাহায্য একমাত্র আশ্রয় হয়ে দাঁড়ায়। আল্লাহর সাহায্য পেলে অসম্ভব কাজও সম্ভব হয়ে যায়। তাই প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের জীবনে সফলতা পেতে হলে অবশ্যই আল্লাহর সাহায্যের দরকার। কারণ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কখনো কোন কিছু সম্ভব নয়।

আল্লাহর সাহায্য পাওয়া মানুষের ঈমানকে শক্ত করে। যখন একজন মানুষ আল্লাহর উপর ভরসা করে সাহায্য চাই এবং সাহায্য পায় তখন তার বিশ্বাস আরো গভীর হয়।সে বুঝতে পারে আল্লাহ তাকে একা ছেড়ে দেননি। এ বিশ্বাস মানুষকে হতাশা, ভয় ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি রাখে এবং জীবনের কঠিন মুহূর্ত গুলো পার করা শক্তি দেয়। আল্লাহ সাহায্য ছাড়া একটা কাজ করা সম্ভব না। আল্লাহ আমাদের সাহায্য করে বলেই আমরা আল্লাহর দেয়া অসীম রহমতে এখনো পৃথিবীতে সুন্দর ভাবে বেঁচে আছি। আল্লাহর সাহায্য আমাদের প্রত্যেকটা মুমিন মুসলমানদের প্রয়োজন।

আরো পড়ুনঃ নামাজ না পড়ার শাস্তি ইসলাম অনুযায়ী

আল্লাহর সাহায্যের গুরুত্ব এই কারণে বেশি যে আল্লাহর সাহায্য শুধু বিপদ দূর করে না বরং সঠিক পথ দেখায়। অনেক সময় মানুষ সমস্যার মধ্যে পড়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বসে কিন্তু আল্লাহ সাহায্য করলে সেই সঠিক পথ বেছে নিতে পারে। এ সাহায্য কখনো মানুষের মাধ্যমে আসে, কখনো অন্তরের শান্তির মাধ্যমে আবার কখনো প্রত্যাশিত সুযোগের মাধ্যমে আসে। আল্লাহ সাহায্য পাওয়া মানুষের চরিত্রের গঠনের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার মানুষ হয় বিনয়ী, কৃতজ্ঞতা ও আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা করে।

দূরে থাকা মানুষ আল্লাহ সাহায্য ছাড়া মানুষের জীবন অপূর্ণ। দুনিয়া ও আখেরাতে দুই জগতে সফল হতে হলে আল্লাহর সাহায্যের প্রয়োজন অপরিসীম। তাই প্রতিটি কাজের চেষ্টা করার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া এবং তার ওপর ভরসা রাখা একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহর সাহায্য পেতে হলে আমাদের প্রতিটি কাজ আল্লাহর নাম দিয়ে শুরু করতে হবে এবং আল্লাহর নামে শেষ করতে হবে। আপনি যদি কোরআন ও হাদিসের নিয়ম অনুযায়ী জীবন গঠন করতে পারেন তাহলে আল্লাহতালা জীবনে বরকত ময় করে দেয়। আল্লাহর সাহায্য দূরে নয়, বরং সৎ নিয়ত, দোয়া আর আল্লাহর উপর ভরসায় যথেষ্ট।

FAQ: প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্নঃ আল্লাহর কাছে কিভাবে চাইতে হয়?

উত্তরঃ আল্লাহর কাছে চাইতে হয় পরিষ্কার মন, পূর্ণ বিশ্বাস ও বিনয়ের সাথে দোয়ার মাধ্যমে। নিজের অসহায়ত্ব স্বীকার করে, ধৈর্য ধরে নামাজ ও তাকওয়া সাথে চাইলে আল্লাহ অবশ্যই উত্তম সবাই কবুল করেন।

প্রশ্নঃ কি করলে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়া যায়?

উত্তরঃ আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়া যায় নিয়মিত নামাজ পড়া, গুনাহ থেকে দূরে থাকা ও তার আদেশ মেনে চলা। মানুষের উপকার করা ওসব কাজে আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখলে আল্লাহ বান্দাকে বেশি ভালোবাসে।

প্রশ্নঃ আস্তাগফিরুল্লাহ ১০০ বার পড়লে কি হয়?

উত্তরঃ আস্তাগফিরুল্লাহ ১০০ বার পড়লে গুনাহ মাফ হয় এবং অন্তর শান্ত হয়। এর মাধ্যমে দুশ্চিন্তা কমে, রিজিক বাড়ে এবং আল্লাহর রহমত নাযিল হয়।

প্রশ্নঃ কোন দোয়া প্রত্যাখাত হয় না?

উত্তরঃ খাটি মন ও দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে করা দোয়া আল্লাহ কখনো প্রত্যাখ্যান করে না। বিশেষ করে সেজদা সময় ও তাহাজ্জুদের শেষ রাতে করার দোয়া দ্রুত কবুল হয়। হাদিসে এসেছে, অত্যাচারীতের দোয়া কখনো প্রত্যাখাত হয় না। এছাড়া মুসাফিরের দোয়া ও সন্তানের জন্য পিতা-মাতা দোয়া আল্লাহ কবুল করেন।

প্রশ্নঃ ১০০ বার কোন জিকির করা উচিত?

উত্তরঃ প্রতিদিন আস্তাগফিরুল্লাহ ১০০ বার পড়া সবচেয়ে উত্তম জিকির। এতে গুনাহ মাফ হয়, নেকি বাড়ে এবং আল্লাহর রহমত নাযিল হয়।

উপসংহার আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার পাঁচটি উপায় ও আমল

আল্লাহর সাহায্য সত্য এবং তা কখনো দেরি হলো বান্দার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। ধৈর্য, দোয়া, তাকওয়া, কোরআন তেলাওয়াত, নামাজ, রোজা, তওবা ও নেক আমল মাধ্যমে যে ব্যাক্তি আল্লাহর দিকে ফিরে আসে আল্লাহ তাকে কখনো নিরাশ করে না। আল্লাহর সাহায্য পেতে হলে অবশ্যই আমাদের কোরআনের অর্থ বুঝতে হবে এবং জীবন যাপন করতে হবে। আমাদের প্রত্যেকের উচিত সব পরিস্থিতিতে আল্লাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখা এবং তার সাহায্যের অপেক্ষায় থাকা। তাহলে আমরা আল্লাহর রহমত লাভ করতে পারো। দুনিয়া ও আখেরাতে দুই জীবনে সাফল্য পাব। এই আর্টিকেল আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার পাঁচটি উপায় আলোচনা করেছি। আসুন সকলে মিলে আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার কাজগুলো মন থেকে করি এবং দুনিয়া ও আখেরাত দুই জীবনে সফলতা পাই ধন্যবাদ।



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সামিজা৪২ কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url