মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব ও ফজিলত এবং দুনিয়া আখিরাত লাভ
মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে জানব। মসজিদ শুধু নামাজের স্থান নয় এটি মুসলমানদের ঈমান, চরিত্র ও সমাজ গঠনের কেন্দ্র। মসজিদের নববিতে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) সাহাবীদের কোরআন শিক্ষা দিতেন, জীবন বিধান শিখাতেন, যুদ্ধ ও শান্তির সিদ্ধান্ত নিতেন। গরিব সাহাবীদের জন্য মসজিদে আশ্রয় ব্যবস্থা ছিল।নবীজিদের যুগে মসজিদ ছিল মানুষের পুরো জীবনের দিকনির্দেশনা।
কিন্তু আজ আমরা যদি সমাজব্যবস্থা দেখি তাহলে বুঝতে পারবো মসজিদ থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে সমাজে অশান্তি বাড়ছে।আজও একজন মুসলমান যখন আল্লাহর সন্তুষ্টের জন্য একটি মসজিদ নির্মাণের অংশ নেন।এমন একটা আমল যা দুনিয়া থেকে চিরস্থায়ী হয়। এই কারণে ইসলামে মসজিদ নির্মাণকে অত্যন্ত গুরুত্ব ও ফজিলত এর কাজ বলা হয়েছে।
পেজ সূচিপত্রঃ মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব ও ফজিলত এবং দুনিয়া আখিরাত লাভ
- ইসলামে মসজিদের মর্যাদা
- মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব
- মসজিদ নির্মাণের ফজিলত হাদিসের আলোকে
- সদকায়ে জারিয়া হিসাবে মসজিদ নির্মাণ
- মসজিদ নির্মাণের দুনিয়া লাভ
- মসজিদ নির্মাণে আখিরাতের লাভ
- কারা মসজিদ নির্মাণের অংশ নিতে পারবেন
- নিয়ত ও সর্তকতা
- উপসংহার মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব ও ফজিলত এবং দুনিয়া আখিরাত লাভ
ইসলামে মসজিদের মর্যাদা
ইসলামে মসজিদের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। মসজিদ শুধু নামাজের আদায় স্থান নয়
বরং এটি আল্লাহর ঘর যেখানে বান্দা ছড়াছড়ি তার প্রভুর সামনে মাথানত করে। কোরআনে
আল্লাহ তায়ালা মসজিদকে নিজের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন যা নিজেই মসজিদের
সম্মানের প্রমাণ। আল্লাহ বলেন নিশ্চয়ই মসজিদ সমূহ আল্লাহর জন্য। এ আয়াত আমাদের
বুঝিয়ে দেয় মসজিদ কোন ব্যক্তির বা গোষ্ঠীর নয় এটা পুরো মুসলিম
উম্মাহর এবং সর্বোপরি আল্লাহর ঘর। আসুন নিচে জেনে নেই মানুষ মসজিদ নির্মাণের
করলে কোরআন ও হাদিসের ইসলামের মর্যাদার কি রয়েছে।
- কোরআনে আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, আল্লাহর মসজিদ সমূহ তারাই আবাদ করে যারা আল্লাহু আখেরাতে ঈমান রাখে। এ থেকে বোঝা যায় মসজিদ আবাদ করা ঈমানের পরিচয়। সে সমাজে আল্লাহর ভয়,ন্যায় বোধ ও শান্তি টিকে থাকে। এজন্য ইসলামে মসজিদ নির্মাণ ও সংরক্ষণে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মসজিদ নির্মাণ করলে আল্লাহ তা'আলা সেই ব্যাক্তিকে অনেক পছন্দ করে এবং তার জীবনে বরকত, শান্তি ও নেক আমল দিয়ে ভরিয়ে দেয়।।
- রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মসজিদের মর্যাদা বোঝাতে নিজের জীবনের বাস্তব উদাহরণ রেখে গেছেন। তিনি মদীনায় পৌঁছে প্রথমে নিজের ঘর বানাননি বরং মসজিদ নির্মাণ করেছেন। তিনি নিজ হাতে ইট তুলেছেন, সাহাবীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন। এতে বোঝা যায় মসজিদ ইসলামের কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এটি কোন ছোট কাজ নয় বরং সম্মানজনক ও মর্যাদা পূর্ণ আমল।
- হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের একটি ঘর নির্মাণ করেন। এ হাদিসে মানুষের মনের গভীরে প্রভাব ফেলে। একজন সাধারন মানুষ ও ভাবতে শুরু করে আমি যদি দুনিয়াতে আল্লাহর ঘর বানাতে সাহায্য করি তাহলে আখিরাতে আল্লাহ নিজ হাতে আমার জন্য ঘর বানাবেন। এর চেয়ে বড় মর্যাদা আর কি হতে পারে।
- মানুষের মনে প্রায় এমন চিন্তা আসে আমার সামান্য দানে কি কোন লাভ হবে। আমি কি বড় কিছু করতে পারবো। ইসলামী মসজিদে মর্যাদা বোঝালে এই চিন্তা ভেঙে যায়। কারণ আল্লাহ পরিমাণ দেখেনা তিনি নিয়ত দেখেন। যে ব্যাক্তি আল্লাহর ঘরের জন্য অন্তর থেকে ভালোবাসা প্রথম করে তার চেয়ে ভালোবাসা আল্লাহর কাছে ইবাদত হিসাবে গণ্য হয়।
- ইসলামিয়া মসজিদের মর্যাদা এতটাই যে মসজিদের জন্য সামান্য কষ্ট আল্লাহর কাছে মূল্যবান। কেউ যদি রাস্তায় পড়ে থাকা কাটা মসজিদের পথ থেকে সরিয়ে দে তাও সওয়াবের কাজ। কারণ মসজিদ আল্লাহর ঘর আর আল্লাহর ঘরের সাথে সম্পর্ক মানে বিশেষ মর্যাদা। বর্তমানে মানুষ দুনিয়ার কাজে এত ব্যস্ত যে মসজিদের কথা ভাবার সময় পাইনা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় যারা মসজিদের সাথে যুক্ত থাকে তাদের জীবনে অজানা শান্তি নেমে আসে। তাদের অন্তর নরম হয় বিপদের ধৈর্য আছে আল্লাহর উপর ভরসা শক্ত হয় শান্তি মসজিদের মর্যাদার বাস্তব প্রমাণ।
- মসজিদ নির্মাণের জন্য ইসলামী মসজিদের মর্যাদা বোঝা খুবই জরুরী। কারণ মানুষ যখন বুঝতে পারে এটা আল্লাহর ঘর তখন সে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দান করতে পিছপা হয় না। কেউ বড় অংকে টাকা দান করে, কেউ ছোট অংকের টাকা দান করে, আবার কেউ শ্রম দিয়ে আল্লাহর কাছে সমান মর্যাদার অধিকারী হয় যদি নিয়ত খাঁটি হয়। নিচে আমরা মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে।
মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব
মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব ও ফজিলত তখন বোঝা যায় যখন মানুষ নিজের জীবনকে একটি
গভীরভাবে চিন্তা করে. মানুষ সারা জীবন ঘর বানায়, সম্পদ জমানো নিয়ে ব্যস্ত থাকে,
ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা ভাবে. কিন্তু মৃত্যুর পর সে ঘর সে সম্পদ কিছুই সাথে যায়
না. ইসলামী মসজিদ নির্মাণে সেই কাজগুলো একটি যা মানুষের এই দুশ্চিন্তার বাস্তব
সমাধান দেয়। কারন এটি এমন একটি কাজ যার ফল মানুষ মৃত্যুর পরও বন্ধ হয়
না। এটাই এমন একটা নেক আমল যা মানুষ এর ফল দুনিয়া ও আখেরাতে পাবে।
আরো পড়ুনঃ
রমজান মাসে রোজা রাখার ফজিলত
- মানুষ অনেক সময় মনে করে আমি একাই কিবা করতে পারবো। কিন্তু মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে এই চিন্তা ভুল প্রমাণিত হয়। ইসলামে বলা হয়েছে আল্লাহর বান্দা সামর্থ্য দেখেন না তিনি দেখেন বান্দার ইচ্ছা ও অন্তরের টান। আবার মসজিদ নির্মাণের মানুষের চরিত্র গঠনের সাথে জড়িত।
- একটি এলাকায় মসজিদ গড়ে উঠলে মানুষ ধীরে ধীরে আল্লাহ স্মরণ করতে শিখে। নামাজের আওয়াজ মানুষের ভেতরে কঠিন মন নরম করে দেয়। সন্তানেরা ছোট থেকে আল্লাহর ঘরের সাথে পরিচিত হয়। এর মাধ্যমে একটি প্রজন্ম গড়ে ওঠে যার নৈতিকতা ও ভয় ভরসা নিয়ে বড় হয়। এ সামাজিক পরিবর্তন মসজিদ নির্মাণের প্রকৃতি গুরুত্ব।
- বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি, ব্যস্ততা ও আরাম মানুষের মনকে একাকী করে তুলেছে। মানুষ কথা বলার মানুষ পাচ্ছে না যার কারনে মানুষ সব সময় অশান্তিতে থাকে। একটা মসজিদে এসে একাকী ভাঙ্গে। মসজিদে গেলে মানুষ মানুষের সাথে দেখা হয় এবং মন খুলে কথা বলতে পারে। এমনকি আল্লাহর সাথে সরাসরি কথা বলার মাধ্যম হচ্ছে নামাজ। তার সকল মনের কষ্টের কথা বলতে পারে। এ মানসিক শান্তি মসজিদ নির্মাণের একটি বড় গুরুত্ব যা বইয়ের পাতায় লেখা থাকে না কিন্তু মানুষ অনুভব করে।
- আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মসজিদ নির্মাণের মানুষের মধ্যে অহংকার ভেঙে দেয়। কারণ আল্লাহর ঘরে জন্য দান করলে মানুষ বুঝতে পারে সে মালিক নয় সে কেবল আমানতদার। এ উপলব্ধি মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে। দান করার মাধ্যমে মানুষ নিজের ভেতরের লোক কাটিয়ে উঠে যা আজকের দুনিয়া খুবই জরুরী।
মসজিদ নির্মাণের ফজিলত হাদিসের আলোকে
মসজিদ নির্মাণ ইসলামে এমন একটা আমল যার ফজিলত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) স্পষ্ট ভাষায় বর্ণনা করেছেন। হাদিসে বারবার এসেছে আল্লাহর ঘরে সাথে সম্পর্ক মানে বিশেষ দয়া ও প্রতিদান। একজন মানুষ যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মসজিদ নির্মাণে অংশ নেন তখন সে শুধু একটা ইমারত গড়ে তোলে না, বরং নিজে আখেরাতে ভিত্তি শক্ত করে। রাসুল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করেন। অর্থাৎ যে ব্যক্তি দুনিয়াতে আল্লাহর ঘর বানাতে সাহায্য করে আল্লাহ তার বিনিময়ে আখিরাতে চিরস্থায় ঘর দান করেন।
অনেক মানুষ মনে করে জান্নাত পাওয়া খুব কঠিন।কিন্তু এ হাদীসে মানুষকে আসার আলো দেখায় একটা খাটি নিয়ত করা কাজই জান্নাতের ঘরের কারণ হতে পারে।মজিদ নির্মাণ মানে পুরো মসজিদ একা বানানো নয়। কেউ যদি একটা ইট, একটা দণ্ড বা সামান্য অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করে তাহলে সে এই ফজিলতের অংশীদার হয়। কারণ আল্লাহর বান্দারা সামর্থ নয় তার অন্তরে ইচ্ছা ও নিয়ত দেখেন। এদিকটি সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সান্তনা দায়ক।
সদকায়ে জারিয়া হিসাবে মসজিদ নির্মাণ
রাসুল (সাঃ) বলেছেন, মানুষ মারা গেলে তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায় তিনটি ছাড়া
সাদকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান অনেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে। মসজিদ
নির্মাণ এই সদকায়ে জারিয়া শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। কারণ যতদিন এ মসজিদে নামাজ পড়া হবে
কুরআন তেলাওয়াত হবে মানুষ আল্লাহকে ডাকবে ততদিন নির্মাণের অংশগ্রহণকারী সওয়াব
তার কবরে পৌঁছাতে থাকবে। এমন ফজিলত খুব কম আমলের ক্ষেত্রেই আছে। তাই আমাদের সকল
মুসলমানের উচিত নিয়ত খাঁটি করে এবং পরিষ্কার মনে মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব ও
ফজিলত পাওয়ার জন্য এবং দুনিয়াও আখেরাতে লাভের জন্য এনে কাজে অংশগ্রহণ করা
সকলের উচিত।
মসজিদ নির্মাণে দুনিয়ায় লাভ
অনেকে মনে করেন নেক কাজের ফল শুধু আখিরাতেই। কিন্তু বাস্তবে মসজিদ নির্মাণ করলে তার বরকত দুনিয়াতেও পাওয়া যায়। আল্লাহ তাআলা দানকারী রিজিক বরকত দেন। বাস্তবে দেখা যায় অনেক মানুষ মসজিদের দান করার পর তাদের ব্যবসা, চাকরি বা সংসারে অজানা করলেন নেমে আসে। মানুষের দোয়া পাওয়া যায়। মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মানুষ অজান্তে দানকারীর জন্য দোয়া করে। এই দোয়ার কারণে দুনিয়ায় অনেক বিপদ থেকে রক্ষা হয়।
মসজিদ নির্মাণে কারণে সমাজে ভালো পরিচিত অসম্মান তৈরি হয়। তবে সম্মানের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নয় বরং এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে দুনিয়ার উপহার।যদিও হাদিসের মূলত আখিরাতে ফজিলত কথা বলা হয়েছে তবে বাস্তবে দেখা যায় মসজিদ নির্মাণে অংশ নিয়ে মানুষের দুনিয়ার জীবনে আল্লাহ সহজ করে দেন। বিপদে ধৈর্য আসে, অন্তরের প্রশান্তি আসে এবং জীবনের পথ সহজ হয়। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে দুনিয়াতে দেওয়া এক ধরনের পুরস্কার।
মসজিদ নির্মাণে আখিরাতে লাভ
মানুষ সারা জীবন দুনিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। যেমন ঘর, সম্পদ ও সঞ্চয় কিন্তু এগুলো মৃত্যুর পরে কোন মূল্য আসবে না। মসজিদ নির্মাণ এমন একটি কাজ যা মানুষের দুনিয়ার সম্পদকে আখেরাতে সম্পদে পরিণত করে। কোরআনে আল্লাহ ইঙ্গিত দিয়েছে যা কিছু আল্লাহর পথে ব্যয় করা হয় তা কখনো নষ্ট হয় না। এ বিশ্বাসী মসজিদ নির্মাণকে আখেরাতের সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ পরিণত করে। কবর জীবনে মানুষকে ভয় পাইয়ে দেয়। কিন্তু আল্লাহর ঘরের সাথে যুক্ত আমল কবরে প্রশান্তির কারণ হতে পারে।মসজিদ নির্মাণ কারীর ব্যক্তি এই আশা রাখতে পারে যেখানে মানুষ আল্লাহকে স্মরণ করে সে ঘর বানানোর বিনিময় আল্লাহ তার কবরের অন্ধকারে আলো দিবেন।
আরো পড়ুনঃ
কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়ার উপকারিতা
কে আশায় মুমিনের অন্তরকে শান্ত করে। কিয়ামতের দিন হবে ভয়াবহ ও দীর্ঘ। মানুষ তখন ছায়া খুঁজবে আশ্রয় খুজবে। হাদিসে এসেছে যাদের হৃদয় মসজিদের সাথে যুক্ত তারা আল্লাহর বিশেষ ছায়া অধিকারী হবে। না বরং কিয়ামতের দিন নিরাপত্তা আশা রাখে। আখেরাতে সর্বোচ্চ লাভ হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি। মসজিদ নির্মাণ মানে আল্লাহর ঘরে খেদমত করা। যে ব্যক্তি আল্লাহর ঘরে খেদমত করে সে আল্লাহর নৈকতটা আশা করতে পারে। জান্নাত কবরে শান্তি সব কিছুর মূলে রয়েছে এর সন্তুষ্টি।
কারা মসজিদে নির্মাণে অংশ নিতে পারবেন
অনেকে মনে প্রশ্ন আছে মসজিদ নির্মাণে কি শুধু বড়লোকদের কাজ। ইসলামের দৃষ্টিতে এর
উত্তরই স্পষ্ট না। মসজিদ নির্মাণের অংশ নেয়া সুযোগ ধনী-গরিব সবার জন্য উন্মুক্ত।
যার যতটুকু সামর্থ্য আছে সে ততটুকু দিয়ে এই মহৎ কাজের অংশ নিতে পারে। আল্লাহর
পরিমাণ নয় নিয়ত ও আন্তরিকতাকে গুরুত্ব দেন। কেউ হয়তো বড় অংকের টাকা দিতে পারে
না কিন্তু সামান্য কিছু দিতে পারে। ইসলামে এ সামান্য দান ও মূল্যবান। একটা ইট,
একদিনের আয় বা ছোট একটা অংশ সবই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য। যদি তা খাটি নিয়তে
হয়। অনেক সময়ের ছোট দানে আল্লাহর বড় করে দেন।
- শুধু অর্থ দিও নয় শ্রম দিয়েও মসজিদ নির্মাণে অংশ নেওয়া যায়। নির্মাণ কাজে সাহায্য করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রাখা, পানি বা খাবারের ব্যবস্থা করা এসব কাজ আল্লাহর ঘরে খেদমতের অন্তর্ভুক্ত। রাসুল (সাঃ) নিজে সাহাবীদের সাথে মসজিদ নির্মাণের শ্রম দিয়েছেন এর বড় প্রমাণ। ইসলামে নারীদের জন্য মসজিদ নির্মাণের অংশ নেওয়ার পূর্ন সুযোগ রয়েছে। তারা অর্থ দান করতে পারেন খাবারের ব্যবস্থা করতে পারেন বা অন্যভাবে সহযোগিতা করতে পারেন। নিয়ত খাঁটি হলে নারীদের এই অংশগ্রহণ ও আল্লাহর কাছে সমান মর্যাদা।
- যারা নিজের এলাকা থেকে দূরে থাকেন প্রবাসে বা অন্য শহরে তাদের অনেকে মনে করেন আমি কিভাবে অংশ নেব। বাস্তবে তারা অর্থ পাঠায় অনলাইনে সহযোগিতা করে যা দোয়ার মাধ্যমে এ কাজের যুক্ত হতে পারেন। আল্লাহর পথে বাধা নয়। কেউ হয়তো শারীরিক বাহ্যিকভাবে কিছুই করতে পারে না কিন্তু দোয়ার দরজা সবার জন্য খোলা। মসজিদ নির্মাণে মন থেকে দোয়া করা আল্লাহর কাছে একটি আমল।
- যুবকদের শক্তি সমা ও চিন্তায় সবই মসজিদ নির্মাণে কাজে লাগতে পারে। তারা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে পারে মানুষকে উৎসাহিত করতে পারে সচেতনতা তৈরি করতে পারে। যুবসমাজ যুক্ত হলে মসজিদ শুধু ইমারত নয় জীবন্ত কেন্দ্র হয়ে ওঠে। মসজিদ নির্মাণে কোন নির্দিষ্ট শ্রেণী কাজ নয়। ইসলামে এই সুযোগ সব মুসলমানদের জন্য খোলা।
নিয়ত ও সতর্কতা
মসজিদ নির্মাণের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিয়ত। আল্লাহ বলেন, তোমরা
আল্লাহর সন্তুষ্ট ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যে দান করো না। লোক দেখানো নামের ফলক
লাগানো বা মানুষের প্রশংসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে দান করলে সওয়াব নষ্ট হয়ে যেতে
পারে। তাই মসজিদ নির্মাণে অংশ নেওয়ার সময় খাটিয়ে নিয়তে আল্লাহর সন্তুষ্টকে
লক্ষ্য করা উচিত এবং দান যেন হয় হালাল উপার্জন থেকে। তাই মসজিদ নির্মাণের
সময় আমাদের কিছু করণীয় থাকে। কারণ বর্তমানে ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেক সময়
দ্বীনের কাজ ভুলে যায়। অথচ সামান্য অংশগ্রহণ অনেক বড় সওয়াব কারণ হতে পারে।
আমাদের সকলের উচিত
- মসজিদ নির্মাণের সামর্থ্য অনুযায়ী দান করা
- অন্যদের উৎসাহিত করা
- নির্মিত মসজিদের পরিচর্যা ও উন্নয়নের ভূমিকা রাখা
উপসংহার মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব ও ফজিলত এবং দুনিয়া আখিরাত লাভ
মসজিদ নির্মাণে ইসলামের দৃষ্টিতে একটি মহান ইবাদত ও শ্রেষ্ঠ সদকায়ে জারিয়া। এমন
একটা আমল যার লাভ দুনিয়াতে শান্তি ও বরকত হিসেবে আছে এবং আখেরাতে জান্নাতের ঘর
হিসেবে প্রতিদান মিলে। তাই যার যতটুকু সামর্থ্য আছে সে যেন আল্লাহর ঘরে নির্মাণ
অংশে নিয়ে নিজের দুনিয়া ও আখেরাতকে সুন্দর করে তুলে এটাই একজন মুমিনের কাম্য।
মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব ও ফজিলত এবং দুনিয়া আখেরাতে লাভ নিয়ে আলোচনা করেছি।
আসুন সকলে মিলে ভালো কাজের দিকেও অগ্রসর হয়। যার প্রতিদান হিসেবে আমরা দুনিয়া ও
আখিরাতে সফলতা পাব ধন্যবাদ।

সামিজা৪২ কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url