প্রতিদিন কোরআন পড়ার ফজিলত ও উপকারিতা

প্রতিদিন কোরআন পড়ার ফজিলত ও সম্পর্কে জানব। কোরআন হলো আল্লাহতালার পক্ষ থেকে মানবজাতির জন্য প্রেরিত সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ হেদায়েত। মুসলিম জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কুরআনের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিদিন কোরআন পড়া শুধু একটি নেক আমল নয় বরং এটি ঈমানকে মজবুত করে চরিত্র গঠন এবং দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতার অর্জনের অন্যতম মাধ্যম।

প্রতিদিন-কোরআন-পড়ার-ফজিলত

আধুনিক ব্যস্ত জীবনে অনেকে কোরআন পড়াকে অবহেলা করে। অথচ ইসলামের দৃষ্টি কোন থেকে প্রতিদিন কুরআন পড়া একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। নিচে জানবো প্রতিদিন কোরআন পড়ার ফজিলত ও উপকারিতা মানব জীবনে কি উপকার হয়।

পেজ সূচিপত্রঃ প্রতিদিন কোরআন পড়ার ফজিলত ও উপকারিতা

প্রতিদিন কোরআন পড়ার ফজিলত ও উপকারিতা

কোরআন হলো আল্লাহর কালাম যা মানবজাতিকে সঠিক পথ দেখানোর জন্য নাযিল করা হয়েছে। এটা কোন সাধারণ গ্রন্থ নয় বরং এটা নূর শিফা এবং রহমতের উৎস। আল্লাহতালা কোরআনের মাধ্যমে মানুষকে হালাল হারাম ন্যায়-অন্যায় সত্য মিথ্যার পার্থক্য শিখিয়েছে। তাই কুরআনকে শ্রেষ্ঠ নিয়ামত বলা হয় কারণ এটি মানুষের ইহকাল ও পরকালমুক্তির পথ নির্দেশ করে। ইসলামে কোরআনের সঙ্গে প্রতিদিনের সম্পর্ক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে।

  • নামাজের কোরআন তেলাওয়াতের ফরজ হওয়ার প্রমাণ করে কোরআন অপরিহার্যতা। সাহাবায়ে কেরাম প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণে কোরআন পড়তেন এবং তা দিয়ে চিন্তা ভাবনা করতেন। নিয়মিত কোরআন পড়লে ঈমান তাজা থাকে এবং আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা সহজ হয়।
  • রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কোরআন তেলাওয়াতের বর্ণনা করেছেন। প্রতিটি হরফ পাঠে সওয়াব পাওয়া যায় এবং কিয়ামতের দিন কোরআন তার পাঠকের জন্য সুপারিশ করবে। তারা আল্লাহর নিকটে বিশেষ মর্যাদা লাভ করে যারা প্রতিদিন কোরআন তেলাওয়াত করে। এ হাদিসগুলো মুসলমানদের কোরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলতে উৎসাহিত দেয়।
  • কোরআন শুধু একটি ধর্মগ্রন্থ নয় এটি একজন মানুষের জীবনের পথ নির্দেশক। অনেকে মনে করেন কোরআন শুধু মৃত্যু বা বিপদের সময় পড়ার জন্য। কিন্তু বাস্তবে হল যে মানুষ প্রতিদিন কোরআনের সাথে সময় কাটান তার জীবন ধীরে ধীরে আলোকিত হতে শুরু করে। প্রতিদিন কোরআন পড়া মানে শুধু সওয়াব অর্জন নয় এটা চিন্তা মন চরিত্র এবং জীবন যাপনের সব কিছুকে সুন্দর করে গড়ে তোলে। প্রতিদিন কোরআন পড়ার ফজিলত ও উপকারিতা গুলো আর কি আছে চলুন নিচের জেনে নিন।

প্রতিদিন কোরআন পড়লে আল্লাহ সাথে সম্পর্ক গভীর হয়

যারা প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং কোরআন তেলাওয়াত করে তাদের সাথে আল্লাহ তাআলার সম্পর্ক গভীর হয়। নামাজের মাধ্যমে আল্লাহ সাথে সরাসরি কথা বলার একটি মাধ্যম। তেমনি কোরআন প্রতিদিন তেলওয়াত করলে আল্লাহ সাথে সম্পর্ক গভীর হয়। এমনকি আল্লাহর নৈকট্য ও ভালোবাসা পাওয়া যায়। যে ব্যক্তি প্রতিদিন কোরআন তেলোয়াত করে আল্লাহ তার উপর রহমত করে। কুরআন পড়া মানে আল্লাহর সাথে সরাসরি কথা বলা। প্রতিদিন যখন মানুষ কোরআনের আয়াত পড়ে তখন তার মনে হয় আল্লাহ তার সাথে কথা বলছেন। আল্লাহর উপর ভরসা করে এবং ঈমান শক্ত হয়। যারা নিয়মিত কোরআন পড়ে তারা একাকিত্ব কম অনুভব করে। আর যারা কোরআন পড়ে না তারা অজান্তে আল্লাহর থেকে দূরে সরে যেতে শুরু করে।

মানসিক শান্তি ও হৃদয়ের প্রশান্তি লাভ হয়

বর্তমানে মানুষ বিভিন্ন মানসিক অশান্তি ও কাজের ব্যস্ততা এত বেশি যে মানসিক অশান্তের সব সময় ভুগছে। যার কারনে মানুষ বিভিন্ন সমস্যায় আছে। বর্তমানে আজকের জীবনে দুশ্চিন্তা টেনশন আর অস্থিরতা খুব সাধারণ বিষয়। যারা প্রতিদিন কোরআন পড়ে তাদের হৃদয় ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে যায়। কোরআনের আয়াত মানুষের মনে এক ধরনের প্রশান্তি এনে দেয় যা কোন ওষুধ বা বিনোদন দিতে পারেনা। প্রতিদিন কোরআন বা নামাজ পড়লে মনের ভিতর একটা আলাদা অনুভূতি হয়। যা আর অন্য কোন কিছুতে পাওয়া যায় না। কোরআন পড়লে মানসিক শান্তি ও হৃদয়ের প্রশান্তি লাভ হয়। এমন কি জীবনে সচ্ছলতা আসে। কোরআন না পড়লে মন আরো অস্থির হয়ে উঠে হতাশা বাড়ে এমন মানসিক ক্লান্তি জমতে থাকে। তাই আমাদের প্রত্যেক মুমিন মুসলমানদের প্রতিদিন কোরআন পড়া উচিত।

অশেষ সওয়াব ও মর্যাদা

অশেষ সওয়াব ও মর্যাদা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তার বান্দাদের জন্য এক অপার নিয়ামত। কুরআনে আল্লাহ বলেছেন যারা তার কিতাব তেলাওয়াত করে এবং অনুযায়ী জীবন গড়ে তোলে তাদের প্রতিদান তিনি পূর্ণ করে দেবেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরো বাড়িয়ে দিবেন। এ আয়াত আমাদের মনে করিয়ে দেয় কোরআনের সাথে যুক্ত থাকা মানে এমন এক পথ বেছে নেওয়া যেখানে কোন ক্ষতি নেই শুধু লাভ আর লাভ। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাদের জানিয়েছেন আল্লাহর কিতাবের প্রত্যেকটি হরফ পড়ার বিনিময়ে একটি নেকি লেখা হয় আর সেই একটি  নেকিকে আল্লাহর দশ গুণ করে দেন।

আরো পড়ুনঃ আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার ৫টি আমল

কোরআনের সাথে যুক্ত থাকা মানে অল্প আমলে অসীম সওয়াব ও চিরস্থায়ী মর্যাদা অর্জন করা। দুনিয়ার সবকিছু একদিন শেষ হয়ে যাবে কিন্তু কোরআনের নেকি ও সম্মান আমাদের সাথে থাকবে কবরে হাশরের মাঠেও এমনকি জান্নাতেও। তাই প্রতিদিন অল্প হলেও কোরআনের সাথে সম্পর্ক রাখা এটাই একজন মুমিনের সবচেয়ে বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত। তাই প্রত্যেক মুমিন মুসলমান নামাজের পাশাপাশি প্রতিদিন কোরআনের সাথে সম্পর্ক রাখা সবচেয়ে উত্তম।

সঠিক পথের দিশা ও হেদায়েত

সঠিক পথের দিশা ও হেদায়েত আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় নিয়ামত। কুরআনের শুরুতে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন এই কিতাবের মধ্যে কোন সন্দেহ নেই। এটি মুত্তাকীদের জন্য হেদায়েত। মানুষ জীবনে অনেক রাস্তা দেখে অনেক পরামর্শ পায় কিন্তু কোনটি সত্যিকারের সঠিক পথ তা বুঝতে পারেনা। কোরআন হলো সেই অন্ধকার মাঝে আলোর পথ দেখায় যাতে মানুষ সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে পারে।

মানুষ যখন দিশেহারা হয়ে পড়ে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে ভুল করে তখন কোরআনে নির্দেশনা তাকে স্থিরতা দেয়। কোরআন শুধু ইবাদতের কথা বলে না এটি জীবনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে আচার-আচরণ লেনদেন পরিবার সমাজ সবকিছু সঠিক দিকনির্দেশনা দেই। যে মানুষ কোরআনকে পথপ্রদর্শক বানায় সে ধীরে ধীরে পুর রাস্তা থেকে সরে এসে সঠিক পথ চলতে শেখে।

সঠিক পথের দিশা কেবল দুনিয়া সাফল্যের জন্য নয় আখেরাতের মুক্তির জন্য অপরিহার। যে মানুষ কোরআনকে তার জীবনের মানচিত্র বানাইছে কখনো সত্তর পথ হারায় না। আর যে কোরআনের আলো ছাড়া পথ চলতে চাই সে যতই এগিয়ে যাক না কেন ভিতরে ভিতরে পথভ্রষ্ট থেকে যায়। তাই আল্লাহর রহমত পেতে হলে অবশ্যই নামাজের পাশাপাশি প্রতিদিন কোরাল তেলাওয়াত করা সুন্দর জীবনের জন্য অপরিহার্য।

পরকালের সুপারিশকারী

পরকালে দিনে যখন মানুষ ভয় ও আতঙ্ক নিজের আমলনামা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে তখন কোরআন তার পাঠকের জন্য সুপারিশকারী হয়ে উঠবে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন কোরআন কিয়ামতের দিন তার পাঠকের পক্ষে সুপারিশ করবে। দুনিয়াতে যে ব্যক্তি নিয়মিত কোরানের সাথে সম্পর্ক রাখে কোরআন সেই সম্পর্কের মর্যাদা রাখবে আখিরাতে। আল্লাহর দরবারে কোরআনের এই সুপারিশ বান্দার গুনাহ মাফের কারণ হতে পারে এবং তাকে জান্নাতের পথে এগিয়ে দিতে পারে। তাই কুরআন শুধু দুনিয়ার পথ-প্রদর্শক নয় বরং পরকালের সবচেয়ে বড় ভরসা। তাই আমাদের সকলের উচিত দুনিয়া ও আখেরাতের জীবনের সফলতার জন্য প্রতিদিন নামাজের পাশাপাশি কোরআন তেলাওয়াত করা।

গুনাহ থেকে দূরে থাকার শক্তি পাওয়া যায়

গুনাহ থেকে দূরে থাকার শক্তি আল্লাহ তা'আলা মানুষকে কোরআনের মাধ্যমে দান করেন। যারা প্রতিদিন নিয়ম করে কোরআন পড়লে অন্তরে আল্লাহ ভীতি তৈরি হয় যা ভুল কাজ করার আগে মানুষকে থামিয়ে দেয়। যারা কোরআন তেলোয়াত করে বা নামাজ পড়ে তারা গুনাহ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবে। কারণ নামাজ ও কোরআন মানুষকে সঠিক পথে আনে। কোরআনের আয়াত মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় আল্লাহ সবকিছু দেখছেন ও জানছেন। এই অনুভূতি একজন মানুষকে গোপনে ও প্রকাশ্যে গুনাহ থেকে বাঁচতে সাহায্য করে। আর যে ব্যক্তি কোরআন থেকে দূরে থাকে তার অন্তরে ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে যায় এবং গুনাহকে আর তেমন ভয়ংকার মনে হয় না। তাই আমাদের সকলের উচিত প্রতিদিন কোরআন পড়া।

চরিত্র ও নৈতিকতার উন্নতি হয়

চরিত্র ও নৈতিকতার উন্নতি কোরানের শিক্ষা অনুসরণ করলে স্বাভাবিক ভাবেই ঘটে। নিয়মিত কোরআন পড়লে মানুষের অন্তর নরম হয় কথা ও আচরণ সংযম আসে। কোরআন মানুষকে সত্যবাদিতা ধৈর্য ক্ষমাশীলতা ও দয়ার শিক্ষা দেয়। যা একসময় ধীরে ধীরে মানুষের স্বভাবের অংশ হয়ে যায়। এত রাগ অহংকার ও অহিংসার মতন খারাপ গুণ কমে যায়। আর যে ব্যক্তি কুরআনের সাথে সম্পর্ক রাখে না তার চরিত্রের নেতিবাচক আচরণ সহজে জায়গা করে নেয়। তাই আমাদের সকলের উচিত কোরআনের সাথে সম্পর্ক গভীর করা এবং চরিত্র ও নৈতিকতার উন্নতি করা।

মৃত্যুর পরও কোরআন উপকারে আসে

মৃত্যুর পরও মানুষের সব আমল বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু কোরআনের সাথে যে সম্পর্ক সে দুনিয়াতে গড়ে তোলে তার ফল পরকালও পেতে থাকে। হাদিসে এসেছে কোরআন কিয়ামতের দিন তার পাঠকের জন্য সুপারিশ করবে। কবর ও হাশরের ভয়াবহ সময় কোরআন আল্লাহর রহমতের মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। যে ব্যক্তি জীবনে কোরআনকে সঙ্গী বানায় কোরআন ও মৃত্যুর পর তাকে একা ফেলে না বরং আল্লাহর দরবারে তার পক্ষ দাঁড়িয়ে যায়। তাই আমাদের সকলের উচিত পরকালে বা জান্নাতে লাভের জন্য প্রতিদিন কোরআন পড়া।

ঈমান বৃদ্ধি

ঈমান বৃদ্ধি আল্লাহর কিতাব কুরআনের সাথে সম্পর্ক রাখার একটি বড় ফল। কোরআন পড়লে আল্লাহর কুদরত রহমত ও শাস্তি কথা মনে পড়ে যায় ফলে অন্তরে আল্লাহ ভীতি ও ভালোবাসা দুটাই বাড়ে। আল্লাহ বলেন মুমিনরা যখন তার আয়াতগুলো শুনে তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায়। প্রতিদিন কোরআন পড়লে ঈমান শক্ত হয় সন্দেহ কমে এবং আল্লাহর উপর ভরসা আরো দৃঢ় হয়। যারা ঈমানের সহিত কোরআন পড়ে আল্লাহ তাদের সকল দুঃখ-কষ্ট দূর করে দেয়। এমন কি জান্নাতের যাওয়ার জন্য কুরআন তার পাঠকের জন্য সুপারিশ করবে। তাই দুনিয়া ও আখিরাতে লাভের জন্য প্রতিদিন কোরআন পড়া উত্তম।

জান্নাতের মর্যাদা বৃদ্ধি

জান্নাতের মর্যাদা বৃদ্ধি কোরানের সাথে গভীর সম্পর্ক একটি মহান প্রতিদান। কোরআন শুধু জান্নাতের প্রবেশের মাধ্যম নয় বরং জান্নাতে কতটা উচ্চ স্তর ও সম্মান পাওয়া যাবে তার ও কারণ। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন কিয়ামতের দিন কুরআনের পাঠককে বলা হবে পর এবং ওপরে ওঠো। দুনিয়াতে যেমন ধীরে ধীরে পড়তে তেমনি পরও। তুমি যেখানে শেষ করবে তো সেখানেই তোমার মর্যাদা। অর্থাৎ দুনিয়াতে যতটুকুন কোরআন পড়া ও স্মরণ করা হয়েছে জান্নাতে মর্যাদা ও ঠিক ততটা বাড়তে থাকবে। এ হাদিস আমাদের মনে করিয়ে দেয় জান্নাতে সবাই একই স্তরে থাকবে না। কারো মর্যাদা বেশি হবে কারো কম আর এই পার্থক্যের অন্যতম বড় কারণ হলো কুরআনের সাথে সম্পর্ক।

আরো পড়ুনঃ মসজিদ নির্মাণের গুরুত্ব ও ফজিলত

যে ব্যক্তি প্রতিদিন কোরআন পড়ে বুঝে এবং সে অনুযায়ী জীবন গড়ে তোলে তার জন্য জান্নাতের উচ্চতার স্থান নির্ধারিত হয়। দুনিয়াতে হয়তো সে খুব সাধারণ মানুষ ছিল কিন্তু জান্নাতে সে হবে সম্মানিত ও উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন। তাই বলা যায় দুনিয়াতে কুরআনের সাথে যত বেশি সময় কাটানো হবে জান্নাতে আল্লাহ উচ্চতা দান করবে। জান্নাতের প্রবেশ যেখানে সবচেয়ে বড় সফলতা সেখানে উচ্চ মর্যাদা পাওয়া আল্লাহর পক্ষ থেকে অতুলনীয় পুরস্কার। তাই আমাদের প্রতিদিন বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা উচিত।

শেফা বা রোগমুক্ত 

শেফা বা রোগ মুক্ত আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এক মহান নিয়ামত আর কুরআন সেই শেফার অন্যতম মাধ্যম। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন তিনি কোরান নাযিল করেছেন যা মুমিনদের জন্য শেফা ও রহমত। কুরআনের আয়াত শুধু শরীরে রোগের জন্য নয় অন্তরের রোগ যেমন হতাশা ভয় দুশ্চিন্তায় হিংসা ও অস্থিরতার জন্য সেফা। প্রতিদিন কোরআন পড়লে মন শান্ত হয় হৃদয়ের শক্তি পায় এবং আল্লাহর উপর ভরসা দিয়ে হয় যার রোগ মুক্তির পথে একজন মানুষকে মানসিকভাবে শক্ত করে তোলে।

অনেক সময় মানুষ চিকিৎসা নিয়ে শান্তি পায় না। কারণ আসল কষ্টটা থাকে অন্তরের ভেতরে। কোরআন পড়লে সেই ভেতরের ব্যথায় প্রশান্তি এনে দেয়। অবশ্যই চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরী কিন্তু কোরান পড়া আল্লাহর উপর ভরসা রাখা রোগের কষ্ট সহ্য করা আল্লাহর ইচ্ছায় সুস্থতার দরজা খুলে দেয়। তাই কোরআন শুধু ইবাদত নয় বরং দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য এক পরিপূর্ণ শেফার উৎস।

উপসংহার প্রতিদিন কোরআন পড়ার ফজিলত ও উপকারিতা

প্রতিদিন কোরআন পড়া মানে নিজের জীবনকে আলোর পথে চালিত করা। এটা শুধু সওয়াব কাজ নয় বরং একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। কোরআন পড়লে লাভে লাভ দুনিয়া শান্তি আখেরাতের মুক্তি। আর কোরআন থেকে দূরে থাকলে ক্ষতির শেষ নেই তাই আজ থেকে ছোট করে হল প্রতিদিন কোরানের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরী। দুনিয়া ও আখেরাতে জীবনে সফলতা পেতে হলে অবশ্যই নামাজের পাশাপাশি কোরআন পড়া। উপরে প্রতিদিন কোরআন পড়ার ফজিলত ও উপকারিতা গুলো আলোচনা করেছি। আসুন সকল মুমিন ও মুসলমান ব্যক্তিরা কোরআনের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করি এবং পরকালে জান্নাত লাভ করি ধন্যবাদ।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সামিজা৪২ কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url