সকালে ব্যায়াম করার ১০টি উপকারিতা এবং সঠিক নিয়ম
সকালে ব্যায়াম করার ১০টি উপকারিতা এবং সঠিক নিয়ম গুলো জানব।মানুষ নিজে শরীর ফিট এবং স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চাই।নিজেকে ভালো রাখতে হলে ব্যায়ামের কোন বিকল্প নাই।নিয়ম করে সকালে ব্যায়াম করা উচিত।ব্যায়ামের ভিতর দিয়েই আপনার স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারবেন।
তবে সকালে ব্যায়ামটা হচ্ছে উত্তম। তবে বর্তমানে মানুষ এখন অনেকটা সচেতন। মানুষ নিজেকে ঠিক রাখার জন্য বার রোগ মুক্ত স্বাস্থ্যের জন্য সকালে অনেকে হাটে বা ব্যায়াম করে। নিচে সকালে ব্যায়াম করলে স্বাস্থ্যের কি উপকার হয় এবং ব্যায়ামের সঠিক নিয়ম গুলো জানব।
পেজ সূচিপত্রঃ সকালে ব্যায়াম করার ১০টি উপকারিতা এবং সঠিক নিয়ম
- সকালে ব্যায়াম করার ১০টি উপকারিতা
- সকালে ব্যায়াম করা সঠিক নিয়ম
- সকালে ব্যায়াম করার পর করণীয়
- সকালে ব্যায়াম করার সময় সতর্ক থাকতে হবে
- সকালে ব্যায়াম না করলে কি সমস্যা হতে পারে
- FAQ: প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর
- উপসংহার সকালে ব্যায়াম করার ১০টি উপকারিতা এবং সঠিক নিয়ম
সকালে ব্যায়াম করার ১০টি উপকারিতা
সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই আমাদের ব্যায়াম করতে হবে। সুস্থ থাকতে শরীর চর্চা বা ব্যায়াম করার বিকল্প উপায় নেই। কারণ ব্যায়ামের মধ্য দিয়ে আপনি আপনার শরীরে ফিটনেস বা বিভিন্ন রোগ বালাই থেকে রক্ষা পাবেন। তাই সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই আমাদের ব্যায়ামের প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে প্রতিদিন কমপক্ষে২৫-৩০ মিনিট ব্যায়াম করতে হবে। সপ্তাহে কমপক্ষে ৫ দিন ব্যায়াম করা উচিত।
আবার অনেকে মনে করেন কখন ব্যায়াম করলে ভালো হবে সকাল, দুপুর না রাত। কোন
সময়টা হচ্ছে ব্যায়াম করার জন্য আদর্শ সময়। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে দিনের
যে কোন সময় পরিবর্তে সকালের ব্যায়ামটা বেশি কার্যকর। সকালে ব্যায়াম করলে
হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক বা ক্যান্সারে মত রোগ অনেকটাই কমে
যায়। সকালে ব্যায়াম করার ১০টি উপকারিতা গুলো চলুন জেনে নিন।
- শরীর শক্তিশালী হয়ঃ অনেকে আছে শরীর নিয়ে কাজ করতে চাই না। কারণ শরীর দুর্বল লাগে এবং কাজের প্রতি মনোযোগ থাকে না। কেমন যেন আলসা লাগে মনে হয় যেন সারাদিন শুয়ে থাকে। তবে সকালে ব্যায়াম করলে শরীরে রক্ত চলাচল বাড়ে। এতে শরীর অনেক হালকা হয় এবং মন চাঙ্গা থাকে। কাজের মনোযোগ বাড়ে এবং শরীর শক্তিশালী হয়।
- দুশ্চিন্তা কমেঃ অনেকে আছে মানসিক চাপ প্রচুর দুশ্চিন্তায় ভুবেন। কখনো কাজের চাপ বা কখনো পারিবারিক সমস্যা। তখন মন মেজাজ ভালো থাকে না এবং বিভিন্ন মানসিক চাপে দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে সকালে ব্যায়াম মনকে শান্ত রাখে। ব্যায়ামের সময় শরীর থেকে হেপি হরমোন নিঃসৃত হয় যার টেনশন হতাশ দুচিন্তা কমাতে সাহায্য করে।
- ওজন নিয়ন্ত্রণঃ বর্তমানে মানুষের একটি কমন সমস্যা হচ্ছে ওজন। কারণ মানুষের খাবারের কোন সচেতনতা নেই। বা কাজের এত চাপ থাকে যে ওজন নিয়ন্ত্রণে সময় পায় না। এ সময় মানুষ অনেক দুশ্চিন্তায় থাকে। কিভাবে ওজন কমাবে। তবে ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য সকালের ব্যায়াম হবে আপনার জন্য অন্যতম। সকালে ব্যায়াম করলে শরীরের মেটাবলিজম বেড়ে যায়। এর ফলে সারাদিন বেশি ক্যালোরি পড়ে এবং অতিরক্ত মেয়াদও চর্বি কমাতে সাহায্য করে।
- হজমে উন্নতি করাঃ অনেক মানুষ আছে যাদের হজম শক্তি দুর্বল। খাবার খেলে সহজে হজম করতে পারে না। এর জন্য বিভিন্ন সমস্যা হয়। তবে এসব সমস্যার জন্য সকলের ব্যায়াম হবে আপনার জন্য উত্তম। নিয়মিত সকালে ব্যায়াম পা পাকস্থলী ভালো রাখে। ফলে গ্যাস, বদহজম এর সমস্যা কমে।
- হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখেঃ হাটা, দৌড়ানো বা যোগব্যায়াম হৃদযন্ত্রকে শক্তিশালী করে। এতে যাদের রক্তচাপ আছে বা শরীরের কোলেস্টেরল বেশি আছে তাদের সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে। আপনি যদি সকালে নিয়ম করে প্রতিদিন ব্যায়াম করেন তাহলে আপনার হৃদরোগের ঝুঁকি কমবে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
- রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়েঃ বর্তমানে মানুষকে বিভিন্ন রোগের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। কারণ খাবারে এত পরিমান ভেজাল থাকে যে যার কারণে মানুষের শরীরে রোগের অভাব নেই। কিন্তু আপনি যদি প্রতিদিন ব্যায়াম করেন তাহলে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। যারা সকালে নিয়মিত ব্যায়াম করে তাদের শরীরে ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। তবে যারা সাধারণত সর্দি কাশি এবং জ্বরে সহজে আক্রমণ হয় তারা তা থেকে রেহাই পাবে।
- ঘুমের মান ভালো করাঃ যারা রাতে ঠিক মত ঘুমাতে পারে না বা রাতে বারবার ঘুম ভেঙ্গে যায়। যার কারণে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। এতে করে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয়। কারণ ঘুম না হলে শরীর বা স্বাস্থ্য ভালো থাকে না। আর সেই সাথে মন ভালো থাকে না। তবে যারা নিয়মিত সকালে ব্যায়াম করে তাদের রাতের ঘুম গভীরও আরামদায়ক হয়। এতে করে ও নিদ্রা ও ঘুমের সমস্যা কমে যায়।
- মনোযোগ ও কর্ম ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়ঃ সকালে ব্যায়াম করলে কাজের মনোযোগ বাড়ে। ব্যায়াম করার পরে কেমন যেন শরীর হালকা হয়ে যায় এতে কাজের মনোযোগ ও কর্ম ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সকালে ব্যায়াম করলে শরীর অনেক হালকা হয়ে থাকে। সারাদিন কাজের এনার্জি পাওয়া যায়। আর সে সাথে মস্তিষ্কের অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ে। এতে করে মানুষের স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
- আত্মবিশ্বাস ইতিবাচক তৈরিঃ যারা সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে তাদের জন্য দিন ভালো যায়। কারণ সকালের পরিবেশ থাকে দূষণমুক্ত। যা মানুষকে একটা সতেজ অক্সিজেন পাওয়া যায়। তাই প্রতিদিন সকালের ব্যায়াম করা অভ্যাস মানুষের মধ্যে আত্ম নিয়ন্ত্রণ ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলে। এতে দিনটা শুরু হয় ইতিবাচক মনোভাব দিয়ে।
- দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ জীবন নিশ্চিত করাঃ যারা প্রতিদিন ব্যায়াম করে তাদের জন্য অনেক উপকার। কারণ সকালের ব্যায়াম করলে বিভিন্ন রোগ বালাই থেকে শরীরকে রক্ষা করে। যাদের দীর্ঘমেয়াদী রোগ আছে যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্থূলতার। তবে যারা নিয়মিত ব্যায়াম করে তারা অনেকটাই ভালো থাকবে এবং জীবন যাত্রার মান উন্নত হবে।
সকালে ব্যায়াম করার সঠিক নিয়ম
ধর্মীয় অনুসারে সকালে ঘুম থেকে ওঠা হচ্ছে উত্তম। কারণ সকালে ঘুম থেকে উঠে এবাদত করা সবচেয়ে উত্তম কাজ। তারপরে আপনি সকাল শুরু করেন আপনার কাজ দিয়ে। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ব্যায়াম করা যাবে না। এজন্য আপনাকে কিছু নিয়ম ফলো করতে হবে। কারণ যেকোনো জায়গায় ব্যায়াম করা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হবে না। এজন্য ব্যায়াম করার জন্য কিছু সঠিক নিয়ম রয়েছে চলুন তা জেনে নিন।
আরো পড়ুনঃ
সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার ৭টি উপকারিতা
- সঠিক সময়ে ঘুম থেকে ওঠাঃ সকালে ব্যায়ামের জন্য খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠা ভালো। তবে পর্যাপ্ত পরিমাণে না ঘুমালে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। তাই আপনাকে রাতের ঘুম পুরা করতে হবে। সকালে ব্যায়াম করার জন্য। এজন্য আপনাকে প্রতিদিন একই টাইমে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করতে হবে। এবং একই টাইমে ঘুমানোর অভ্যাস করতে হবে।
- ঘুম থেকে ওঠার পরে ব্যায়াম নয়ঃ সকালে ঘুম থেকে উঠে উঠে ব্যায়াম করা ঠিক না। এতে আপনার স্বাস্থ্যের ঝুঁকি হতে পারে। এজন্য আগে আপনাকে ৫-১০ মিনিট হাটাহাটি বা হালকা নাড়াচাড়া করে শরীরকে জাগিয়ে নিতে হবে।
- গভীর শ্বাস নেওয়াঃ ঘুম থেকে ওঠার পরে আপনার প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নিন। তারপরে ব্যায়ামের জন্য প্রস্তুত নেন। এজন্য আপনাকে ব্যায়ামের আগে ২-৫ মিনিট ধীরে গভীর শ্বাস নিলে ফুসফুসের অক্সিজেন ভরে যায় এবং ক্লান্তি কম লাগে। এটা করলে আপনার শরীর ব্যায়ামের জন্য ভালো হবে।
- পেটের অবস্থা বুঝে ব্যায়াম বেছে নিনঃ যদি আপনার পেট একদম খালি থাকে তাহলে ভারী এক্সারসাইজ করবেন না। এতে আপনার সমস্যা হতে পারে। তাই স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম বেশি উপযোগী।
- শুরু হবে ধীরে এবং শেষ হবে ধীরেঃ যারা প্রথমে ব্যায়াম করা শুরু করবেন আসতে বা ধীরে করবেন। আপনি যদি প্রথমে জোরে জোরে ব্যায়াম করেন তাহলে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি থাকবে। বা আপনি খুব তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে পড়বেন। আবার হঠাৎ গতি বাড়ানো বা হঠাৎ থামা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই ব্যায়াম শুরু ও শেষ করুন ধীরে বা আসতে।
- শরীরের সংকেত বুঝাঃ অনেক সময় ব্যায়াম করলে একটুতেই হাঁপিয়ে যায়। বা হালকা মাথায় লাগা চোখে ঝাপসা হওয়া বা অস্বস্তি লাগলে সাথে সাথে থেমে যায়। জোর করে চালিয়ে যাবেন না ব্যায়াম করা। এতে আপনার ক্ষতি হতে পারে।
- একই রকম ব্যায়াম না করাঃ প্রতিদিন একই রকমই ব্যায়াম করবেন না। একই রকম ব্যায়াম করলে সেটাতে আপনি অভ্যস্ত হয়ে যাবেন তাই ২ পরপর ব্যয়ামের ধরন চেঞ্জ করুন।
- খোলা জায়গায় ব্যায়াম করাঃ যেখানে আলো বাতাস বেশি থাকে বা বাতাস চলাচল সেসব জায়গায় ব্যায়াম করুন। এতে আপনার শরীর প্রাকৃতিক ভাবে অক্সিজেন পাবে। এবং আপনার ব্যায়াম করতে ভালো লাগবে।
- কথা কম বলাঃ অনেকে আছে ব্যায়াম করার সময় অনেক কথা বলে এতে মনোযোগ নষ্ট হয়ে যায়। এতে আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই যখন ব্যায়াম করবেন তখন কথা না বলাই ভালো।
- ঘাম মানে সকল ব্যায়াম নয়ঃ আমরা যখন হাটি বা ব্যায়াম করি তখন আমাদের শরীর থেকে ঘাম বের হয়। অনেকে মনে করেন ঘাম বের হলে শরীরে চর্বি কমে। তবে এটা ঠিক নয় ঘাম কম হল ব্যায়ামের কার্যকর হতে পারে। ঘামের পরিমাণ দিয়ে ব্যায়ামের মান বিচার করা ঠিক না।
- অভ্যাসকে গুরুত্ব দিনঃ অনেকে আছে একদিন ব্যায়াম করে দুই দিন নাই। আবার তারপর দিন থেকে শুরু করে। এভাবে ব্যায়াম করলে কখনো উপকার হবে না। তাই আমাদের সকলের উচিত প্রতিদিন একটু করে হলো ব্যায়াম করা বা হাটা।
সকালে ব্যায়াম করার পর করণীয়
উপরে জানলাম সকালে ব্যায়াম করার ১০টি উপকারিতা এবং ব্যায়াম করা সঠিক নিয়ম। এখন
আমরা জানব সকালে ব্যায়াম করার পর করণীয় কি। কারণ ব্যায়াম করার পরে এমন কিছু
আমরা করে বসি যা উপকারের থেকে অপকার বেশি হয়। তবে আমাদের স্বাস্থ্যের দেখে
লক্ষ্য রেখে অবশ্যই আমাদের স্বাস্থ্য টিম বা ব্যায়ামের পরে করণীয় কি সেগুলো
সঠিকভাবে করা। কারণ আমরা স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্যই তো ব্যায়াম করি। যদি
ব্যায়াম করে উপকারে না আসে তাহলে সেটা ঠিক হবে। আসুন নিচে জেনে নেই ব্যায়াম
করার পরে আমাদের করণীয় কি।
- ব্যায়াম করতে করতে হঠাৎ থেমে যাওয়া যাবে না।
- শরীরের স্বাভাবিক করতে হবে এবং ব্যায়ামের পথ ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিতে হবে।
- ঘামে ভেজা শরীর সঙ্গে সঙ্গে ফ্যান বা এসির সামনে দাঁড়ানো ক্ষতিকর। আগে শরীর একটু শুকাতে দিতে হবে।
- একবারে অনেক পানি না খেয়ে অল্প অল্প করে পানি খেতে হবে।
- শরীরের ঘাম জমে থাকলে ঠান্ডা লাগতে পারে। তাই ঘাম মুছে পরিষ্কার কাপড় পরিধান করতে হবে।
- ব্যায়ামের পরে স্ট্রেচিং করলে পেশি ব্যথা কমে এবং শরীর আরাম পায়।
- ব্যায়ামের পরের সঙ্গে সঙ্গে গোসল করা ঠিক নয়। কমপক্ষে ১৫-৩০ মিনিট অপেক্ষা করা ভালো।
- ব্যায়ামের পরে ভারী বা তেল ঝাল খাবার না খেয়ে ফল, দুধ বা হালকা খাবার খাওয়া ভালো।
- ব্যায়ামের পরে ৫-১০ মিনিট নীরবে বসে থাকলে মন শান্ত হয় এবং শরীরের ক্লান্ত দ্রুত কাটে।
- ব্যায়ামের পরে পরে মোবাইল বা স্কিন থেকে দূরে থাকা ভালো।
- ব্যায়াম করার পরে শরীরের অনুভূতিগুলো লক্ষ্য করুন।
- নিজেকে বাহবা দিন।
সকালে ব্যায়াম করার সময় সতর্ক থাকতে হবে
সকালে ব্যায়াম করার কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সতর্ক থাকা খুবই জরুরী। যেমন ঘুম
থেকে উঠে শরীর পুরোপুরি সক্রিয় থাকে না । তাই হঠাৎ করে যখন আপনি
ভারী ব্যায়াম শুরু করা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হবে না। বরং ভালো থেকে
ক্ষতির পরিমাণ বেশি হবে। যেমন পেশিতে টান পড়ে, হঠাৎ ক্লান্তি দেখায় এবং
মাথা ঘোরার সম্ভাবনা থাকে। তাই ঘুম থেকে উঠে প্রথমে একটু নড়াচড়া করে শরীরকে সচল
করে নেবে এবং ধীরে ধীরে শরীরকে প্রস্তুত করতে হবে ব্যায়ামের জন্য।
সকালে ব্যায়াম করার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন শরীরের সংকেত গুলো। কারণ সকাল
বেলায় খালি পেটে যখন ব্যায়াম করবেন তখন সতর্ক থাকবেন। সারারাত না খেয়ে
থাকার পর শরীর কিছুটা দুর্বল থাকে। এ অবস্থায় আপনি যদি ভারী
কোন যন্ত্রপাতি দিয়ে ব্যায়াম করেন তাহলে আপনার দুর্বলতা অনুভূতি হবে। তাই
নিজের শরীরের অবস্থা কথা মাথা রেখে হালকা ব্যায়াম বেছে নেওয়ায় ভালো।
অনেকে আছেন ব্যায়াম করতে করতে হঠাৎ গতি বাড়িয়ে দেয় যা নিঃশ্বাস আটকা
রাখার বড় ধরনের ভুল। এতে হার্টবিট অস্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে। তাই ধীরে ধীরে গতি
বাড়ানো এবং স্বাভাবিকভাব শ্বাস-প্রশ্বাস চালিয়ে যাওয়াই নিরাপদ ও উপকারী। আবার
ব্যায়ামের সময় হালকা ক্লান্তি স্বাভাবিক হলো ব্যথা শুরু হলে সেটাকে অবহেলা করা
উচিত নয়।
তবে ব্যায়াম করার সময় অবশ্যই আবহাওয়ার দিকে নজর দিবেন। খুব ঠান্ডা কুয়াশা বা অতিরিক্ত গরমের সময় এই ধরনের ব্যায়াম শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এছাড়া অসুস্থ অবস্থায় ব্যায়াম করার একেবারে ঠিক নয়। কারণ এতে উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি হবে।সবশেষে বলা যায় সকালে ব্যায়াম করার সময় শরীরের সংকেত বোঝা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে ব্যায়াম না করে ধৈর্য ও নিয়ম মেনে চলে ব্যায়ামের আসল উপকার পাওয়া যায়।
সকালে ব্যায়াম না করলে কি সমস্যা হতে পারে
সকালে নিয়মিত ব্যায়াম না করলে শরীর ও মন ধীরে ধীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে
পারে। সকালে শরীর স্বাভাবিকভাবে একটু অলস অবস্থায় থাকে। যার কারণে কোন কাজ মন
বসে না। যদি আপনি ব্যায়াম না করেন তাহলে এই আলসে তা সারাদিন বয়ে বেড়াতে হবে।
যার কারণে আপনার সারাদিন ক্লান্ত লাগবে এবং কাজের গতি কমে যাবে।
ব্যায়ামের অভাবে শরীরের মেটাবলিজম ধীর হয়ে পড়ে। যার ফলে অতিরিক্ত ক্যালরি
ঠিকভাবে খরচ হয় না। যার ফলে আপনার শরীরে ওজন বেড়ে যায়। এবং পেটে চর্বি জমে
সেটা একটা বড় ভুড়িতে আকার ধারণ করে। এবং তখন দেখতে খুব খারাপ লাগে। দীর্ঘদিন
এভাবে চলতে থাকলে আপনার ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
আরো পড়ুনঃ
রাতে বাচ্চাদের কলা খাওয়ার ১৩টি উপকারিতা এবং নিয়ম
সকালে যারা ব্যায়াম না করে তারা বিভিন্ন রোগের সমস্যা পরে। অনেক গবেষণায় বলা
হয়েছে সকালের ব্যায়াম বা হাটা একটা মানুষকে সুস্থ রাখার জন্য অনেক
গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সকালবেলায় ব্যায়াম করলে বিভিন্ন রোগবালায় থেকে নিজেকে
রক্ষা করা যায়। যারা নিয়ম করে প্রতিদিন ব্যায়াম করে তারা বিভিন্ন সমস্যা থেকে
নিজেকে রক্ষা করতে পারবে। সকালে ব্যায়াম বাদ দিলে শরীর ধীরে ধীরে অসুস্থতার দিকে
এগিয়ে যায় এবং সুস্থ ও কর্ম খায় জীবন যাপন কঠিন হয়ে পড়ে।
FAQ: প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্নঃ প্রতিদিন কত ঘন্টা ব্যায়াম করা উচিত?
উত্তরঃ প্রতিদিন সাধারণভাবে ৩০ থেকে এক ঘন্টা ব্যায়াম করায় শরীর সুস্থ রাখার
জন্য যথেষ্ট। তবে বয়স, শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাস্থ্যের অবস্থা অনুযায়ী এর সময়
কম বা বেশি হতে পারে।
প্রশ্নঃ সকালে হাঁটলে কি উপকার হয়?
উত্তরঃ সকালে হাঁটলে শরীর হালকা থাকে, মন ভালো থাকে এবং রক্ত চলাচল ভালো হয়।
সকালে হাঁটলে সারাদিন শরীর এতটাই ভালো লাগে যে কাজ করতেই ভালো লাগে এবং বিভিন্ন
রোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়।
প্রশ্নঃ ব্যায়াম কত দ্রুত স্বাস্থ্যের উন্নতি করে?
উত্তরঃ নিয়মিত ব্যায়াম শুরু করলে সাধারণত ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে শরীরে হালকা
পরিবর্তন ও ফ্রেশ অনুভুতি হয়। এবং ওজন অনেকটা হালকা মনে হয়।৬-৮ সপ্তাহে শক্তি,
সহনশীলতা ও সামগ্রী স্বাস্থ্যের স্পষ্ট উন্নতি বোঝা যায়।
উপসংহার সকালে ব্যায়াম করার ১০টি উপকারিতা এবং সঠিক নিয়ম
সুস্থ ও কর্মফল জীবন যাপনের জন্য ব্যায়ামের কোন বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে
সকালের ব্যায়াম করা অভ্যাস শরীর ও মন দুটোর জন্য অত্যন্ত উপকারী। সকালে শান্ত
পরিবেশ, বিশুদ্ধ বাতাস এবং ফ্রেশ মন নিয়ে ব্যায়াম করলে তার সুফল আরো বেশি
পাওয়া যায়। বর্তমানে ব্যস্ত জীবন যাপনে অনেকে শরীরচর্চা করতে পারে না যার
ফলে নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। তাই আমাদের সুস্থ থাকতে হলে
প্রতিদিন নিয়ম করে ব্যায়াম করা জরুরী।
সুস্থ জীবন যাপনের জন্য সকালে ব্যায়াম করার ১০টি উপকারিতা এবং সঠিক নিয়ম
জানা এবং তা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরী। তাই নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীর থাকবে ফিট
মন থাকবে প্রফুল্ল এবং জীবন হবে আরো সুন্দর। তাই আজ থেকে ছোট করে শুরু করি এবং
ধীরে ধীরে ব্যায়াম আমাদের জীবনের একটা অংশ হয়ে উঠবে। আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে
পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

সামিজা৪২ কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url