সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার ৭টি উপকারিতা এবং অপকারিতা

সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার ৭টি উপকারিতা সম্পর্কে জানব। সুস্থ জীবন যাপনের জন্য ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবার বর্তমানে ব্যস্ত জীবনে সুষ্ঠু থাকার জন্য সঠিক জীবন যাপন অত্যন্ত জরুরী। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ঘুমের সময় এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস।

সকালে-তাড়াতাড়ি-ঘুম-থেকে-ওঠার-৭টি-উপকারিতা

অনেকে মনে করেন সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা স্বাস্থ্যের জন্য খুব ভালো।আবার কেউ বলেন এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।কিন্তু  সত্যি কি সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা সবার জন্য উপকারী নাকি এর কিছু অপকারিতা আছে।এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিতভাবে জানবো।

পেজ সূচিপত্রঃ সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার ৭টি উপকারিতা এবং অপকারিতা

সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার ৭টি উপকারিতা

বর্তমানে মানুষ অনেক ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে জীবন যাপন করে। কাজের এতটা চাপ থাকে যে মানুষ সময় মতন ঘুমাতে পারে না। কিন্তু ঘুম হচ্ছে আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদি সঠিকভাবে ঘুমাতে না পারা যায় বা ঘুমে পূর্ণতা না আছে তাহলে শরীর ভালো থাকে না। এমনকি কাজে মন বসে না। তাই আমাদের সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে।

আবার অনেকে আছে রাতে দেরি করে ঘুমাই আর সকালে উঠতে চাই না। কিন্তু সুস্থ থাকতে হলে বা ধর্মীয় অনুসারে সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করতে হবে। সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠলে কাজ ও স্বাস্থ্যের দুটো উপকার আছে। আসুন নিচে জেনে নেই সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার ৭টি উপকারিতা সম্পর্কে।

  • মানসিক স্বাস্থ্যের উপকারিতাঃ সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠলে মন সাধারণত বেশি শান্ত থাকে। ভোরের পরিবেশ নিরব ও দূষণমুক্ত হয় মানসিক চাপ কম হয়। এ সময়টাই কাজে ও পড়ালেখায় মনোযোগ বাড়ে এবং দুশ্চিন্তা তুলনামূলক কম থাকে। যারা নিয়মিত সকালে ঘুম থেকে উঠে তাদের মধ্যে একটা আলাদা অনুভূতি হয় । এবং তাদের মধ্যে বিষন্নতা ও উদ্বিগ্নতা কম দেখা যায়।
  • শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নতিঃ সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা শরীরকে সক্রিয় রাখে। ভোরের হালকা হাটা, ব্যায়াম বা যোগ্য ব্যায়াম করলে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। এতে হজম শক্তি বাড়ে এবং শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমার প্রবণতা কমে। নিয়মিত ভরে ওঠা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণের সহায়কঃ যারা সকালে তাড়াতাড়ি উঠে তারা সাধারণত সময় মত খাবার খায়। সকালে নাস্তা বাদ পড়া সম্ভাবনা কম থাকে। অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কম হয়। মেটাবলিজম ভালো থাকে। এ কারণে ওজন নিয়ন্ত্রণে সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা একটি সহায়ক অভ্যাস। 
  • পড়াশোনা ও কাজে মনোযোগ বাড়েঃ ভোরের সময়টাকে বলা হয় গোল্ডেন আওয়ার। এ সময় মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি ফ্রেস থাকে। এ সময় পড়ালেখা করলে মনে থাকার খুব দ্রুত। অফিস বা ঘরের কাজ গুছিয়ে করা যায়। এতে করে সময় কম লাগে এবং তাড়াতাড়ি কাজ হয়ে যায়। অনেক সফল মানুষ সকালে তাড়াতাড়ি ওঠার অভ্যাসকে তাদের সাফল্যের অন্যতম কারণ মনে করেন।
  • সময় ব্যবস্থাপনা উন্নতি হয়ঃ সকালে তাড়াতাড়ি ওঠার ফলে দিনের শুরুটা গোছানো হয়। সময় অপচয় কম হয় এবং কাজগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী করা যায়। এতে দৈনন্দন জীবনের শৃঙ্খলা আছে এবং কাজের চাপ কম অনুভূতি হয়।
  • ধর্মীয় ও আত্মিক উপকারিতাঃ অনেক ধর্মে ভোরের সময়কে পবিত্র মনে করা হয়। সকালে তাড়াতাড়ি ওঠার ফলে নামাজ, প্রার্থনা বা ধ্যান করার পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়। এতে আর্থিক শান্তি আছে এবং মানসিকতা স্থিরতা তৈরি হয়। যারা সকালে ঘুম থেকে উঠে তারা ব্যায়ামের জন্য বা স্বাস্থ্য জন্য ভালো হয়। এটি মানুষের চরিত্র গঠনের ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
  • ত্বক ও সৌন্দর্যের উপকারিতাঃ যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে রাতে ঘুম হয় তাহলে স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ত্বকের ও সৌন্দর্য বাড়ে। কারণ ঠিক মতন ঘুম না হলে চোখের নিচে ড্রাক সার্কেল পড়ে যায়। এতে ত্বকের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। যদি পর্যাপ্ত ঘুম নিয়ে সকালে ওঠার ত্বকের জন্য ভালো। এতে ত্বক উজ্জ্বল থাকে এবং ব্রণ বা কালচে ভাব কম হয়। ভোরের বাতাস ও সূর্যের আলো শরীরের জন্য উপকারী হয় ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে।

সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা বলতে কি বোঝায়

সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা বলতে বোঝায় ভোর পাঁচটা থেকে ছয়টার মধ্যে ঘুম থেকে ওঠাকে সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা বলা হয়। তবে এটা সবার জন্য একই নয়। যার যে সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস, কাজের ধরন ও শারীরিক অবস্থা তার ওপর নির্ভর করে তাড়াতাড়ি কথাটার অর্থের বদলাতে পারে। আসলে সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা মানে হলো রাতে  পর্যাপ্ত ৭-৮ ঘন্টা ঘুম নিয়ে সূর্য ওঠার আগে বা ভরে জেগে ওঠা।

আরো পড়ুনঃ শীতকালে দুধ খাওয়ার ৭টি উপকারিতা 

এতে শরীর ও মন বেশি হতে থাকে এবং দিনের কাজগুলো গোছানোভাবে শুরু করা যায়। তবে যারা সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে তারা কাজের জন্য প্রচুর সময় পায়। সকালের সতেজ বাতাস শরীর ও মনকে চাঙ্গা করে দেয়। সকালের পরিবেশটা অনেকটাই দূষিত মুক্ত থাকে যা আমাদের শ্বাস প্রশ্বাসের জন্য অনেক উপকার। তাই যারা সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠে তারা এই সতেজ বাতাসের শ্বাস প্রশ্বাস নিতে পারে। এতে করে মন ও স্বাস্থ্য দুটোই ভালো থাকে।

সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার অপকারিতা

সব অভ্যাসের মতো সকালেও তাড়াতাড়ি ওঠারও কিছু অপকারিতা রয়েছে। বিশেষ করে যদি এটি ভুল ভাবে করা হয়। যদি সঠিক টাইমে ঘুম না হয় বা আপনার যদি পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম না হয় তাহলে সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠলে আপনার স্বাস্থ্যের অনেক ক্ষতি হবে। তাই রাত্রে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যেয়ে সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হবে। কিন্তু আপনি যদি ভুল ভাবে বা সঠিক নিয়ম পালন না করে সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠেন তাহলে আপনার শরীরের এই অপকারিতা গুলো দেখা দিবে।

  • পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্ষতিঃ যদি রাতে ঠিকমত না ঘুমিয়ে জোর করে সকালে ওঠা হয় তাহলে উপকারের বদলে ক্ষতি হতে পারে। যেমন সারাদিন ক্লান্ত অনুভব, মাথা ব্যথা ও চোখ জ্বালা, রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কমে যাওয়া। পর্যাপ্ত ঘুম ছাড়া সকালে ওঠা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
  • সবার জন্য উপযোগী নয়ঃ সব মানুষের শরীরের ঘড়ি একরকম নয়। যারা রাত জেগে কাজ করেন তাদের জন্য সকালে ওঠা নিরাপদ নয়। আবার যারা নাইট শিফটে চাকরি করেন এবং যাদের ঘুমের সমস্যা আছে তাদের জন্য সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা সঠিক নয়।
  • মানসিক বিরক্তি ও খিটখিটে ভাবঃ ঘুম কম হলে মানুষের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। কোন কাজে মন বসে না। কারো সাথে ভালো আচরণ করে না। সেসব লোক অল্পতে রেগে যায়। মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হয় এবং কাজের পথে আগ্রহ কমে যায়। এতে ব্যক্তিগত পারিবারিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
  • শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ঝুঁকিঃ শিশু ও বয়স্কদের ঘুমের প্রয়োজন তুলনামূলক বেশি। জোর করে সকালে তাড়াতাড়ি উঠালে শিশু শারীরিক বৃদ্ধির সমস্যার ঘটাতে পারে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে দুর্বলতা ও মাথা ঘোরা দেখা দিতে পারে। তাই বয়স অনুযায়ী ঘুমের সময় ঠিক করা জরুরী।

সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার সঠিক নিয়ম

ওপরে সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার ৭টি উপকারিতা এবং অপকারিতা সম্পর্কে জেনেছি। আমরা এখন জানবো সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার সঠিক নিয়ম। কারণ সকলে ঘুম থেকে উঠতে হলে অবস্থা আমাদের রাতের কিছু কাজ গুলো পালন করতে হবে। যেগুলো পালন করলে আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে না এবং সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠতে পারবো। আসুন নিচে নিয়ম গুলো সম্পর্কে জেনে নিন।

  • রাতে সময় মত ঘুমানোঃ সকালে তাড়াতাড়ি উঠতে হলে আগে নিশ্চিত করতে হবে পর্যাপ্ত ঘুম। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন ৭-৮ ঘন্টা, শিশুদের আরও বেশি ঘুমের প্রয়োজন। রাতে দেরিতে ঘুমিয়ে ভরে ওঠা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
  • ঘুমানোর নির্দিষ্ট সময় ঠিক করাঃ প্রতিদিন একই সময় ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস করলে শরীরের বডি ক্লিক ঠিক থাকে। এতে এলার্ম ছাড়া স্বাভাবিকভাবে সকালে ঘুম ভাঙতে শুরু করে।
  • ধীরে ধীরে সময় এগিয়ে আনাঃ হঠাৎ খুব ভরে ওঠার চেষ্টা করা উচিত নয়। প্রতিদিন ১০-১৫ মিনিট করে আগেভাগে ওঠার অভ্যাস করলে শরীর সহজে মানিয়ে নেয়।
  • ঘুমানোর আগে মোবাইল ও স্কিন ব্যবহার কমানোঃ বর্তমানে সবচেয়ে খারাপ অভ্যাস হচ্ছে মোবাইল ব্যবহার করা। মানুষ মোবাইলের প্রতি এতটাই আসক্ত হয়ে পড়েছে যে মোবাইল পাশে নিয়ে ঘুমিয়ে যাই। আর এটা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর। তাই মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলো ঘুমের হরমোন মেলাটোনিন কমিয়ে দেয়। ঘুমানোর অত্যন্ত এক ঘণ্টা আগে স্কিন ব্যবহার বন্ধ করা ভালো।
  • রাতে হালকা খাবার খাওয়াঃ ভারী বা অতিরিক্ত ঝাল খাবার রাতে ঘুমের সমস্যা তৈরি করে। হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খেলে গভীর ঘুম হয় এবং সকালে উঠতে সুবিধা হয়।
  • ঘুমানোর পরিবেশ আরামদায়ক করাঃ রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পরিবেশটাকে আরামদায়ক করতে হবে। যেমন ঘর অন্ধকার ও শান্ত রাখা, আরামদায়ক বিছানা ব্যবহার এবং অতিরিক্ত আলো ও শব্দ এড়ানো। ভালো পরিবেশ ঘুম হলে সকালে শরীল ফ্রেশ থাকে।
  • সকালে এলারাম বারবার বন্ধ না করাঃ বারবার স্নুজ দিলে শরীর আরো ক্লান্ত হয়ে পড়ে। একবার এলারাম বাজলে উঠে বসার চেষ্টা করা ভালো।
  • ঘুম থেকে উঠে হালকা নড়াচড়া করাঃ সকালে উঠে হালকা স্ট্রেচিং বা হাটা সলিকে দ্রুত জাগিয়ে তোলে। এতে অলসতা ও ঝিমুনি কমে যায়।
  • সকালে সূর্যের আলো নেওয়াঃ সকালে প্রাকৃতিক আলো শরীরের ঘড়িকে সক্রিয় করে। এতে ঘুমে চক্র ঠিক থাকে এবং দিনভর এনার্জি পাওয়া যায়।
  • নিজের শরীরের সংকেত বুঝে চলাঃ যদি খুব বেশি ক্লান্ত, মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা এবং অসুস্থতা অনুভব হয়। তাহলে জোর করে ভরে ওঠা উচিত নয় প্রয়োজন বিশ্রাম নেয়া জরুরী।

কোন বয়সে সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা বেশি উপকারী

কোন বয়সে মানুষদের সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা জরুরী। কারণ প্রত্যেক মানুষের জন্য আলাদা আলাদা ঘুমের বা বিশ্রামের প্রয়োজন। কারণ ঘুম হচ্ছে মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই সে সব লোকেদের সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা উচিত। আসুন নিচে জেনে নেই কোন বয়সে লোকেদের সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠলে বেশি স্বাস্থ্যের উপকার হবে।

  • শিশুদের ক্ষেত্রে (৩-১২ বছর ) ঃ শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত ঘুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ বয়সে জোর করে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠানো ঠিক নয়। তবে যদি তারা রাতে সময় মত ঘুমায় তাহলে স্বাভাবিকভাবে সকালে ওঠা উপকারী হতে পারে। ঘুমের সময় ঠিক থাকলে সকালবেলা উঠা ভালো কিন্তু ঘুম কমানো যাবে না।
  • কিশোর কিশোরীদের ক্ষেত্রে ( ১৩-১৮ বছর ) ঃ এ বয়সে শরীর ও মস্তিষ্কের দ্রুত বিকশিত হয়। অতিরিক্ত পড়াশোনা বা মোবাইল ব্যবহার কারণে রাতে দেরি করে ঘুমানো হলে ভোরে ওঠা ক্ষতিকর হতে পারে।৭-৮ ঘন্টা ঘুম নিয়ে সকালবেলা উঠলে পড়াশোনা মনোযোগ বাড়ে।
  • তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ( ১৮-৪০ বছর) ঃ এ বয়সে সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা সবচেয়ে বেশি উপকারী। যেমন কাজ ও পড়াশোনায় ফোকাস বাড়ে, শরীল বেশি ও এনার্জিটিক থাকে। ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে ওঠে। তাই রাতে সময় মত ঘুমালে এ বয়সে ভোরে ওঠা সবচেয়ে বেশি সুফল পাওয়া যায়।
  • মধ্যবয়স্কদের ক্ষেত্রে ( ৪০-৬০ বছর ) ঃ এ বয়সে স্বাস্থ্য সচেতন হওয়া জরুরী। সকালবেলা তাড়াতাড়ি উঠে হাঁটা, হালকা ব্যায়াম ও মেডিটেশন শরীরের জন্য উপকারী। খুব ভোরে নয় কিন্তু সকালবেলা নিয়মিত ওঠা ভালো।
  • বয়স্কদের ক্ষেত্রে ( ৬০ বছর উর্ধ্বে ) ঃ বয়স্কদের ঘুম সাধারণত হালকা হয়। ভোরের স্বাভাবিকভাবে ঘুম ভেঙ্গে গেলে ওঠে পড়া ভালো তবে জোর করে ওঠা ঠিক নয়। ঘুমের প্রয়োজন অনুযায়ী সকালবেলা উঠাই নিরাপদ।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

ঘুম বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের মতে সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা ভালো না খারাপ এটি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে ঘুমের সময়ের চেয়ে ঘুমের পরিমাণ ও মানের ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ৭-৮ গভীর ঘুম প্রয়োজন। ডাক্তাররা বলেন মানুষের শরীরে একটি প্রাকৃতিক ঘড়ি থাকে। কেউ স্বাভাবিকভাবে ভোরে ওঠেন আবার কেউ রাতে বেশি সচল থাকেন। যে সময়ে শরীরের স্বাচ্ছদ বোধ করে সে সময় অনুযায়ী কোন জাগরণের রুটিন হওয়া স্বাস্থ্যকর।

বিশেষজ্ঞদের মতে শরীরের সংকেত অপেক্ষা করে জোর করে ভোরে ওঠা হলে যেমন মাথা ব্যথা, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং মেজাজ খিটখিটে হওয়া। এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে তাই ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিন একই সময় ঘুমানো ওঠা এটি সুস্থ জীবনের মূল চাবিকাঠি। সকালে পাঁচটা বা সাতটা কোন সময় ওঠা হচ্ছে তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত ঘুমের রুটিন বজায় রাখা।

আরো পড়ুনঃ ১০টি শীতকালীন সবজির নাম ও পুষ্টিগুণ

বিশেষজ্ঞরা মতে, কিছু ক্ষেত্রে ভোরে ঘুম থেকে উঠে এড়াতে বলেন যেমন নাইট শিফটে কাজ করলে, অনিদ্রা বা ঘুমের রোগ থাকলে এবং অসুস্থ বা অতিরিক্ত দুর্বল হলে। এ অবস্থায় চিকিৎসকদের পরামর্শ নেয়া ভালো।বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালবেলা তাড়াতাড়ি ওঠা তখনই উপকারী যখন তা পর্যাপ্ত ওমান সম্মত ঘুমের সঙ্গে করা হয়। ঘুমের মান নিয়মতা ও শরীরের প্রয়োজন এর তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

FAQ: প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্নঃ সকালে ঘুম থেকে উঠতে কষ্ট হয় কেন?

উত্তরঃ সকালে ঘুম থেকে উঠতে কষ্ট হয় মূলত পর্যাপ্ত বা গভীর ঘুম না হওয়ার কারণে এবং অনিয়মিত ঘুমের রুটিন এর জন্য। রাতে দেরিতে ঘুমানো বেশি মোবাইল ব্যবহার করা ও মানসিক চাপ চাপে সকালে উঠতে অসুবিধা তৈরি করে।

প্রশ্নঃ সকালে ঘুম থেকে উঠে কি খাওয়া উচিত?

উত্তরঃ সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস কুসুম গরম পানি বা পানির সঙ্গে ভেজানো বাদাম বা কিসমিস খাওয়া ভালো। এরপর পুষ্টিকর নাস্তা যেমন ফল, ডিম, দুধ বা হালকা খাবার খেলে শরীরে সারাদিন এনার্জি থাকে।

প্রশ্নঃ সকালে ঘুম থেকে ওঠা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ?

উত্তরঃ সকালে ঘুম পুরা করে যদি তাড়াতাড়ি ওঠা যায় সাধারণত স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ এবং উপকার। কিন্তু ঘুম কম বা অনিয়মিত হলে এটি শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

লেখকের মন্তব্য সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার ৭টি উপকারিতা এবং অপকারিতা

সবদিক বিবেচনা করলে বলা যায় সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠার ৭টি উপকারিতা ও অপকারিতা দুটাই রয়েছে। এটি তখনই উপকারী হয় যখন রাতে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত করা যায়। ঘুমের সময়ের চেয়ে ঘুমের পরিমাণ, নিয়মিত রুটিন এবং শরীরের প্রয়োজন এ তিনটির বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ ও কর্মক্ষয় বয়সে সকালে তাড়াতাড়ি ওঠা মানসিক প্রশান্তি, শারীরিক সুস্থতা, সময় ব্যবস্থাপনা এবং কাজের মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। তবে শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যাক্তি বা যারা রাত জেগে কাজ করেন তাদের ক্ষেত্রে জোর করে ভোরে ওঠা ক্ষতিকর হতে পারে।

তাই অন্যের অভ্যাস অনুসরণ না করে নিজের জীবন ধারা ও শারীরিক অবস্থার সাথে মিলিয়ে ঘুম জাগরণের সময় ঠিক করায় বুদ্ধিমানের কাজ। তাই সময়মতো ঘুমানো এবং ঘুমের মান বজায় রাখলে সকালে ওঠার প্রাকৃতিক সুফল পাওয়া যায়। সুস্থ থাকার জন্য ভোরে কোথায় একমাত্র সত্য নয় বরং সঠিক নিয়ম, পর্যাপ্ত ঘুম নিয়ে দিন শুরু করায় হলো স্বাস্থ্যকর জীবনের আসল চাবিকাঠি। এ তখন ধরে আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সামিজা৪২ কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url