রাতে বাচ্চাদের কলা খাওয়ার ১৩টি উপকারিতা এবং নিয়ম

রাতে বাচ্চাদের কলা খাওয়ার ১৩টি উপকারিতা এই সম্পর্কে অনেক পিতা-মাতা এখনো সঠিক নিয়ম জানেনা। বাচ্চাদের খাবার নিয়ে অনেক অভিভাবক প্রচুর চিন্তায় থাকেন। বাচ্চারা খেতে চায় না ঠিক মত। বিশেষ করে রাতে বাচ্চাকে কি খাওয়াবো সেটা নিয়ে ভাবনার আরো বেশি।

রাতে-বাচ্চাদের-কলা-খাওয়ার-১৩টি-উপকারিতা

অনেকে বলেন রাতে কলা খেলে ঠান্ডা লাগে আবার কেউ বলেন কলা হজম ভালো করে কিন্তু আসলে সত্যিটা কি। আজকে আর্টিকেল আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব রাতে বাচ্চাকে কলা খাওয়ানো কতটা উপকারী এবং এর সঠিক নিয়ম সম্পর্কে।

পেজ সূচিপত্রঃ রাতে বাচ্চাদের কলা খাওয়ার ১৩টি উপকারিতা এবং নিয়ম

রাতে বাচ্চাদের কলা খাওয়ার ১৩টি উপকারিতা

বাচ্চাদের খাবার নিয়ে অভিভাবকদের চিন্তা শেষ নেই। কি খাওয়াবো, কখন খাওয়াবো, কতটুকু খাওয়াবো এর প্রশ্নগুলো অভিভাবকের নিত্যদিনের সঙ্গী। সব থেকে বড় সমস্যা হচ্ছে রাতে কি খাওয়াবো এই নিয়ে দ্বিধা আরও বেশি। অনেকে বলে রাতে কলা খাওয়া উচিত না ঠান্ডা লেগে যাবে বাচ্চাকে কিন্তু সত্যি কথা বলতে এই দুই মতের পিছনে প্রচলিত ভুল ধারণা।

কলা একটি পুষ্টিকর ও সহজলভ্য ফল। দামেজ সস্তা এবং সহজে পাওয়া যায়। কলার ভিতরে লুকিয়ে রয়েছে নানা ধরনের উপকারিতা। তবে রাতে বাচ্চাকে কলা খাওয়ানো টা কতটা নিরাপদ। এতে কি উপকার হয় বা কি ক্ষতি হয়। এসব বিষয় নিয়েই আর্টিকেলে আমরা জানবো রাতে বাচ্চাদের কলা খাওয়ার ১৩টি উপকারিতা চলুন নিচের বিস্তারিত জেনে নিন।

  • ঘুমের মান উন্নতি করেঃ কলা খাওয়ার পরে বাচ্চাদের শরীরে মেলাটোনিন এবং সোরোটোনিন হরমোন নিঃসরণ হয়। যা ঘুমের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। এসব হরমোন দেহকে শান্ত করে এবং ঘুমাতে সহায়তা করে আর সে সাথে ঘুমের গভীরতা বাড়ায়। তাই রাতে একটুকরো কলা খাওয়ালে বাচ্চা সহজে ঘুমিয়ে পড়ে এবং বারবার ঘুম ভাঙ্গে না।
  • হজমে সহায়তা করেঃ কলা ফাইবার সমৃদ্ধ এবং প্রাকৃতিকভাবে সহজপাচ্য। রাতে খাওয়ার পর পেটে হালকা খাবার থাকা জরুরী, যাতে হজম ঠিক থাকে। কলা সেই কাজটি করে। বিশেষ করে যে সব বাচ্চারা কষ্টি কাটানো রোগে ভুগে তাদের জন্য কলা রাতে সেরা ফল।
  • রাতে খালি পেটে ঘুমানোর প্রবণতা কমায়ঃ অনেক সময় ছোট বাচ্চারা রাতে খাবার খেতে চায় না। কিন্তু খালি পেটে ঘুমালে অনেক সমস্যা হতে পারে যেমন মাথা ব্যথা, খিচুনি এবং খিটখিট মেজাজের ইত্যাদি। এক্ষেত্রে কলা হতে পারে একটি সঠিক সমাধান। এটি হালকা, দ্রুত শক্তি দেয়, পেট ভরে এবং ঘুমের আগে খালি পেটে থাকার ঝুঁকি কমায়।
  • দুঃস্বপ্ন কমায়ঃ অস্ট্রেলিয়ার একটি শিশু স্বাস্থ্য গবেষণায় দেখার গেছে, রাতে কলা খাওয়ানো শিশুদের মধ্যে নাইটমেয়ার বা দুঃস্বপ্ন দেখার প্রবণতা কম। এর কারণ হতে পারে কলার ভিতরে ট্রিপটোফান ও সোরোটোনিন শরীরকে রিলাক্স করে এবং মানসিক চাপ কমায়। যে সকল বাচ্চারা রাতে ঘুমিয়ে দুঃস্বপ্ন দেখে কেঁদে ওঠে তাদের জন্য এই ফল হতে পারে সহায়ক।
  • ঘুমের সময় মস্তিষ্কের নিউরিন রিস্টোরেশন সহায়তা করেঃ ঘুমের সময় আমাদের মস্তিষ্কে নিউরন ক্লিন আপ প্রক্রিয়া চালায়। কলায় থাকা ভিটামিন বি৬ এবং ম্যাগনেসিয়াম নিউরন রিস্টোরেশন বা কোষ মেরামতের সহায়তা করে। এতে শিশুর স্মৃতি শক্তি, শেখার ক্ষমতা ও বৃদ্ধির বিকাশ ভালো হয়। বিশেষ করে রাতে ঘুমের সময়।
  • শিশুদের রাত্রিকালীন পেশির সংকোচন কমায়ঃ অনেক সময় বাচ্চা ঘুমের মধ্যে পায়ে ব্যথা বা খিচুনি অনুভব করে। এটি এক ধরনের নাইট স্ক্র্যাম্প যা ম্যাগনেসিয়ামের অভাব হতে পারে। কলা ম্যাগনেসিয়ামে ভরপুর। রাতে খাওয়ালে পেশির স্বাভাবিক সংকোচন ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
  • মুখ ও দাঁতের হালকা ব্যথা কমাতে সহায়কঃ দাঁত উঠার সময় দাঁতের যে কোন হালকা ব্যথা থাকলে বাচ্চারা রাতে ঘুমাতে চায় না। কলা নরমতা এবং ঠান্ডা অনুভুতি তাদের হালকা ব্যথা উপশমের সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে কলার সাথে এক ফোঁটা মধু মিশিয়ে দিলে আরামদায়ক একটি ঘরোয়া সমাধান হয়।
  • রাতে চিৎকার করে কান্নার প্রবণতা কমেঃ অনেক সময় বাচ্চারা অকারনে রাতের বেলা চিৎকার বা কান্নাকাটি করে। এর পেছনের কারণ হতে পারে ক্ষুধা, গ্যাস্ট্রিক ও মানসিক অস্থিরতা। রাতে কলা খাওয়ানো হলে এইসব উপসর্গ অনেকটাই কমে। শরীল ও মস্তিষ্ক দুটোই শান্ত থাকে।
  • শ্বাস প্রশ্বাসে সহায়তা করেঃ বাচ্চাদের অনেকের রাতে ঘুমাতে গিয়ে হালকা হুইজিং বা শ্বাসকষ্টে ভুগে। গলায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ম্যাগনেসিয়াম ব্রকিময়াল রিল্যাক্সেশন ঘটাতে সাহায্য করে। রাতে ঘুমের সময় শ্বাস প্রশ্বাসে স্বাভাবিক থাকে। রাতে কলা খাওয়ানোর ফলে।
  • কলায় প্রাকৃতিক চিনি থাকেঃ কলা হচ্ছে প্রাকৃতিক গ্লুকোজ ফরুক্টোজ ও সুক্রোজ এর উৎস যা শরীরের খুব দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে। বাচ্চারা যখন রাতে খেয়ে ঘুমাতে যায় তখন শরীরে গ্লুকোজ এর লেভেল কমে আসতে পারে। কলা যে ঘাটতি পূরণ করে যাতে ঘুমানোর সময় শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তি পায়। বাচ্চারা শরীর ও মস্তিষ্কে সারা রাতে ব্যালেন্স থাকে হঠাৎ ভেঙে যাওয়া দুর্বলতা দেখা দেয় না।
  • কলা খেলে দীর্ঘস্থায়ী শক্তি মিলেঃ যে শক্তি চিনি বা চকলেট থেকে আছে তা কয়েক মিনিটে শেষ হয়ে যায়। কিন্তু কলা খাওয়ার ফলে ধীরে ধীরে শক্তি ছড়িয়ে দেয় শরীরে। কারণ এতে থাকা কমপ্লেক্স কার্বোহাইডেট ধিরে হজম হয়। তাই বাচ্চারা সারারাত ঘুমের মধ্যে শক্তি ধরে রাখতে পারে।ফলে সকালে উঠে চাঙ্গা ও হাসি খুশি থাকে।
  • রাত্রিকালীন পানি খাওয়ার প্রবণতা কমঃ অনেক বাচ্চা বারবার ঘুম ভেঙ্গে পানি চায় যা ঘুমের ভিন্ন ঘটায়। কলাই প্রাকৃতিক ফুলইড ও মিনারেল থাকে যা হালকা হাইড্রেশন দেই। রাতে অতিরিক্ত পানিচার প্রবণতা কমে যায় এবং ঘুম ব্যাঘাত ঘটে না।
  • হাইডেশন ও ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স সহায়কঃ বাচ্চাদের রাতে কলা খাওয়ার উপকারিতা এটি অন্যতম একটি মাধ্যম। গরমকালে বা খেলাধুলার পর শিশুরা অনেক পানি খায়। কিন্তু শরীরের পটাশিয়াম ওসডিয়াম ভারসাম্য অনেক সময় ঠিক থাকে না। কলা এই ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। কলা শুধু বাচ্চাদের শক্তি যোগায় না বাচ্চাদের শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে স্বাস্থ্যবান রাখে। 

বাচ্চাদের কলা খাওয়ানোর সঠিক নিয়ম

রাতে বাচ্চাদের কলা খাওয়ার ১৩টি উপকারিতা সম্পর্কে জেনেছি। এখন আমরা জানবো বাচ্চাদের কলা খাওয়ার সঠিক নিয়ম। কখন খাওয়ানো যায়, কোন সময় কোন খাবার দিলে শরীর ভালো থাকে, হজম এবং ঘুম সব ঠিক থাকে তাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোন ফল খাওয়ালে কিছু শরীর ও স্বাস্থ্য ভালো থাকবে সেটাও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। তাই কলা যদিও পুষ্টিকর ফল তবুও কোন সময় বাচ্চাদের খাওয়ালে শরীর ভালো থাকবে তো তা জেনে নিন।

  • সকাল ৭-৯ ৯ টার মধ্যে নাস্তার সাথে কলা খাওয়ানো ভালো। কারণ শিশুর রক্তে গ্লুকোজ লেভেল কম থাকে ঘুমের পরে। কলার প্রাকৃতিক চিনি ও কার্বোহাইড্রেট শরীরের দ্রুত শক্তি যোগায়। স্কুলও খেলাধুলার জন্য সাজাতে থাকে মনোযোগ ও মনোভাব উন্নতি হয়।
  • দুপুর ১-৩টা খাবার খাওয়ার পরে কলা খাওয়াতে পারেন। তবে সঙ্গে ভারী বা ফ্যাট খাবার না দেওয়াই ভালো। কারণ দুপুরের খাবারের পর শিশু ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে। কলা সহজে খাবার হজম করে এবং পেট ভারে না করে শক্তি যোগ করে। এর ফলে শিশু বিকেলের খেলাধুলায় আরো সক্রিয় থাকে এবং মনোযোগ ভালো থাকে।
  • বিকেলে ৫-৬টার মধ্যে কলা খাওয়াতে পারেন। কারণ এতে করে শিশু খেলাধুলা বা স্কুলের পর ক্লান্ত হয়ে থাকে। কলার প্রাকৃতিক শর্করা ও পটাশিয়াম শরীরের দ্রুত এনার্জি দেই। ফলে শিশুর মন ভালো থাকে এবং খেলার জন্য শরীর প্রস্তুত হয়। আপনি আপনার বাচ্চাকে এভাবে কলা খাওয়াতে পারেন যেমন কলা কেটে তাতে সামান্য দারচিনি গুড়ো দিলে স্বাদ এবং হজমে সাহায্য করে।
  • রাতে ৮-৮.৩০ টা। ঘুমানোর ৩০ মিনিট আগে কলা খাওয়াবেন। কারণ কলা খেলে শরীরে হরমোন নিঃসরণ হয়। এতে শিশু ঘুম গভীর ও শান্ত পূর্ণ করে। যার ফলে বাচ্চা রাতে ঘুম ভাঙ্গে না সকালে উঠে আনন্দময় থাকে। তবে এটা খেয়াল রাখবেন রাতের খাবারের সঙ্গে খুব বেশি দূর বা ভারি খাবারের পর কলা না দিয়ে খালি বা হালকা খাবারের সঙ্গে কলা খাওয়ান। শীতকাল সময় আপনি বাচ্চাকে কলা খাওয়াতে পারেন এভাবে কলা গরম পানিতে ভিজিয়ে দিলে ঘুমের জন্য আরও নিরাপদ ও হজমে জন্য উপযোগী হয়।।

বাচ্চাদের জন্য কোন ধরনের কলা ভালো

কলা একটি পুষ্টিকর খাবার। তবে সব কলা বাচ্চাদের জন্য পুষ্টিকর নাও হতে পারে। তাই কলা যদিও স্বাস্থ্যকর হলো বাচ্চাদের জন্য তবুও সব ধরনের সমানভাবে নিরাপদ বা উপযোগী নয়। শিশুদের হজম, শক্তি ও ঘুমের উপর প্রভাব ফেলতে পারে কলার ধরন, পাকা অবস্থায় এবং খাওয়ানোর সময়। তাই বাচ্চাদের কলা খাওয়ানোর আগে অবশ্যই কলার ধরণের বিষয়ে মাথায় রাখতে হবে বাছাই করার ক্ষেত্রে।

  • মাঝারি পাকা কলাঃ হলুদ কিন্তু কোন দাগ বা কাল যে অংশ যেন না থাকে। খুব বাঁকা বা দাগ মুক্ত কলা এড়িয়ে চলুক কারণ অতিরিক্ত চিনি থাকতে পারে। বিকালে বাড়তে খাবার আগে এ ধরনের কলা খাওয়ানো ভালো।
  • সবুজ বা কম পাকা কলাঃ সবুজ চামড়া, র্ফাম বা আঁচড় চিহ্নহীন কলা। এসব কলা খাওয়ার ফলে শিশুদের হজম কিছুটা কষ্ট দেয় এবং স্টার্চ বেশি থাকে।১ বছরের বেশি হলে সামান্য পরিমাণ খাওয়ানো যায়। এতে ফলাফল শক্তি বেশি দেয় তবে রাতে ঘুমের আগে এড়িয়ে চলা ভালো। তবে এটা সতর্কতা থাকবেন ৬ মাসের ছোট শিশুদের জন্য সবুজ কলা খাওয়া ঠিক না।
  • দাগ মুক্ত বা অতি পাকা কলাঃ কলা কেনার সময় অবশ্যই মাথায় রাখবেন দাগ মুক্ত বা অতি পাকা কলা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো না। তাই বাজার থেকে কেনার সময় অবশ্যই এটা মাথায় রাখবেন। দাঁত মুক্ত বা বতি পাকা কলা শিশুদের খাওয়ালে হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে এবং গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে করে শিশুর শরীর ও স্বাস্থ্য খারাপ হতে পারে।৩ বছরের বেশি শিশুদের জন্য সীমিত পরিমানে কলা খাওয়ানো ভালো। রাতের খাবারের আগে এই ধরনের কলা এড়িয়ে চলা উচিত।

অতিরিক্ত কলা খাওয়ালে বাচ্চাদের কি কি ক্ষতি হতে পারে

কলা একদিকে যেমন পুষ্টিকর অন্যদিকে তা যদি অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়ানো হয় তাহলে শিশু শরীরের একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় অভিভাবকেরা ভাবেন শিশুর ফল তো খাচ্ছে এতে সমস্যা কি। কিন্তু সব খাবারের একটা সীমা ও ভারসাম্য থাকা উচিত। শুধু শিশু বলে নয় সব মানুষের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কোন কিছু ভালো না। তাই আমাদের সকলের উচিত কাজ বা খাবারের দিক দিয়ে এমনকি সবকিছু একটি নির্দিষ্ট সিমের মধ্যে রাখা উচিত। চলুন তাহলে নিচে জেনে নিন অতিরিক্ত কলা খাওয়ানোর ফলে শিশু শরীরে কি প্রতিক্রিয়া বা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আরো পড়ুনঃ কলার মোচা খাওয়ার ১০টি উপকারিতা

  • হজমে সমস্যাঃ যদি শিশুকে ১ দিনে একাধিক কলা খাওয়ানো ফলে শিশুদের স্বাস্থ্যের অনেক ক্ষতি হতে পারে। যেমন কোম্পানী খেলে তার শরীরের হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেই রকমই অতিরিক্ত কলায় থাকা স্টার্চ ও ট্যানিন হজম প্রক্রিয়া ধীর করে দেয়। উদাহরণ বাচ্চাদের পেটে ব্যথা, গ্যাস, ঢেকুর অথবা পায়খানা শক্ত হয়ে যেতে পারে। ১-৪ বছর বয়সের শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে কারণ তাদের হজম তন্ত্র এখনো পুরোপুরি পরিপক্ক নয়।
  • অতিরিক্ত ওজনঃ কলায় থাকা প্রাকৃতিক চিনি ও কার্বোহাইড্রেট সাধারণত উপকারী। তবে দিনে ২ টির বেশি কলা খেলে বাচ্চা শরীরে ক্যালরি জমা হতে শুরু করে। দীর্ঘ মিয়াদি এটি ওজন বৃদ্ধি, শিশুর অলসতা বা ডায়াবেটিক প্রবণতা তৈরি করতে পারে। যেসব বাচ্চা কম শারীরিক পরিশ্রম করে তাদের জন্য অতিরিক্ত কলা ক্ষতিকর হতে পারে স্বাস্থ্যের জন্য।
  • রক্তের চিনির মাত্রা বেড়ে যাওয়াঃ একটি মাঝারি কলাই প্রায় ১৪-১৫ গ্রাম প্রাকৃতিক চিনি থাকে। যদি একসাথে ২-৩ টিকলা খাওয়ানো হয় তাহলে শিশু রক্তে গ্লুকোজের মাত্র হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। যেমন অতিরিক্ত ঘাম, ক্লান্তি বা আচরণগত পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। যাদের ফ্যামিলি বা পারিবারিক ইতিহাসে ডায়াবেটিস আছে তাদের জন্য অতিরিক্ত কলা সতর্কতার সাথে খাওয়ানো উচিত বাচ্চাদের।
  • অতিরিক্ত পটাশিয়ামঃ কলায় পটাশিয়াম থাকে যা হার্ট এবং নার্ভ সিস্টেমের জন্য উপকারী। তবে দিনে ২-৩ টের বেশি কলা খেলে শরীরে অতিরিক্ত পটাশিয়াম জমে যেতে পারে। যাকে বলা হয় হ্যাপেরকালেমিয়া। উদাহরণ দুর্বলতা, হার্টবিট অস্বাভাবিক হওয়া, পেশিতে ঝাঁকনি বা ব্যথা। যদিও এটি খুব কম হয় তবুও নিয়মিত অতিরক্ত কলা খেলে এই সমস্যা দেখে দিতে পারে বাচ্চাদের শরীর ও স্বাস্থ্যে।
  • দাঁতের ক্ষয়ঃ অনেক সময় রাতে বাচ্চাকে কলা খাওয়ানো হয়। কলা খাওয়ানোর পর ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করা হলো না। তখন দেখা গেল বাচ্চার দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে কলা লেগে থাকতে পারে। এতে করে শিশুর বারবার কলা খাওয়ার ফলে এবং ঠিকভাবে ব্রাশ না করলে তাদের এনামেল ক্ষয় হয় দাঁত এতে করে দাঁত ক্ষয় হয়ে যেতে পারে। তাই অবশ্যই কলা খাওয়ার পর বাচ্চাদের মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে দিলে এবং দাঁত ব্রাশ করবেন।

FAQ: প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্নঃ৫ মাসের বাচ্চাকে রাতে কলা খাওয়ানো যাবে কি?

উত্তরঃ হ্যাঁ,৫ মাসের বাচ্চাকে রাতে অল্প পরিমাণে ভালোভাবে চটকানো কলা খাওয়ানো যেতে পারে। যদি ডাক্তার বা শিশুর খাবার শুরু করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে নতুন খাবার রাতে না দিয়ে দিনে দেওয়া ভালো যাতে কোন সমস্যা হলে সহজে বোঝা যায়।

প্রশ্নঃ বাচ্চাদের খালি পেটে কলা খাওয়া যাবে কি?

উত্তরঃ বাচ্চাদের খালি পেটে কলা খাওয়ানো যেতে পারে। যদি বয়স অনুযায়ী কঠিন খাবার শুরু হয়ে থাকে। তবে প্রথমে অল্প পরিমাণ দিয়ে দেখতে হবে এবং কোন সমস্যা হলে বন্ধ করতে হবে।

প্রশ্নঃ রাতে কলা খেলে কি বাচ্চাদের ঠান্ডা লাগে?

উত্তরঃ রাতে কলা খেলে সাধারণত বাচ্চাদের ঠান্ডা লাগে না। তবে যাদের অতিরিক্ত কাশি বা সর্দি আছে বা বাড়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে কলা বন্ধ রাখা ভালো রাতের জন্য।

প্রশ্নঃ বাচ্চাদের সকালে কি খাওয়ানো উচিত কলা?

উত্তরঃ হ্যাঁ, বাচ্চাদের অল্প পরিমাণ ভালোভাবে কলা খাওয়ানো যেতে পারে। যদি বয়স অনুযায়ী খাবার শুরু হয়ে থাকে। কলা শক্তিতেও হজমে সাহায্য করে তবে মায়ের দুধ বা ফর্মুলার বিকল্প নয়।

উপসংহার রাতে বাচ্চাদের কলা খাওয়ার ১৩টি উপকারিতা এবং নিয়ম

রাতে ঘুমানোর আগে বাচ্চাদের কলা খাওয়ালে এতে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস তৈরি করতে হবে। যদি তা সঠিকভাবে করা যায় তাহলে বাচ্চাদের শরীর ও স্বাস্থ্য দুটোই ভালো থাকবে। কারণ প্রত্যেক বাবা-মা চায় তার বাচ্চা ভালো থাকুক ঠিক তেমনি খাওয়া-দাওয়া করা। সঠিকভাবে বাচ্চাদের রাতে কমা খাওয়ালে কলার পুষ্টিগুণ গুলো বাচ্চার সাথে উপকারের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমাদের বাচ্চাদের খাবারের তালিকা অন্যান্য সাথে ফলাফল যুক্ত করা প্রয়োজন।

তবে অতিরক্ত কলা খাওয়ানো বা পাকা খানা বেশি দিলে বাচ্চাদের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই অভিভাবকদের উচিত শিশুর বয়স, শরীরে চাহিদা ও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমাণ মতো কলা খাওয়ানো। সঠিক সময় ও সঠিকভাবে কলা খাওয়ালে এটি বাচ্চাদের জন্য রাতে একটি পুষ্টিকর উপকারের খাবার হিসেবে কাজ করবে। রাতে বাচ্চাদের কলা খাওয়ার ১৩টি উপকারিতা এবং নিয়মগুলো যদি সঠিকভাবে পালন করতে পারেন তাহলে বাচ্চারা সুস্থ থাকবে। এতক্ষণ ধরে মনোযোগ সহকারে আর্টিকেলটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সামিজা৪২ কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url