পানি ফল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
পানি ফল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানব। আমরা অনেকে পানিফল খেয়ে থাকি। আমরা যে পানির ফলটা খাই এর যে পুষ্টিগুণ গুলো আছে সে সম্পর্কে অনেকের এখনো ধারনাই নাই।পানি ফল বা জলীয় ফল আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের গরম ও আদ্র আবহাওয়া পানির ফল আমাদের শরীরকে ঠান্ডা রাখে, হাইড্রেশন নিশ্চিত করে এবং বিভিন্ন পুষ্টিগুণ সরবরাহ করে। এ আর্টিকেলে জানব পানি ফল খেলে স্বাস্থ্যের কি উপকারিতা হয় এবং অতিরিক্ত খেলে কি কি অপকার হয় এবং এর পুষ্টিগুণ গুলোর সম্পর্কে।
পেজ সূচিপত্রঃ পানি ফল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
- পানি ফল খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে
- পানি ফল খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে
- পানি ফল কি
- পানি ফলের পুষ্টিগুণ
- পানি ফল খাওয়ার সঠিক নিয়ম
- পানি ফল কোথায় পাওয়া যায় বা জন্মায়
- FAQ: প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর
- লেখকের মন্তব্য পানি ফল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
পানি ফল খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে
শীতকালে অনেক ধরনের মৌসুমী ফল পাওয়া যায়। সব ধরনের ফলে ভিটামিন ও মিনা
রেলসের ভালো উৎস। আর মৌসুমী ফলের যে ভিটামিন ও মিনারেল উচ্চ রয়েছে তা দেহকে
সুস্থ করার জন্য অনেকটাই সাহায্য করে। শীতকালে পানি ফল বাজারে পাওয়া গেল অনেকে
এটা খেতে চায় না। কারণ পানি ফল পানিতে জন্মায়। অনেক ঠান্ডা কারণে এ ফল খেতে
চায় না। কিন্তু পানি ফলের যে পুষ্টিগুণগুলো রয়েছে তা আমাদের দেহের চাহিদা পূরণ
করে থাকে। আসুন পানি ফল খাওয়ার উপকারিতা গুলো নিচে জেনে নিন। কতটা আমাদের
স্বাস্থ্যের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবার।
- ওজন নিয়ন্ত্রণঃ বর্তমানে মানুষের ওজন নিয়ে এখন অনেক চিন্তা। যারা মনে করছেন ওজনকে নিয়ন্ত্রণ করবেন তাদের জন্য এ পানি ফল হবে একটি স্বাস্থ্যকর খাবার। পানি ফলে ক্যালোরি কম থাকে এবং ফাইবার বেশি যার কারণে খাবার প্রবণতা অনেকটাই কমে যায়।
- শরীর ঠান্ডা রাখে ও আদ্রতা যোগায়ঃ এটি শরীরকে সতেজ রাখে এবং জলের অভাব পূরণ করে। এই পানি ফলটা খেলে শরীর ঠান্ডা রাখার থাকার কারণে পানের ঘাটতি অনেকটা পূরণ হয়ে যায়।
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণঃ পটাশিয়ামের ভালো উৎস হওয়ায় এটি রক্তচাপ ও স্টোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
- হজম শক্তি বৃদ্ধিঃ ফাইবার ও অন্যান্য উপাদান হজমে সহায়তা করে এবং উদারময় ও পেটের ব্যথা কমায়। কোষ্ঠকাঠিন্য বা হজমের সমস্যা থাকলে নিয়মিত পানি ফল খাওয়া উপকারী।
- রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাঃ ভিটামিন সি, বি৬, পটাশিয়াম, ম্যাগনানিজ ও কপার থাকাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। পানি ফল খাওয়ার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই বেড়ে যায়।
- শক্তি ও পুষ্টিঃ দুর্বল শরীরকে বল যোগায় এবং শরীরের পুষ্টির অভাব পূরণ করে এই পানি ফল খেলে।
- যকৃত প্রদাহ হ্রাসঃ পানি ফল হচ্ছে যকৃতি প্রদাহ বা ব্যথা কমাতে অনেকটাই কার্যকরী হিসেবে কাজ করে। এটা যদি খাওয়া যায় তবে এটি স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী ফল।
- শরীরকে হাইড্রেট রাখেঃ পানি ফল খেলে শরীরের জলীয় ভারসাম্য বজায় থাকে। বিশেষ করে গরমের দিনে এটি দেখে ঠান্ডা রাখে এবং দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- ত্বক ও চুলের জন্য উপকবকঃ পানি ফলের ভিটামিন ও জলীয় উপাদান ত্বককে হাইড্রেট রাখে। ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে এবং চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
- বিশেষ ক্ষেত্রে উপকারঃ গরমে ঠান্ডা ও শীতলতা প্রদান করে পানি ফল খেলে। এতে করে শরীরকে দ্রুত ঠান্ডা করে। যাদের ডায়াবেটিস আছে তারা যদি এ পানি ফল খায় তাহলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে পানিফল। কিডনি ও লিভারের জন্য পানি ফল অনেকটাই সাহায্যকারী।
- ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়কঃ এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অক্সিডেটিভ চাপ কমাতে সাহায্য করে যা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
পানি ফল খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে
পানিফল আমরা সকলে কমবেশি খেয়ে থাকি। তবে এটা সিজেনালি ফল। সব সময় সচরাচর
পাওয়া যায় না। তবে খাবার বা ফল যেটাই হোক পরিমাণ মতন খাওয়া সঠিক। খাবার খেলে
অতিরক্ত যেমন শরীর খারাপ হয়ে যায় ঠিক তেমনি অতিরিক্ত পানি ফল খেলো স্বাস্থ্য
ক্ষতির হতে পারে। তাই স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে অবশ্যই খাবারের দিক দিয়ে
আমাদেরকে সচেতন থাকতে হবে। অতিরিক্ত পানি ফল খেলে স্বাস্থ্যের কি ক্ষতি হতে
পারে বা এর অপকারিতা গুলো কি চলুন জেনে নিন।
আরো পড়ুনঃ
খালি পেটে শসা খাওয়ার ১৪ টি উপকারিতা
- পেটের সমস্যাঃ অতিরিক্ত পানি ফল খেলে গ্যাস অম্বল বা ডায়রিয়া হতে পারে।
- শর্করার মাত্রা বাড়ানোঃ মিষ্টি পানি ফল অতিরিক্ত খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে। যার ফলে রক্তের চাপ বেড়ে যেতে পারে।
- হজম সমস্যা বা এলার্জিঃ কিছু মানুষ পানি ফলে এলার্জি বা হজম সমস্যা অনুভব করতে পারে।
- ডায়াবেটিস রোগীঃ অতিরিক্ত মিষ্টি পানি ফল এড়ানো উচিত। কারণ মিষ্টি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অনেকটাই ক্ষতিকারক।
- গ্যাস্ট্রিক বা আলসার সমস্যাঃ কিছু পানি ফল সীমিত পরিমানে খাওয়া ভালো। যাদের গ্যাস্ট্রিক আলসারের সমস্যা আছে তাদের পানিফল অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকা ভালো।
- শিশু ও বৃদ্ধঃ পানি ফল যেহেতু ঠান্ডা ফল। তাই বৃদ্ধ ও শিশুদের অতিরিক্ত পানিফল খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
- পুষ্টির ঘাটতিঃ শুধু পানি ফল বা ফল মূলের ওপর নির্ভরশীল থাকলে অন্যান্য প্রয়োজনে পুষ্টির অভাব হতে পারে।
- দাঁতের সমস্যাঃ হলের প্রাকৃতিক শর্করা দাঁতের ক্ষতি হতে পারে তাই পরিমাণমতন খাওয়া উচিত।
- অতিরিক্ত পটাশিয়ামঃ যাদের কিডনির সমস্যা আছে তাদের পটাশিয়াম গ্রহণের বিশেষ সতর্ক থাকা উচিত।
পানি ফল কি
পানিফল একটি রসালো ও জলীয় ফল। যাকে ইংরেজিতে বলা হয় ওয়াটার অ্যাপেল।
বাংলাদেশে অনেক জায়গায় এটি জামরুল, জামরোল ও জামরোজ নামে পরিচিত। আবার গ্রামের
ভাষায় এটিকে পানির সিঙ্গারা বলা হয়। ফলটির ভিতরে পানির পরিমাণ খুব বেশি থাকাই
একে পানি ফল বলা হয়। গরমকালে এটি শরীর ঠান্ডা রাখে ও তৃষ্ণা নিবারণের খুব
জনপ্রিয়। পানি ফলের আকৃতি সাধারণ অন্তঃ নাশপাতি বা ঘন্টার মতন হয়। নিচের দিকে
একটু চওড়া এবং উপরের দিকটা তুলনামূলক সরু থাকে।
- পানি ফল আকারে মাঝারি সাইজের। বাইরের খোসা মসৃণ ও চকচকে। ভিতরে শাঁস সাদা এবং হালকা গোলাপী। ভেতরে সাধারণত বড় কোন শক্ত বীজ থাকে না ছোট নরম বীজ থাকতে পারে। পানিফল বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে যেমন হালকা সবুজ, গোলাপি, লাল এবং গাড়ো লাল বা বেগুনি।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সবুজ ও হালকা গোলাপি রঙের পানিফল। লাল রঙের পানি ফল তুলনামূলকভাবে বেশি মিষ্টি হয়ে থাকে। পানিফল মূলত উষ্ণ ও আদ্র আবহাওয়ার ফল। এটি বেশি জন্মায় বাংলাদেশ,ভারত, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, মালেশিয়া, ইন্দোনেশিয়ার, ফিলিপাইন এবং ভিয়েতনাম।
- বাংলাদেশের প্রায় সব জেলাতে বাড়ির আঙ্গিনা বাগান বা ও গ্রামের এলাকায় পানি ফলের গাছ দেখা যায়। গবেষণা অনুযায়ী পানি ফলে আদি উৎপত্তি হয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে বিশেষ করে মালেশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। এই অঞ্চল থেকে ধীরে ধীরে ভারতীয় উপমহাদেশে এবং বাংলাদেশে পানি ফলে চাষ ছড়িয়ে পড়ে।
- এখন মনে হচ্ছে পানি ফলের গাছ দেখতে কেমন। পানি ফলের গাছ মাঝারি থেকে বড় আকারের হয়। পাতাগুলো গারো সবুজ ও লম্বাটে। গাছে সাধারণত অনেক বছর বেঁচে থাকে। একবার বড় হয়ে গেলে প্রতিবছর ফল দেই। গ্রামের বাড়িতে এর গাছ ছায়ার জন্য বেশি উপকারী। বাংলাদেশের মৌসুমী ফল সাধারণ গ্রীষ্ম ও বর্ষায় মৌসুমে পাওয়া যায়। এপ্রিল-মে মাসে গাছে ফুল আসে। জুন-আগস্ট মাসে ফল ধরা শুরু হয়। জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসে পানি ফল খাওয়ার উপযোগী হয়। এ সময় বাজারে পানিফল সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
পানি ফলের পুষ্টিগুণ
পানি ফল আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি ফল। পানি ফলের পুষ্টিগুণ হচ্ছে
জলীয় উচ্চ উপাদান, ভিটামিন, মিনারেলস, ফাইবার, এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। এ
পুষ্টিগুণ গুলো আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। এখন আমরা জানবো ১০০ ১০০ গ্রাম
পানিফলের মধ্যে কি পরিমান পুষ্টিগুণ রয়েছে বা উপাদান আসুন জেনে নিই।
- ক্যালরি- প্রায় ২৫-৩০
- পানি-প্রায় ৯০-৯৩ গ্রাম
- কার্বোহাইড্রেট-প্রায় ৫-৬ গ্রাম
- খাদ্য আঁশ-প্রায় ০৮-১.০ গ্রাম
- প্রোটিন-প্রায় ০.৫-০.৭ গ্রাম
- ফ্যাট-প্রায় ০.১ গ্রাম
- ভিটামিন সি-প্রায় ২০-২২ মিলিগ্রাম
- ভিটামিন এ-প্রায় ১৫-২০IU
- ভিটামিন বি, ভিটামিন B1, ভিটামিন B2
- পটাশিয়াম-প্রায় ১২০-১৩০ মিলিগ্রাম
- ক্যালসিয়াম-প্রায় ২৫-৩০ মিলিগ্রাম
- ম্যাগনেসিয়াম-প্রায় ৫-৬ মিলিগ্রাম
- আয়রন-প্রায় ০.১-০.২ মিলিগ্রাম
পানি ফল খাওয়ার সঠিক নিয়ম
আমরাও উপরে পানি ফল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জেনেছি। এখন জানবো পানি
ফল খাওয়ার সঠিক নিয়ম।আমরা বেঁচে থাকার জন্য খাবার খাই। কিন্তু আমাদের
স্বাস্থ্যের জন্য খাবার কতটা প্রয়োজন সেটা আমরা সকলেই জানি। স্বাস্থ্য ভালো
রাখতে হলে অবশ্যই আমাদের স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে হবে। এজন্য অবশ্যই পুষ্টিকর
খাবার অতি প্রয়োজন। তবে খাবার খাওয়া জন্য আমাদের পরিমাণ বা সঠিক সময়ের দরকার।
পানি ফল খাওয়ার কিছু নিয়ম মেনে চলে এর সর্বোচ্চ সুবিধা পাওয়া যায়। যেমন
- সাধারণত দিনে ১-২ ফল যথেষ্ট খাবার জন্য।
- খাবারের সময় দুপুরে বা বিকেলে হজম সহজ হয়। আর এ সময় খাবার খাওয়াটা হচ্ছে সঠিক সময়।
- প্রস্তুতির খাওয়ার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। পরিষ্কার পানিতে ময়লা ধুয়ে তারপরে খেতে হবে যাতে জীবাণু আমাদের ক্ষতি না করতে পারে।
- অন্যান্য খাবারের সঙ্গে মিলিয়ে খাওয়া। মিষ্টি বা ভারি খাবারের সঙ্গে পানি ফল কম খাওয়াই ভালো।
পানি ফল কোথায় পাওয়া যায় বা জন্মায়
পানিফল মূলত উষ্ণ ও আদ্র আবহাওয়া ফলে। যেখানে প্রচুর রোদ মাঝারি বৃষ্টি এবং নরম মাটি থাকে সেসব অঞ্চলে পানি ফল ভালোভাবে জন্মায়। পানিফল জন্মানোর জন্য যে পরিবেশ সবচেয়ে উপযোগী তা হল। গরম ও আদ্র আবহাওয়া, পর্যাপ্ত সূর্যলোক, মাঝারি থেকে বেশি বৃষ্টিপাত এবং জল নিকাশন সুবিধা যুক্ত দোআঁশ বা বেলে দোআঁশ মাটি। এ কারণে ট্রপিক্যাল ও সাব ট্রপিক্যাল অঞ্চলে পানি ফলে চাষ বেশি হয়। বাংলাদেশের পানি ফল খুব পরিচিতি ও সহজলভ্য ফল এটি পাওয়া যায় গ্রামাঞ্চলের বাড়ির আঙিনায়, পারিবারিক বাগানে, রাস্তার ধারে ও জমির পাশে এবং স্থানীয় ফলের বাজারে।
আরো পড়ুনঃ
১০টি শীতকালীন সবজির নাম ও পুষ্টিগুণ
এছাড়াও পাওয়া যায় বিশেষ করে ঢাকা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, বরিশাল, যশোর,
খুলনা, রাজশাহী এবং নরসিংদীর সহ প্রায় সব জেলাতে পানি ফল জন্মায়। সাধারণত
পানিফল বেশি পাওয়া যায় গ্রীষ্মকাল ও বর্ষাকালে। আর তার সাথে গ্রামীণ বাজারে,
মৌসুমী ফলের দোকানে এবং বাড়ির নিজস্ব গাছ থেকে। শহরের বড় বাজার ও সুপার শপে
মৌসুমী পানিফল পাওয়া যায়।
FAQ: প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্নঃ পানি ফলে কোন কোন ভিটামিন রয়েছে?
উত্তরঃ পানিফলের প্রধানত ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং অল্প পরিমাণ ভিটামিন বি
কমপ্লেক্স থাকে। এই ভিটামিন গুলো রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়াতে ত্বক ভালো রাখতে ও
শরীরের শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে।
প্রশ্নঃ প্রতিদিন ফল খেলে কি হয়?
উত্তরঃ প্রতিদিন ফল খেলে শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন, মিনারেল ও ফাইবার পাই হলের
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং হজম ভালো থাকে।
প্রশ্ন পানি ফল খেলে কি ওজন বাড়ে?
উত্তরঃ পানি ফল খেলে সাধারণত ওজন বাড়ে না কারণ এতে ক্যালরি কম এবং পানির পরিমাণ
বেশি। বরং পরিমিত ভাবে খেলে পেট ভরা রাখে ও ওজন নিয়ন্ত্রণের সাহায্য করে।
প্রশ্নঃ সবচেয়ে বেশি হাইড্রেটিং ফল কোনটি?
উত্তরঃ সবচেয়ে বেশি হাইড্রেটিং ফল হলো তরমুজ। কারণ এতে প্রায় ৯২-৯৩% পানি থাকে।
এটির শরীরকে দ্রুত পানি শূন্যতা থেকে রক্ষা করে ও গরমে খুবই উপকারী।
প্রশ্নঃ কোন ফলে ৯৯% জল থাকে?
উত্তরঃ কোন ফলেই পুরো ৯৯% জল থাকে না। তবে সবচেয়ে কাছাকাছি ফল হল তরমুজ যেখানে
প্রায় ৯২-৯৩% পানি থাকে। এরপরে পানি ফল জামরুল ও স্ট্রবেরি আসে। যেগুলোতে
পানির পরিমাণ খুব বেশি।
লেখকের মন্তব্য পানি ফল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
পানি ফল খাওয়ার আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যসম্মত তা আমরা
উপরের আলোচনা থেকে জানতে পেরেছি। যদি আমাদের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে চাই তাহলে
অবশ্যই আমাদের প্রাকৃতিক পুষ্টি জাতীয় খাবার গুলো খাওয়া আমাদের স্বাস্থ্যের
জন্য অনেকটাই হেলদি। স্বাস্থ্য সচেতন এর দিক থেকে যদি আমরা প্রতিদিন খাদ্যের
তালিকায় পুষ্টিকর খাবার গুলো রাখি তাহলে আমাদের স্বাস্থ্যের রোগবালা থেকে রক্ষা
পাবে।
ওপরে পানি ফল খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। তাই
আসুন সবাই মিলে সচেতন হই এবং পুষ্টিকর জাতীয় খাবার গুলো প্রতিদিন খাদ্যের
তালিকায় রাখার চেষ্টা করি। এতে করে আমাদের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে সেই সাথে কাজে
মনও বুঝবে। আর্টিকেল পড়ে আপনার মতামতি কমেন্ট বক্সে জানান ধন্যবাদ।

সামিজা৪২ কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url