রমজান মাসের নফল ইবাদতের গুরুত্ব ও ফজিলত
রমজান মাসের নফল ইবাদতের গুরুত্ব ও ফজিলত অনেক। রমজান মাসের ইবাদত হচ্ছে মুসলমানদের জন্য একটি রহমতের মাস।এই মাসে যারা ফরজ এবাদতের পাশাপাশি নফল ইবাদত করবে তাদের জন্য আল্লাহ তাআলা অনেক সওয়াব দিবে। রমজান হচ্ছে একটি বরকতময় মাস।
তাই রমজান মাসে নফল ইবাদত গুলো আমাদের কাছে অতি গুরুত্বপূর্ণ।আমরা জান্নাতের যাওয়ার সুযোগ পাবো এমনকি অতীতের গুনাহ মাফের সুযোগ রয়েছে।রমজান মাসে আল্লাহতালার রহমত ও ভালোবাসা পাওয়ার জন্য ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি নফল ইবাদত করা উত্তম। তাই আসুন নিচে জানি রমজানের মাসের নফল ইবাদতের সম্পর্কে।
পেজ সূচিপত্রঃ রমজান মাসের নফল ইবাদতের গুরুত্ব ও ফজিলত
- রমজান মাসের নফল ইবাদতের গুরুত্ব ও ফজিলত
- ফরজের সমান সওয়াব
- আল্লাহর নৈকট্য লাভ
- ফরজের ঘাটতি পূরণ
- জান্নাতে লাভের সুযোগ
- পাপ মোচন
- আত্মার শুদ্ধির প্রকাশ
- FAQ: প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর
- লেখকের মন্তব্য রমজান মাসের নফল ইবাদতের গুরুত্ব ও ফজিলত
রমজান মাসের নফল ইবাদতের গুরুত্ব ও ফজিলত
রমজান মাসে মমিন ও মুসলমানের জন্য রহমতের মাস। এ মাসে যে ইবাদত
করেন না কেন তা মুমিন ও মুসলমানের জন্য সওয়াবের মাস। রমজান মাসের নকল ইবাদত
হচ্ছে ফরজের সমতুল্য। রমজান মাসের নফল ইবাদত করলেও আল্লাহর কাছে এর মর্যাদা
অনেক। আল্লাহ কোরআনে বলেছেন রমজান মাস যে মাসে কোরআন নাজিল করা হয়েছে যা
মানুষের জন্য হেদায়েত (সূরা আল বাকারা ঃ১৮৫)। নফল ইবাদতের
সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায় রমজান মাসে। নবী করিম (সাঃ) বলেছেন রমজান মাসের যে
ব্যক্তি একটি নকল আমল করে সে অন্য মাসের ফরজ আমলের সমান সওয়াব পায়।
এক হাদীসে আল্লাহতালা বলেন বান্দা নকল এবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে অবশেষে আমি তাকে ভালোবাসি। আবার রমজান মাসে দোয়া সহজে কবুল হয়। কুরআনে আল্লাহ বলেন আমি দোয়া করি দোয়া করি যখন সে আমাকে ডাকে। সূরা আল বাকারাঃ ১৮৬। নবী করিম (সাঃ) বলেছেন যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজান মাস রাতে নামাজ আদায় করে তার আগের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। বুখারী ও মুসলিম।
আরো পড়ুনঃ
রমজান মাসের ইবাদতের গুরুত্ব
রমজান মাসের নফল ইবাদতের গুরুত্ব একজন মুসলিমের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ
অন্যান্য মাসের নফল ইবাদত রমজান মাসের মতন এতটা মর্যাদাপূর্ণ নয়। কিন্তু রমজান
মাসের নফল ইবাদত অন্যান্য মাসের তুলনায় অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং মর্যাদা পূর্ণ।
রমজান মাসের নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমাদের অতীতের গুনাহ মাফ চাওয়ার একটা সুযোগ
পাওয়া যায়। আসুন রমজান মাসের নফল ইবাদত করলে আর কি কি ফজিলত পাওয়া যায় তা
নিচে জানি।
ফরজের সমান সওয়াব
রমজান মাসে নফল ইবাদতের সওয়াবকে ফরজের সমান বলা হয়েছে কারণ এ মাস আল্লাহ তাআলার বিশেষ রহমত এর মাস। হাদিসে এসেছে রমজানের যে ব্যক্তি একটি নফল আমল করে সে অন্য মাসের ফরজ আমলের সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করে। এর অর্থ নফল ফরজের ইবাদত বিকল্প হয়ে যায়। বরং আল্লাহুতালা এ রমজান মাসে নফল ইবাদতের সওয়াবগুলো বহুগুণ বৃদ্ধি করে। তাই রমজান মাসের নফল ইবাদত আমাদের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাই আসুন আমরা সকলে মিলে চেষ্টা করি সামনে রমজান মাস আসবে। এ রমজান মাসের ওসিলায় আল্লাহ তায়ালার রহমত পাওয়ার চেষ্টা করি।
আল্লাহর নৈকট্য লাভ
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়লে আল্লাহর কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ হয়। প্রত্যেক
মুমিন ও মুসলমান যারা নামাজ পড়ে তারা আল্লাহর কাছে যাওয়ার পথ পায়। আর যারা
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে না তাদের জন্য এই সুযোগ থাকে না। তাই আল্লাহর নৈকট্য লাভ
করতে হলে অবশ্যই আমাদের নামাজ পড়তে হবে এবং কুরআন পড়তে হবে। পাঁচ ওয়াক্ত
নামাজ হচ্ছে ফরজ। নামাজ পড়লে যে সওয়াব পাওয়া যায় তাতে আমাদের জীবনের প্রতি
পরিবর্তন হয়ে যায়। সেরকমই রমজান মাস হচ্ছে নাজাত মাগফিরাত ও রহমতের মাস।
এই মাসে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করার একটি সুবর্ণ সুযোগ। রমজান মাসের নফল ইবাদতগুলো
সেরকম অধিক মর্যাদা পূর্ণ। তাই আল্লাহর নৈকট্য পেতে হলে অবশ্যই আমাদের পাঁচ
ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি রমজানে নফল ইবাদত গুলো খাঁটি মনে এবং নিয়তে করতে হবে।
তাহলে আল্লাহর কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ হবে।
ফরজের ঘাটতি পূরণ
আমরা ফরজ নামাজ বা ফরজ কাজগুলো করে থাকি। কিন্তু অনেক সময় আমাদের অজান্তে
ভুল হয়ে যায় যেটা আমরা বুঝতে পারি না। যা আমাদের ফরজ নামাজের ঘাটতি থেকে যায়।
এ ফরজের ঘাটতি পূরণের নফল ইবাদত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হাদিসে এসেছে
কিয়ামতের দিন প্রথমে বান্দার ফরজ নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। যদি তাতে কোন
ঘাটতি পাওয়া যায় তখন আল্লাহ তা'আলা নফল নামাজের মাধ্যমে সে ঘাটতি পূরণ করা
নির্দেশ দিবেন। নফল ইবাদত ফরজের বিকল্প নয় বরং ফরজকে পরিপূর্ণ করার সহায়ক
মাধ্যম। বিশেষ করে রমজান মাসে নফল ইবাদতের সওয়াব বহুগুণ
বৃদ্ধি পায়। যা আমলকে আরো শক্তিশালী করে এবং ফরজ আমলের ত্রুটিগুলো
ঢেকে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। তাই ফরজ এবাদতের পাশাপাশি নিয়মিত নফল ইবাদত
অভ্যস্ত হওয়া প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জান্নাতে লাভের সুযোগ
আমরা ইবাদত করি কিন্তু ইবাদত করতে যেয়ে আমাদের অনেক ভুল হয়ে যায়। আবার অনেক
সময় আমরা এমন পাপ করে থাকি যা আমরা বুঝতে পারি না। ফরজ নামাজের পাশাপাশি নফল
ইবাদত আমাদের জান্নাত লাভের সুযোগ তৈরি করে দেয়। ফরজ ইবাদত জান্নাতের প্রবেশের
মূল শর্ত হলেও নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ বিশেষ সন্তুষ্টি ও উচ্চ মর্যাদা অর্জন
করা যায়। হাদিসে এসেছে যে ব্যক্তি নিয়মিত নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য
অর্জন করে আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন আর আল্লাহু যাকে ভালোবাসেন তার জন্য জান্নাত
অবধারিত হয়ে যায়। বিশেষ করে রমজান মাসে নফল ইবাদত প্রত্যেক মুসলমান ও মুমিনের
জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রত্যেক মানুষকে রমজান মাসে নফল ইবাদতের বেশি মনোযোগী
হওয়া উচিত যাতে করে জান্নাত লাভের সুযোগ হাতছাড়া না হয়।
পাপ মোচন
নফল ইবাদত পাপ মোচন এর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। মানুষ ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়
বিভিন্ন ছোট বড় গুনাহ করে ফেলে যা তার আমলনামায় যোগ হয়। কোরআন ও হাদিসে বলা
হয়েছে নেক আমল পাপকে দূর করে দেয়। নফল নামাজ কোরআন তেলাওয়াত জিকির দোয়া ও
সাদকার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দার গুনাহ ক্ষমা করে দেন। বিশেষ করে রমজান মাসে
নফল ইবাদতের সওয়াব বৃদ্ধি পাওয়া। যার কারণে পাপ মোচনের বিশেষ সুযোগ পাওয়া
যায়। আন্তরিক তওবা ও নিয়মিত নফল ইবাদতের মাধ্যমে বান্দার ধীরে ধীরে পাপ মুক্ত
হয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে। তাই পাপ থেকে মুক্তির আশায় রমজান মাসে বেশি
বেশি নফল ইবাদতে মনোনিবাশ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আত্মার শুদ্ধির প্রকাশ
নফল ইবাদত মানুষের অন্তরকে আল্লাহর দিকে ফেরানোর এক নির্ভরযোগ্য পথ। আল্লাহতালা
কুরআনে এরশাদ করেছেন যে মানুষের কল্যাণে নিহিত রয়েছে তার হৃদয়ের
পরিছন্নতা। নিয়মিত নফল ইবাদতের মাধ্যমে অন্তর থেকে অবাধ্যতা উদাসীনতা ও
দুনিয়া মুখিতা দূর হতে থাকে। রাসূল (সাঃ) ইঙ্গিত দিয়েছেন যখন বান্দা আল্লাহকে
বেশি স্মরণ করে তখন তার হৃদয় জীবিত হয়ে ওঠে। এ জীবন্ত হৃদয় আত্মার শুদ্ধির
প্রকাশ ঘটে। রমজান মাসের নফল ইবাদত আত্মাকে সংযত করে প্রবৃত্তিকে
নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বান্দাকে আত্ম সমালোচনার সুযোগ দেই। এর ফলে মানুষের ভেতরে
আল্লাহ ভীতি সচেতনতা জন্ম নেয় যা প্রমান করে যে তার আত্মার ধীরে ধীরে পবিত্রতার
পথে অগ্রসর হচ্ছে।
আরো পড়ুনঃ
রমজান মাসে রোজা রাখার ফজিলত ও গুরুত্ব
FAQ: প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্নঃ কুরআনে কোন সূরায় রমজান সম্পর্কে বলা হয়েছে?
উত্তরঃ কুরআনে সূরা আল বাকারা তে রমজান মাস সম্পর্কে বলা হয়েছে। এই সূরায় ১৮৫
নম্বর আয়াতে রমজান মাসের রোজা ও কোরআন নাজিল হওয়ার কথা উল্লেখ্য আছে।
প্রশ্নঃ নফল নামাজের গুরুত্ব কি?
উত্তরঃ নফল নামাজের গুরুত্ব হল আল্লাহর ভালোবাসা অর্জন করা। নফল নামাজের
মাধ্যমে ফরজ নামাজের ঘাটতি পূরণ হবে এবং বান্দার ঈমান ও তাকওয়া বৃদ্ধি
পাবে। যার কারণে জান্নাত পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
প্রশ্নঃ রমজানের উদ্দেশ্য কি?
উত্তরঃ রমজানের মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন করা। রমজানের রোজার কারণে
মানুষ নিজের ভেতরে আত্মাকে পবিত্র করার সুযোগ পায়। এ মাসের রোজা ও ইবাদতের
মাধ্যমে মানুষ নিজের ভিতর আল্লাহ ভীতি ও ভালোবাসা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে
পারে।
লেখকের মন্তব্য রমজান মাসের নফল ইবাদতের গুরুত্ব ও ফজিলত
রমজান মাসে নফল ইবাদত এর মাধ্যমে আল্লাহ রহমত লাভ গুনাহ মাফ ও আত্মা শুদ্ধের এক
সোনালী সুযোগ। কোরআন ও হাদিসে রমজান মাসের নফল ইবাদতের গুরুত্ব ও ফজিলতু
স্পষ্ট ভাবে প্রমাণিত। তাই এই মাসে বেশি বেশি নফল নামাজ কোরআন তেলাওয়াত দোয়া ও
সাদকার মাধ্যমে আল্লাহ সন্তুষ্ট অর্জনের চেষ্টা করা উচিত আমাদের সকল মুমিন ও
মুসলমানদের। তাই আসুন আল্লাহর রহমত পাওয়ার একটি সুবর্ণ সুযোগ এই রমজান মাস। এই
মাসে নিজেকে পবিত্র করার জন্য এবং আল্লাহর রহমত পাওয়ার জন্য এ রমজান মাসে বেশি
বেশি তওবা ও ইস্তেগফার পাঠ করি এবং ফরজ নামাজ ও নফল ইবাদতগুলো পালন করে আর
আল্লাহর রহমত লাভ করি। ধন্যবাদ

সামিজা৪২ কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url