রমজান মাসে তারাবির নামাজ পড়ার ফজিলত ও গুরুত্ব
রমজান মাসে তারাবির নামাজ পড়ার ফজিলত ও গুরুত্ব।শাবান মাসের এর পর আসবে রমজান মাস।রমজান হল মুমিন ও মুসলমানের জন্য একটি ফজিলতপূর্ণ মাস।এ মাসের ইবাদত অন্যান্য মাসের তুলনায় অধিক গুরুত্বপূর্ণ।রমজান মাস আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বিশেষ নিয়ামত।
রমজান মাসে আল্লাহতালা তার বান্দাদের জন্য রহমতের দরজা খুলে দেন। আর সেই সাথে গুনাহ মাফের সুযোগ এবং জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। রমজান মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হল তারাবির নামাজ। রমজান মাসে অন্যান্য ইবাদতের সাথে তারাবি নামাজ পড়ার গুরুত্ব অনেক হয়েছে। আসুন নিচে জানি রমজান মাসের তারাবির নামাজ পড়ার ফজিলত ও গুরুত্বপূর্ণ কি।
পেজ সূচিপত্রঃ রমজান মাসে তারাবির নামাজ পড়ার ফজিলত ও গুরুত্ব
- রমজান মাসে তারাবির নামাজ পড়ার ফজিলত ও গুরুত্ব
- তারাবি কি
- অতীতের গুনাহ মাফ
- সারারাত ইবাদতের সওয়াব
- গুনাহ থেকে মুক্তি ও পবিত্রতা
- আল্লাহর নৈকট্য লাভ
- শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি
- জামাতের সাথে তারাবির নামাজ পড়া সওয়াব
- FAQ: প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর
- উপসংহার রমজান মাসে তারাবির নামাজ পড়ার ফজিলত ও গুরুত্ব
রমজান মাসে তারাবির নামাজ পড়ার ফজিলত ও গুরুত্ব
রমজান মাস হলো মুসলমানের জীবনে এক বিশেষ সময় যখন আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য
রহমত মাফের দরজা উন্মুক্ত করে দেয়। এ মাসের রাগগুলোতে যে নামাজ সবচেয়ে
বেশি আল্লাহর কাছাকাছি এনে দেয় সেটা হলো তারাবির নামাজ। এটি কেবল রমজানের
সৌন্দর্য বাড়ায় না বরং মানুষের অন্তরকে আল্লাহর প্রেম ও ভয় দিয়ে পরিপূর্ণ
করে। যখন আমরা রাতে নীরবতায় দাঁড়ায় শুধু আল্লাহু মুখোমুখি হয়ে দাঁড়ায় এবং
নিজের অন্তরের কথাগুলো আল্লাহর কাছে প্রকাশ করতে পারি। তখন মনের ভিতর অস্থিরতা ও
দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমে যায়। কোরআন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় নিশ্চয়ই রাতের
কিছু অংশ দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা মানুষের জন্য সওয়াবের দিক থেকে
অধিক লাভজনক। রাতের ইবাদত শুরু শারীরিক সময় নষ্ট নয় বরং আত্মার উন্নতির এক
অন্যান্য সুযোগ।
রাসুল (সাঃ) বলেছেন যে ব্যক্তি রমজানে তারাবি নামাজ আদায় করবে তার
পূর্ববতী গুনা সমূহ ক্ষমা করা হবে। (সহিহ বুখারী মুসলিম) তারাবির নামাজ শুধু
মাত্র রাতের নামাজ নয় এটি একটি আত্মশুদ্ধির যাত্রা যেখানে আমরা আমাদের ভুল
ত্রুটি স্বীকার করি এবং আল্লাহর কাছাকাছি যাওয়ার কামনা করি। তারাবি নামাজের
মাধ্যমে আমাদের অন্তরে আলোর বৃদ্ধি পায়। মানুষের জীবনে অনেক সময় চিন্তা
উদ্বিগ্ন এবং দৈনন্দিন চাপের মধ্যে ভরা থাকে। সেই সব চাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার
জন্য যখন আমরা আল্লাহর কাছে দাঁড়াই কুরআন পড়ি এবং নামাজে মনোযোগী দেই তখন
আমাদের হৃদয় শান্ত হয়।
আমরা যদি মনে করি রাতের নির্জনতায় আল্লাহর কাছে যা কঠিন বা ক্লান্ত কর তখন মনে
রাখতে হবে যে এই ছোট্ট সময় আল্লাহর কাছে আমাদের প্রেম ভয় এবং আন্তরিকতার
প্রকাশ। একদিন এই রাতের ইবাদত আমাদের জন্য বড় সওয়াব মাফ হওয়া গুনাহ এবং
জান্নাতের প্রাপ্তি হিসেবে ফিরে আসবে। তারাবি নামাজ রমজানের রূপকথার মত যা আমাদের
জীবনকে আলোকিত করে। আমাদের আত্মাকে পরিচ্ছন্ন রাখে আমাদের চিন্তা ভাবনা ও মনকে
সঠিক পথে পরিচালিত করে। তারাবির নামাজ শুধু নামাজ নয় এটি হলো এক আত্মার উজ্জ্বল
জীবন এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের সর্ব উত্তম মাধ্যম। তাই আমাদের জীবনকে আলোর পথে
পরিচালিত করতে হলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি রমজান মাসে তারাবির নামাজ
পড়ার ফজিলত ও গুরুত্ব গুলো সকলের ভালোভাবে পালন করা উচিত।
তারাবি কি
তারাবি হল রমজান মাসের বিশেষ একটি নামাজ। যা এসার ফরজ ও সুন্নত নামাজের পর
আদায় করা হয়। এটি মূলত রাতের নফল নামাজের অন্তর্ভুক্ত হলো রমজান মাসে এর
মর্যাদা ও গুরুত্ব অনেক বেশি। তারাবি শব্দটি আরবি তারওয়ীহ থেকে এসেছে। যার
অর্থ হলো কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া। কে নামাজ সাধারণত প্রতি চার রাকাত পর পর
অল্প সময়ের জন্য বিশ্রাম নেয়া হয় বলে একে তারাবি নামাজ বলা হয়। তারাবির
নামাজের মাধ্যমে একজন মুসলমান রমজানের রাতগুলোকে এবাদতের মাধ্যমে জীবন্ত করে
তোলে। তারাবির নামাজ হলো রমজান মাসের এক অনন্য ইবাদত যা একজন মুমিন
মুসলমানকে আল্লাহর কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ করে দেয় এবং রমজানকে সত্যিকারের অর্থে
অর্থবহ করে তোলে।
অনেকের রমজান মাসে কয় রাকাত তারাবির নামাজ পড়বে তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব
থাকে। মূলত তারাবির নামাজ বিশ রাকাত আদায় করা হয়। যা সাহাবায়ে কেরাম
তাবেয়ি ও চার মাজহাবের অধিকাংশ আলেমের আমল অনুযায়ী সুন্নত হিসেবে
প্রতিষ্ঠিত। হযরত উমর (রা.) এর খেলাফতকালে মুসলমানেরা এক ঈমানের পেছনে জামাতে ২০
রাকাত তারাবি আদায় করতেন এবং তখন থেকে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে এটি ব্যাপকভাবে চালু
হয়ে যায়। এজন্য বৃত্তের অধিকাংশ মসজিদে আজও নিয়মিতভাবে ২০ রাকাত তারাবির নামাজ
আদায় করা হয়।
আরো পড়ুনঃ
রমজান মাসে রোজা রাখার ফজিলত ও গুরুত্ব
তবে কেউ যদি ৮ রাকাত তারাবির নামাজ পড়ে তাতেও তারাবির সওয়াব পাওয়া যায়।
কারণ রাসুল (সাঃ) রাতের নফল নামাজ সাধারণত ৮ রাকাত আদায় করতেন। তাই
আলেমদের মতে রাকাতের সংখ্যা চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়ত আন্তরিকতা ও
নিয়মিত আদায়। আল্লাহু তায়ালা বান্দার ইবাদত কবুল করেন তার অন্তরের ইখলাস
অনুযায়ী শুধু সংখ্যার উপর নয়। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তারাবির নামাজ
রমজান মাসে সাথেই সম্পর্কিত। রমজান শেষ হলে তারাবির নামাজ ও শেষ হয়ে যায়।
তাই সকলের মমিন ও মুসলমানদের উচিত রমজান মাসে নিয়মিত তারাবির নামাজ পড়ার
চেষ্টা করা।
সবশেষে বলা যায় তারাবির নামাজ কয় রাকাত পড়া হবে এই নিয়ে মতভেদ না করে
মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর সামনে দাঁড়ানো কোরআন শোনা বা পড়া এবং আন্তরিকভাবে ইবাদত
করা। যে যতটুকু পারে সে ততটুকু নিয়মিত ভাবে আদায় করলে আল্লাহর কাছে তারাবি
নামাজ মূল্যবান হয়ে ওঠে। তাই আমাদের সকল মুমিন ও মুসলমানদের রমজান মাসে তারাবির
নামাজ পড়ার ফজিলত ও গুরুত্ব গুলো ভালোভাবে জেনে তা পালন করা উচিত।
অতীতের গুনাহ মাফ
অতীতের গুনাহ মাফ বলতে বোঝায় আল্লাহ তাআলা তার বান্দা যখন ঈমান ও আন্তরিকতার
সঙ্গে ইবাদত করে তখন তার পূর্বের ছোটখাট গুনাহ গুলো ক্ষমা করে দেন। বিশেষ করে
রমজান মাসে তারাবি নামাজ আদায় করলে আল্লাহ বান্দার আগের ভুল ও অবহেলা গুলো ক্ষমা
করে নতুনভাবে জীবন শুরু করার সুযোগ দেন। এটি আল্লাহর রহমতে বড় নির্দেশন যেখানে
অনুতাপ ও ইবাদতের মাধ্যমে মানুষের পরিষ্কার অন্ত নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারে।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি রমজান মাসের তারাবির নামাজ আমাদের সকলের নিয়মিত
আদায় করা উচিত। এতে আমাদের সুবিধা হবে আল্লাহর কাছাকাছি যাওয়া এবং আল্লাহর সাথে
সরাসরি কথা বলার মাধ্যম। রমজান মাসের ইবাদতগুলো অধিক মর্যাদাপূর্ণ। তাই আমাদের
সকলের উচিত রমজান মাসে আমাদের অতীতের গুনাহ মাফের জন্য আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি
করা।
সারারাত ইবাদতের সওয়াব
রমজান মাসে কেউ যদি ইমামের সাথে তারাবির নামাজ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আদায় করে তাহলে আল্লাহ তাআলা তার জন্য পুরো রাত এবাদত করার সওয়াব লিখে দেন। যদিও সে বাস্তবে পুরো রাত জেগে নামাজ পড়েনি তবু আল্লাহ তার অসীম দয়ায় অল্প সময়ের ইবাদতকে পূর্ণ রাতের ইবাদতের মর্যাদা এনে দেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এ বিষয়ে সুসংবাদ দিয়েছেন ইমামের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে নামাজ আদায়কারীর ব্যক্তি সারারাত ইবাদতের সওয়াব লাভ করে।আল্লাহর বান্দার জন্য এক বিশাল নিয়ামত দিয়েছে এ রমজান মাসে। কারণ মানুষের পক্ষে প্রতিদিন সারারাত জেগে ইবাদত করা সহজ নয়। কিন্তু তারাবি নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর চেয়ে কঠিন কাজটিকে সহজ করে দিয়েছেন। এর ফল শুধু সওয়াব বৃদ্ধি পায় না বড় অন্তরে আল্লাহর ভীতি ও ইবাদতের প্রতি আগ্রহ আরো দৃহ হয়। একজন মুমিন এতে অনুপ্রাণিত হয় গুনাহ থেকে দূরে থাকে এবং আল্লাহর সন্তুষ্ট অর্জনের পথে এগিয়ে যায়।
গুনাহ থেকে মুক্তি ও পবিত্রতা
গুনাহ থেকে মুক্তি ও পবিত্রতা বলতে আল্লাহুতালা তার বান্দাকে যখন ইবাদতের মাধ্যমে
নিজের দিকে ফিরে আসার সুযোগ দেন। তখন তিনি তার অন্তর ও আমল কে পরিষ্কার করে দেন।
রমজান মাসে তারাবি নামাজ পড়ার মাধ্যমে একজন মুসলমান নিজের ভুল অবহেলা ও গুনার
কথা স্মরণ করে অনুতপ্ত হয়। এই অনুতাপ ও ইবাদতের কারণে এবং তার হৃদয়কে পাপের
কালিমা থেকে পবিত্র করে দেন। তারাবির নামাজ মানুষকে পবিত্র হওয়ার সুযোগ দেন।
এমনকি নিজের ভিতরে যে খারাপ চিন্তা ভাবনাগুলো রয়েছে তা থেকে দূরে রাখতে সাহায্য
করে। তারাবি নামাজ বা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্য দিয়ে একজন গুনাহগার
ব্যক্তির গুনহা গুলোকে ক্ষমা করে দিয়ে আল্লাহ তা'আলা এ রমজান মাসে তাকে
নতুন করে বাঁচার সুযোগ করে দেয়। যা মানুষকে ভালো কাজের দিকে এগিয়ে দেই এবং
খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।
আল্লাহর নৈকট্য লাভ
আল্লাহর নৈকট্য লাভ বলতে বোঝায় বান্দা যখন খাঁটি মনে এবং আন্তরিকভাবে আল্লাহর
ইবাদতে নিজেকে নিয়োজিত করে তখন আল্লাহ তাআলার সঙ্গে তার সম্পর্ক আরো গভীর ও
শক্তিশালী হয়ে ওঠে। রমজান মাসে তারাবির নামাজ আদায় করার সময় একজন মুমিন রাতের
নির্জনতায় আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে কোরআনের আয়াত শুনে এবং তেলওয়াত করে এবং
নিজের অন্তরের কথা আল্লাহর কাছে তুলে ধরে। এই মুহূর্তগুলোতে বান্দার দুনিয়ার
ব্যস্ততা ভুলে গিয়ে একান্তভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে। যা তাকে আল্লাহর নৈকটের
অনুভূতি দেয়। এরা মানুষের মন শান্ত হয় ঈমান মজবুত হয় এবং জীবনের প্রতিটি কাজে
আল্লাহর উপর ভরসা আরো দৃঢ় হয়।
শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি
আমরা যখন ইবাদত করি তখন আল্লাহ তাআলা আমাদের শরীর ও মন একসাথে শান্ত ও
স্বস্তি দেয়। রমজান মাসে তারাবির নামাজ পড়ার সময় একজন মানুষ দীর্ঘ সময়
দাঁড়ায় রুকু সেজদা করে যা শরীরের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং
অলসতা দূর করে। নিয়মিত এ নামাজ আদায় করার ফলে শরীর হালকা থাকে এবং এক ধরনের
সুস্থতা অনুভূতি হয়। মানসিক দিক থেকেও তারাবির নামাজ গভীর প্রশান্তি এনে দেয়।
সারাদিন ক্লান্তি দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা রাতের ইবাদতের মাধ্যমে ধীরে ধীরে
কমে যায়। যার ফলে মন ভালো থাকে চিন্তা-ভাবনা পরিষ্কার হয় এবং জীবনের প্রতি
ইতিবাচক মনোভাব গড়ে ওঠে।
জামাতের সাথে তারাবির নামাজ পড়ার সওয়াব
জামাতের সাথে তারাবির নামাজ পড়ার সওয়াব অত্যন্ত ফজিলত পূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। রমজান মাসে যখন একজন মুসলমান মসজিদে ইমামের পেছনে কাতারে দাঁড়িয়ে তারাবি নামাজ আদায় করে তখন সে শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত করে না বরং উম্মতের অংশ হিসেবেও আল্লাহর ইবাদতের সামিল হয়। রাসূল (সাঃ) বলেছেন যে ব্যক্তি ইমামের সঙ্গে নামাজ শেষ করা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকে তার জন্য পুরো রাতে ইবাদতের সওয়াব লিখা হয়। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য এক বিরাট অনুগ্রহ।
আরো পড়ুনঃ
প্রতিদিন আয়াতুল কুরসি পড়ার ফজিলত ও গুরুত্ব
জামাতে তারাবির নামাজ পড়া মাধ্যমে সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং অন্তরে একতা ও
ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হয়। একসাথে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানো মানুষের ঈমানকে শক্ত করে
এবং ইবাদতের প্রতি আগ্রহ বাড়ায়। এছাড়াও জামাতে নামাজ পড়লে আল্লাহ রহমত ও বরকত
নাযিল হয় যা একজন মুসলমানের জীবনকে আলোকিত করে এবং তাকে গুনাহ থেকে দূরে থাকতে
সাহায্য করে।
FAQ: প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্নঃ রোজার সাথে তারাবি সম্পর্ক কি?
উত্তরঃ রোজা মানুষের আত্মসংযম ও তাকওয়া গড়ে তোলে আর তারাবির নামাজে রোজাকে
পূর্ণতা দিয়ে রাতের ইবাদতের মাধ্যমে। দিনের রোজা ও রাতের তারাবি একসাথে মিলে
রমজানকে একটি পরিপূর্ণ ইবাদতের মাসে পরিণত করে।
প্রশ্নঃ তারাবি না পড়লে রোজা হবে কি?
উত্তরঃ হ্যাঁ, তারাবি নামাজ না পড়লেও রোজা বৈধ থাকবে। কারণ রোজা ফরজ আর
তারাবির নামাজ সুন্নত। তবে তারাবি না পড়লে রমজান মাস রাতের বিশেষ
সওয়াব ফজিলত থেকে বঞ্চিত হবে।
প্রশ্নঃ রোজা ও নামাজের ফজিলত কি?
উত্তরঃ রোজা ও নামাজ দুই মুসলমানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। রোজা মানুষের
আত্মসংযম ধৈর্য ও তাকওয়া বৃদ্ধি করে। আর নামাজ আল্লাহর নৈকট অর্জন ও
অন্তরের পবিত্রতা নিশ্চিত করে। তাই মুসলমানের জন্য রোজা ও নামাজ দুটোই
গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত।
উপসংহার রমজান মাসে তারাবির নামাজ পড়ার ফজিলত ও গুরুত্ব
তারাবির নামাজ রমজান মাসের এক অমূল্য সম্পদ। এটি এমন একটি ইবাদত যা দুনিয়া ও
আখেরাতে দুই জগতে কল্যাণ বয়ে আনে। একজন বুদ্ধিমান মুমিন কখনো এই সুযোগ
হাতছাড়া করে না। রমজান মাসে তারাবির নামাজ পড়ার ফজিলত ও গুরুত্ব ও অপরিসীম। তাই
আমাদের সকলের উচিত রমজান মাসে ইবাদত গুলো ঈমানের সহিত আদায় করি এবং আল্লাহর
রহমত লাভ করি। তাই আসুন আমরা সবাই আন্তরিকতার সাথে তারাবি নামাজ আদায় করি
এবং আল্লাহর ভালোবাসা ও ক্ষমা লাভের পথে এগিয়ে যায়। ধন্যবাদ।

সামিজা৪২ কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url