ইফতার ও সেহরির জন্য ১০টি স্বাস্থ্যকর খাবার এবং তাদের উপকারিতা

ইফতার ও সেহরির জন্য ১০টি স্বাস্থ্যকর খাবার। যে খাবার গুলো খেলে আমাদের স্বাস্থ্যের উপকারিতা রয়েছে। কারণ রমজান মাস মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস। দীর্ঘ সময় না খেয়ে রোজা রাখার কারণে শরীরের শক্তির ঘাটতি পানি শূন্যতা এবং ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

ইফতার-ও-সেহরির-জন্য-১০টি-স্বাস্থ্যকর-খাবার
তাই ইফতার ও সেহরিতে সঠিক ও স্বাস্থ্যকর খাবার নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল খাবারের কারণে রমজানে গ্যাস্ট্রিক দুর্বলতা মাথাব্যথা কিংবা হজমের সমস্যার কারণ হতে পারে।আর্টিকেলে জানব ইফতার ও সেহরির জন্য দশটি স্বাস্থ্যকর খাবার ও তাদের উপকারিতা যা রমজানে আপনাকে সুস্থ ও প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করবে।

পেজ সূচিপত্রঃ ইফতার ও সেহরির জন্য ১০টি স্বাস্থ্যকর খাবার এবং তাদের উপকারিতা

ইফতার ও সেহরির জন্য ১০টি স্বাস্থ্যকর খাবার এবং তাদের উপকারিতা

রমজান মাস মানে আনন্দের মাস ক্ষমা পাওয়ার এবং জান্নাত লাভের মাস। রমজান মাস আসলে প্রত্যেকটি ঘরে মমিন ও মুসলমানের দের জন্য আনন্দের মাস। এই মাসে প্রত্যেক মুসলমানের অন্তরে আল্লাহকে পাওয়ার এবং আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ পায়। একজন গুনাহগার বান্দা এ রমজান মাসে আল্লাহকে পাওয়ার জন্য তওবা করে ফিরে আসার সুযোগ পাবে। রমজান মাসে রোজা রাখার জন্য প্রত্যেক মুসলমানকে সারাদিন না খেয়ে থাকতে হয়। এজন্য আমাদেরকে অবশ্যই ইফতার ও সেহরির সময় স্বাস্থ্যকর খাবারগুলো খাওয়া উচিত।

কারণ স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টি জাতীয় খাবার না খেলে শরীর অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। তাই সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই আমাদের রমজান মাসের স্বাস্থ্যকর খাবারগুলো খাওয়া উচিত। সারাদিন না খাওয়ার ফলে যদি ভুল খাবার খেয়ে বসি তাহলে স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। যার ফলে বাকি রোজাগুলো করা অনেক কষ্টকর হয়ে যায়। তাই আমাদের সকলের উচিত রমজান মাসে স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য ইফতার ও সেহেরির সময় স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া। আসুন নিচে জেনে নিই ইফতার ও সেহরির জন্য ১০টি স্বাস্থ্যকর খাবার এবং তাদের উপকারিতা সম্পর্কে।

খেজুর

খেজুর একটি জনপ্রিয় ফল। সারা বছর এই খেজুর পাওয়া যায়। আগের মানুষ খেজুর খেতো রমজান মাসে ইফতারের সময়। কিন্তু বর্তমানে প্রায় মানুষ স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য সবসময় খেজুর খায়। স্বাস্থ্য দিক থেকে খেজুর অনেক উপকারী। খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক চিনি সারাদিন রোজা রাখার পর শরীরের তাৎক্ষণিক শক্তি জাগায়। পাশাপাশি এতে প্রচুর ফাইবার থাকে যা হজম শক্তি বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে। খেজুরে থাকা আয়রন রক্তস্বল্পতা কমাতে সাহায্য করে ফলে রোজা রাখার সময় দুর্বলতা কম অনুভব হয়।

আরো পড়ুনঃ প্রতিদিন আয়াতুল কুরসি পড়ার ফজিলত

রমজান মাসে ইফতারিতে খেজুর খাওয়া একটি সুন্নাহ ও বরকত ময় আমল। হাদিসে এসেছে রাসুল(সাঃ) ইফতারিতে সাধারণত খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙতেন। যদি তাজা খেজুর না থাকতো তবে শুকনো খেজুর খেতেন। আর তা না থাকলে কয়েক ঢোক পানি পান করতেন। এই সুন্নাহ অনুসরণ করলে শুধু ধর্মীয় বরকত পাওয়া যায় না শরীরের রোজা ভাঙ্গার পর দ্রুত তত্তে ফিরে আসে।

কুরআনে খেজুরের উল্লেখ রয়েছে। বিশেষভাবে সূরা মারিয়ামে আল্লাহ তা'আলা মরিয়ম (আঃ) কে নির্দেশ দিয়েছেন খেজুর গাছ ঝাকাতে যাতে তার জন্য তাজা খেজুর পড়ে। এছাড়া খেজুর কে জান্নাতে নিয়ামত হিসেবে বিভিন্ন আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। এটা প্রমাণ করে যে খেজুর মানবদেহের জন্য পুষ্টিকর এবং শক্তি দায়ক খাবার।

ডাবের পানি ও ফলের শরবত

রমজান মাসে ডাবের পানি ও ফলের শরবত খাওয়া আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকার। রমজান মাসে মানুষ যখন সারাদিন না খেয়ে থাকে তখন তার শরীরে পানি শূন্যতার দেখা দিতে পারে। এজন্য শরীরের দ্রুত পানির ঘাটতি পূরণ করার জন্য ডাবের পানি ও ফলের শরবত উত্তম। কারণ ডাবের পানি যে পুষ্টিগুণ রয়েছে তা মানব দেহের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। আর স্বাস্থ্যকর খাবার হচ্ছে ফলের শরবত। যদি তাজা ফলে শরবত করে খাওয়া যায় তাহলে এটা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। ডাবের পানিতে প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট পটাশিয়াম ম্যাগনেসিয়াম ও অল্প পরিমাণ গ্লুকোজ থাকে যা শরীরকে দ্রুত সতেজ করে এবং পানির ঘাটতি পূরণ করে।

অন্যদিকে ফলের শরবত রমজানে একটি স্বাস্থ্যকর পানীয় হতে পারে যদি তা প্রাকৃতিকভাবে তৈরি করা হয়। তাজা ফলের শরবত শরীরকে ভিটামিন মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে। তবে বাজারে কৃত্রিম রঙের ও অতিরিক্ত চিনি দেওয়া শরবত এড়িয়ে চলা উচিত। তবে নিজে নিজে তাজা ফল দিয়ে ঘরের উপকরণ মিশিয়ে শরবত তৈরি করলে এটা স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকার হবে। তাই আসুন রমজান মাসে স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য ডাবের পানি ও ফলের শরবত খাওয়ার চেষ্টা করি।

দই চিড়া ও ইসবগুল

দই চিড়া ও ইসবগুল ভুষি এগুলো পরিচিতি খাবার। এগুলো শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য অনেক উপকারী। এগুলো খেলে স্বাস্থ্যের উপকার আছে ক্ষতি নাই। তবে এগুলো সঠিক নিয়মে বা পরিমাণ মতন খেলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে না। সারাদিন রোজা রাখার পরে শরীরের যে সমস্যা হয় এ খাবারগুলো সেগুলোর ঘাটতি পূরণ করবে। যেমন সারাদিন রোজা রাখার পরে যখন খাবার খাওয়া হয় তখন স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। যেমন গ্যাস্ট্রিক কম্বলের সমস্যা। চিড়া একটি সহজপাচ্য ও শক্তি দায়ক খাবার যা সেহরির জন্য বিশেষভাবে উপকারী। চিড়াই কার্বনহাইড্রেট থাকে যা ধীরে ধীরে শক্তির সরবরাহ করে এবল দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। দই ও কলার সঙ্গে চিড়া মিশিয়ে খেলে এটি আরো পুষ্টিকর হয়। এতে শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তি পায় এবং সারাদিন রোজা রাখতে তুলনামূলকভাবে কম কষ্ট হয়। তাই সব মিলিয়ে বলা যায় দই চিড়া ও ইসবগুল ইফতার ও সেহরির জন্য একটি স্বাস্থ্যকর খাবার।

তাজা ফলমূলের রস এবং তাজা ফল

তাজা ফলমূলের রস এবং তাজা ফল ইফতার ও সেহরির জন্য উত্তম খাবার। সারাদিন না খাওয়ার পরে  সুস্থ থাকার জন্য ইফতার ও সেহরিতে অবশ্যই তাজা ফলমূলের রস ও তাজা ফল খাওয়া ভালো। এতে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে না বরং স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে। কারণ সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। তবে বাজারের কেনা রসের থেকে তাজা ফল কিনে নিয়েছে বাড়িতে নিজের হাতে তৈরি করে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অধিক উত্তম। কারণ বাজারের ফলের রস স্বাস্থ্যের জন্য উপকার না। যখন বাড়িতে নিজে তৈরি করবেন তখন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং কম চিনি দিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে বানিয়ে খেতে পারবেন। এতে আপনাকে সুস্থ রাখবে। তাজা ফল ও প্রাকৃতিক ফলের রস রমজানে শরীরকে সুস্থ সতেজ ও শক্তিশালী রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে পরিমাণ ও সঠিকভাবে গ্রহণ করলে এগুলো ইফতার ও সেহেরির জন্য আদর্শ পুষ্টিকর খাবার হতে পারে।

ছোলা ও ডাল জাতীয় খাবার

ছোলা ও ডাল জাতীয় খাবার ইফতারি ও সেহরির জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার। রমজান মাসে ইফতার ও সেহরির জন্য ছোলা ও ডাল জাতীয় খাবার খুবই উপকারী। ছোলাই প্রচুর প্রোটিন ফাইবার ও আয়রন থাকে যা রোজার পর শরীরের শক্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। এটি ধীরে ধীরে শক্তির সরবরাহ করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরে রাখে। পাশাপাশি হজম শক্তি ভালো রাখতে ও কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়তা করে। ডাল জাতীয় খাবার যেমন মসুর বা মুগ ডাল প্রোটিনের ভালো উৎস এবং সহজে হজম হয়। সেহরিতে হালকা ডাল খেলে সারাদিন শক্তি পাওয়া যায় এবং দুর্বলতা কম অনুভূতি হয়। তবে অতিরিক্ত তেল মশলা ছাড়াই পরিমাণ মতো খাওয়া সবচেয়ে ভালো।

ওটস বা হল গ্রেন রুটি

রমজান মাসে সেহেরির জন্য ওটস বা হোল গ্রিন বা লাল আটার রুটি, এমন খাবার যা শরীরকে পুষ্টিগত ভাবে স্থিতিশীল রাখে। ওটসে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন বিটা গ্লুকান নামক বিশেষ আঁশ আজ এবং প্রয়োজনীয় মিনারেল থাকে যা রক্তে কোলেস্টরেল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী। এটি পেটের ভেতরের ভালো ব্যাকটেরিয়া কার্যক্রম উন্নত করে ফলে হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে। নয় উল্লেখ্যযোগ্য পরিমাণে প্রোটিন ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এবং ম্যাগনেসিয়াম থাকে। এই উপাদানগুলো পেসি গঠন স্নায়ুর কার্যক্রম এবং শরীরের সামগ্রিক শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে। ডিম দুধ বা ডাল জাতীয় প্রোটিনের সাথে হোল গ্রেইন রুটি খেলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মেল তৈরি হয় যা শরীরকে দীর্ঘ সময় সক্রিয় ও স্থিতিশীল রাখে।ওটস বা হল গ্রিন শুধু পেট ভরানোর খাবার নয় এগুলো শরীরের কোষ পুষ্টি করা পেশি শক্তিশালী রাখা এবং বিপাক ক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ডিম

রমজান মাসে সেহরি বা ইফতারের জন্য ডিম একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার। আমরা সুস্থ থাকার জন্য ডিম খায়। বিভিন্নভাবে মানুষ ডিম খেয়ে থাকে। ডিমের যে পুষ্টিগুণ রয়েছে তা মানব শরীরের জন্য অনেক উপকারী। সারাদিন রোজা রাখার পরে শরীরের যে প্রোটিনের ঘাটতি হয় তাই এই ডিম খেলে পূরণ হয়। কারণ ডিমে উচ্চমানের প্রোটিন থাকে যার কারনে দেহের কোষ মেরামতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডিম খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে। রোজা রেখে সারাদিন না খাওয়ার কারণে শরীরের যে পুষ্টির ঘাটতি পরে ডিমটা পূরণ করতে সাহায্য করে। ডিমের ভিটামিন বি১২ ভিটামিন ডি কোলিন ও সেলিনিয়াম রয়েছে যা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা উন্নত করে হাড় মজবুত রাখে এবং রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়। বিশেষ করে সেহরিতে সেদ্ধ ডিম খেলে শরীরের প্রয়োজনে প্রোটিন পায় ফলে অতিরিক্ত দুর্বলতা হয় না। মানুষ ডিম বিভিন্নভাবে রান্না করে খাই যেমন সেদ্ধ পোচ বা অল্প তেলে ভাজা। তবে অতিরিক্ত তেল মশলা এড়িয়ে সিদ্ধ ডিম খাওয়া সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর। পরিমাণ মত দিন গ্রহণ করলে রমজানে শরীর থাকে শক্তিশালী ও পুষ্টি সম্পন্ন।

মাছ বা চামড়াবিহীন মুরগির মাংস

রমজান মাসের শরীর দীর্ঘ সময় উপবাসে থাকার কারণে শুধু শক্তি নয় এবং টিস্যর পূর্ণগঠনও প্রয়োজন হয়। মাছ এক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাট অ্যাসিড শরীরের ভেতরের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা সচল রাখে। মানসিক ক্লান্তি অনুভব করেন তাদের জন্য হালকা রান্না করা মাছ উপকারী হতে পারে। এছাড়া মাছ লিভারের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে এবং শরীরে ভালো কলেস্টরল মাত্রা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। চামড়া বিহীন মুরগির মাংস হলো লিন প্রোটিনের একটি উৎকৃষ্ট উৎস।

আরো পড়ুনঃ প্রতিদিন কোরআন পড়ার ফজিলত

এতে চর্বি কম থাকায় এটি পাকস্থলে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে না। বিশেষ করে সেহরিতে পরিমাণ মতন খেলে এটি শরীরের এনজাইম ও হরমোন তৈরিতে সহায়তা করে। এতে থাকা নিয়াসিন ও ভিটামিন বি৬ শরীরে বিপাকক্রিয়া সচল রাখে ফলে সারাদিন অবসাদ কম হয়। মাছ ও চামড়া বিহীন মুরগির শুধু শক্তি দেয় এমন খাবার নয় এগুলো শরীরের অবস্থা ঋণ সিস্টেম যেমন হৃদযন্ত্র মস্তিষ্ক লিভার ও বিপাক ক্রিয়াকে সাপোর্ট করে। তাই রমজানে ভারি ভাজাপোড়া বাদ দিয়ে হালকা গ্রিল বা সেদ্ধ আকারে খাওয়া বেশি উপকারী।

সবজি ও সালাদ

সবজি ও সালাদ এটি একটি স্বাস্থ্যকর খাবার। সবজি আমাদের শরীরের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। সবজি যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। একেক সবজিতে এক এক রকম পুষ্টিগুণ রয়েছে। যেগুলো খেলে আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রোগ বালাই থেকে মুক্তি থাকবে। রমজান মাসে মানুষ রাতে যখন সেহরি খায় তখন অবশ্যই পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। কারণ সারাদিন মানুষ না খেয়ে থাকবে। তার জন্য সবজি হচ্ছে আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। আমার যখন ইফতার করবে তখনো স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রয়োজন। কারণ সারাদিন না খাওয়ার কারণে শরীরের সমস্যা হতে পারে। তাই ইফতারি ও সেহরির জন্য সবজি ও সালাদ খাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমাদের সকলের ইফতার ও সেহরিতে ভারসাম্য কোন খাবার বেছে নেয়ায় বুদ্ধিমানের কাজ।

দুধ

ইফতার ও সেহরির জন্য ১০টি স্বাস্থ্যকর খাবারের মধ্যে হচ্ছে দুধ অন্যতম। কারণ দুধের যে ভিটামিন বা পুষ্টিগুণগুলো রয়েছে তা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকার। দুধ খেলে সারাদিন পিপাসা লাগে না। রমজান মাসে যেহেতু আমরা দিনের বেলায় কিছু খেতে পারব না তাই অবশ্যই আমাদের দুধ হবে উত্তম খাবার। কারণ দুধের যে প্রোটিন ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন বি থাকে তাতে আমাদের পেসি শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে। যার ফলে আমাদের শরীল সারাদিন না খেয়ে থাকলে ক্লান্তি হয় না। আপনি যদি দূরদের সঙ্গে বাদাম বা খেজুর মিশিয়ে খান তা আরো পুষ্টিগুণ হয়ে যায়। ফলে রমজানে দুধ একটি সহজ স্বাস্থ্যকর পূর্ণ  পুষ্টি খাবার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

FAQ: প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্নঃ সারাদিন রোজা রাখার মাধ্যমে কোন ধরনের আত্মশৃঙ্খলা শিখা যায়?

উত্তরঃ সারাদিন রোজা রাখার মাধ্যমে মানুষ ধৈর্য সংযম ও আত্মনিয়ন্ত্রণ শিখে. এতে খাওয়া দাওয়া ক্রোধ ও ইচ্ছার ওপর নিয়ন্ত্রণ তৈরি হয় এ কাজগুলো শুধু একজন রোজাদারী পারবে করতে। কারণ রোজা আমাদেরকে তাকওয়া অর্জন করতে শেখায়।

প্রশ্নঃ স্বাস্থ্যকর খাবার রমজানে শরীরের কেন অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া সচল রাখে?

উত্তরঃ স্বাস্থ্যকর খাবার রমজানে হজম বিপাক ও পেশির কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া এটি হৃদযন্ত্র লিভার ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখে।

প্রশ্নঃ যাকাত বা সাদকা রমজানে কেন বেশি প্রযোজ্য?

উত্তরঃ রমজানের যাকাত ও সাদকা বেশি প্রযোজ্য কারণ এই মাসকে বরকতময় ও আত্মিক উন্নতির সময় বলা হয়েছে। এতে দরিদ্র ও অভাবগ্রস্থদের সহায়তা করে সমাজে উন্নতি ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি করে। এর মধ্যে দিয়ে গরিব অসহায় মানুষদের সাহায্যে করা যায়।

উপসংহার ইফতার ও সেহরির জন্য ১০টি স্বাস্থ্যকর খাবার এবং তাদের উপকারিতা

রমজান মাসে ইফতার ও সেহরি খাওয়া মমিন মুসলমানের জন্য বাধ্যতামূলক। তাই আমাদের সে সময় গুলোতে অবশ্যই পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে হবে। কারণ সেহরির খাবার হচ্ছে সারাদিনের জন্য শক্তি দিবে আর ইফতারির খাবারটা হচ্ছে সারাদিনের ক্লান্তি দূর করবে। তাই অবশ্যই আমাদের ইফতার ও সেহরির জন্য স্বাস্থ্যকর খাবারগুলো বেছে নেওয়ায় উত্তম। উপরে ইফতার ও সেহরির জন্য ১০টি স্বাস্থ্যকর খাবার এবং তাদের উপকারিতা গুলো আলোচনা করেছে। তাই আসুন সকলে রমজান মাসে সুস্থ থাকার জন্য এবং রমজানের ইবাদত গুলো ভালো করে পড়ার জন্য আমাদের স্বাস্থ্য সুস্থতা অতি প্রয়োজন। তাই পরিমান মত ও স্বাস্থ্য কর খাবার গ্রহণ করি এবং শরীল সুস্থ ও সতেজ রাখি ধন্যবাদ।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সামিজা৪২ কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url