সহজ হজম ও অন্ত্র সুস্থ রাখার ১০টি সেরা খাবার

সহজ হজম ও অন্ত্র সুস্থ রাখার খাবারগুলো সম্পর্কে জানব।শরীর সুস্থ রাখতে হলে অবশ্যই আমাদের পুষ্টিকর খাবারের দরকার।অনেকে আছে যাদের হজমে সমস্যা হয়। ঠিকমতো হজম না হওয়ার কারণে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয়।অসুস্থতার কারণ হচ্ছে সঠিক খাবার না খাওয়া।

সহজ-হজম-ও-অন্ত্র-সুস্থ-রাখার

খাবার ঠিকভাবে হজম না হয় তাহলে শারীরিক অবনতি হয়।সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই আমাদের স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। কোন খাবার গুলো খেলে সহজে হজম ও অন্ত্র সুস্থ রাখার জন্য উপযোগী। নিচে জানব শারীরিক সুস্থতার জন্য হজম সহজ অন্ত্র সুস্থ রাখার ১০টি সেরা খাবার।

পেজ সূচিপত্রঃ সহজ হজম ও অন্ত্র সুস্থ রাখার ১০টি সেরা খাবার

সহজ হজম ও অন্ত্র সুস্থ রাখার ১০টি সেরা খাবার

মানবদেহের সুস্থতার মূল ভিত্তি হলো ভালো হজম ব্যবস্থা ও সুস্থ অন্ত্র। আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাই সে খাবার থেকে শরীর শক্তি, ভিটামিন ও খনিজ গ্রহণ করে হজম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। যদি হজম সঠিকভাবে না হয় বা অন্ত্র ঠিকভাবে কাজ না করে তাহলে খাবার থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি শরীরে পৌঁছায় না। এর ফলে শরীল ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দেয়। তাই আমাদের সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই সহজে হজম ও অন্ত্র ভালো সুস্থ রাখার খাবারগুলো খেতে হবে।

হজম প্রক্রিয়া শুধু খাবার ভাঙ্গার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনা। এটি আমাদের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা এমনকি মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত।অন্ত্রকে অনেক সময় দ্বিতীয় মস্তিষ্ক বলা হয়। কারণ অন্ত্রের অবস্থা ভালো না থাকলে দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা ও মানসিক ক্লান্তি বেড়ে যায়। তাই সহজে হজম এবং অন্ত্র সুস্থ রাখা আমাদের সার্বিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যাদের গ্যাস্ট্রিক, আলসার, অনিয়মিত পায়খানা, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা, বদহজম, শরীরের পুষ্টির ঘাটতি, রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা কমে যাওয়া, ওজন বেড়ে যাওয়া বা হঠাৎ করে কমে যাওয়া, ত্বকের সমস্যা এবং মানসিক চাপ আর সেই সাথে রাতে ঘুমের সমস্যা। যাদের এ সমস্যাগুলো রয়েছে তাদের স্বাস্থ্য অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আবার আমাদের শরীরে প্রায় ৭০% রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা অন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই আমাদের সহজে হজম হয় এমন খাবার খেতে হবে। যাতে করে আমাদের অন্ত্র ভালো থাকে। চলুন নিচে সহজ হজম ও অন্ত্র সুস্থ রাখার জন্য ১০টি সেরা খাবার গুলো জেনে নিন।

কলা

কলা একটি প্রাকৃতিক উপাদান। কলাতে রয়েছে প্রচুর প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ। যা খেলে আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকার। কাঁচা বা পাকা কলা যেটাই খাবেন সেটাই আপনার স্বাস্থ্যের জন্য কার্যকারিতা। বাজারে বারোমাস কলা পাওয়া যায়। কলা চাহিদা ও প্রচুর। দামে সস্তা বলে মানুষ এ কলা খেতে পারে। কলা কলাতে রয়েছে ডায়োটারি ফাইবার,, পটাশিয়াম ভিটামিন বি৬ এবং সামান্য ক্যালসিয়াম। এমন একটি খাবার যা আমাদের দেহের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে থাকে। নিয়মিত কলা খেলে সহজে হজম ও অন্ত্র সুস্থ রাখে। যার কারণে যাদের পায়খানায় সমস্যা হয় তাদের জন্য অনেক উপকারী এ কলা। আবার কলা সহজে হজম হয় এমন একটি ফল। এতে থাকা প্রাকৃতিক ফাইবার অন্ত্রের চলাচল স্বাভাবিক রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে। গ্যাস্ট্রিক বা পেটের অস্বস্তি থাকলে কলা পেট ঠান্ডা রাখে এবং অন্ত্রকে আরাম দেয়।

দই

দই একটি প্রচলিত খাবার। দই তৈরি হয় গরুর দুধ দিয়ে। গরুর দুধ হচ্ছে প্রাকৃতিক উপাদান। দুধের যে পুষ্টিগুণগুলো রয়েছে তা এই দইয়ে পাওয়া যায়। বর্তমানে সব সময় দই পাওয়া যায় বাজারে। দইয়ের যে পুষ্টি উপাদান রয়েছে তা খেলে সহজে হজম হয় এবং অন্ত্র সুস্থ রাখতে অনেক উপকারী। দই অন্ত্রের জন্য খুবই উপকারী খাবার। এতে থাকা প্রোবায়োটিক উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের ক্ষতিকর জীবাণু কমায় এবং হজম শক্তিশালী করে।নিয়মিত দই খেলে বদহজম, ডায়রিয়া ও গ্যাসের সমস্যা কমে। তাই দই অন্ত্রের জন্য সবচেয়ে উপকারী প্রাকৃতিক খাবার গুলো একটি। এতে রয়েছে প্রচুর প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া, ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও ভিটামিন বি১২। যা খেলে সহজে হজম হবে এবং অন্ত্রের ভেতরের পরিবেশ সুস্থ থাকে।

আদা

আদা একটি প্রচলিত খাবার। আদা রান্না করার সময় সব রান্নাতে ব্যবহার করা হয়। আবার কেউ কেউ কাঁচা আদা খায়। কেউবা আবার চায়ের সাথে খায়। আদা হচ্ছে একটি প্রাকৃতিক উপাদান। এতে রয়েছে প্রাকৃতিক সব পুষ্টিগুণ। যা খেলে আমাদের স্বাস্থ্যের অনেক উপকার হবে। আদায় একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক হজম সহায়ক। যাদের খাবার খাওয়ার পরে হজম হয় না বা গ্যাসের সমস্যা তাদের জন্য এ আদা হচ্ছে একটু উপকারী খাবার। আদাতে রয়েছে জিঞ্জেরল নামক যৌগ যা হজম রস নিঃসরণ বাড়াই। আদা গ্যাস, বমি ভাব ও অম্বল কমাতে সাহায্য করে। যদিও এতে ক্যালসিয়াম কম তবে অন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়াতে আদার ভূমিকা অনেক। তাই আদা হচ্ছে আমাদের শারীরিক সুস্থতার জন্য একটি স্বাস্থ্যকর খাবার। 

আরো পড়ুনঃ সকালে ব্যায়াম করা ১০টি উপকারিতা

ওটস

ওটস একটি ফাইবার সমৃদ্ধ শস্যজাত খাবার। এতে রয়েছে বিটা গ্লুকান ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন ও সামান্য ক্যালসিয়াম। যাদের মলত্যাগের সমস্যা হয় তাদের জন্য এ খাবার অনেক উপকারী। অনেকে আছে যাদের পায়খানা করতে অনেক কষ্ট হয় তাদের জন্য এটা বেস্ট খাবার।কারণ এই ফাইবারে অন্ত্রে পানি ধরে রাখে। যার ফলে মল নরম হয় এবং পায়খানা সহজে হয়।ওটস হজমে চাপ সৃষ্টি করে না তাই অন্ত্রের আরামের জন্য খুবই ভালো। যারা দীর্ঘমেয়াদি পায়খানায় ভুগছেন তাদের জন্য এ খাবারটি নিয়মিত খেলে উপকার পাবে।যাদের গ্যাসের কারণে সমস্যা হয় তাদের সমস্যা সমাধান হবে।

সেদ্ধ ভাত

আমরা সকলেই ভাত খাই। কিন্তু কেউ শক্ত ভাত খায় কেউ নরম ভাত খায়। তবে শক্ত ভাব যারা খায় তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতি। শক্ত ভাত সহজে হজম হতে চাই না। যা পেটে অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তবে সেদ্ধ ভাত আমাদের দৈনিন্দর খাদ্যের তালিকার একটি প্রধান খাবার। এটি চাল পানিতে সেদ্ধ করে তৈরি করা হয় এবং খুব সহজে হজম হয়। বিশেষ করে যাদের পেটে দুর্বল, গ্যাস্ট্রিক বা বদহজমের সমস্যা আছে তাদের জন্য সেদ্ধ ভাত একটি নিরাপদ ও উপকারী খাবার। সেদ্ধ ভাতে প্রধানত কার্বোহাইড্রেট থাকে যা শরীরের প্রধান শক্তির উৎস। এ ছাড়া এতে অল্প পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, বি১, বি৩ এবং ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে। যদিও সেদ্ধ ভাতে ক্যালসিয়াম পরিমাণ খুব বেশি নাই তবে এটি শরীরের শক্তি যোগাতে ও হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

শাক সবজি

শাকসবজি আমাদের দৈনন্দিন খাবারের একটি অপরিহার্য অংশ। বেঁচে থাকতে হলে আমাদের শাকসবজি অবশ্যই খেতে হবে। কারণ শাপ সবজি খেলে শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তবে হজম সহজ ও অন্ত্র সুস্থ রাখতে এর বিকল্প নাই। শাকসবজি প্রাকৃতিকভাবে হালকা, পুষ্টিকর এবং সহজে হজম হয়। এতে থাকা ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান অন্ত্র সুস্থ রাখতে এবং হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যারা গ্যাস্ট্রিক, কোষ্ঠকাঠিন্য বা বদহজমের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য শাকসবজি খুবই উপকারী খাবার। হজমে সহায়তার জন্য যে খাবারগুলো উপকারী তা হল লাউ, পেঁপে, ঝিঙ্গে, চাল কুমড়া ও পালংশাক। শাকসবজিতে প্রচুর ডায়েটারি ফাইবার, ভিটামিন এ, সি, কে, ফোলেট, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং অল্প পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে. এসব পুষ্টি উৎপাদনে শরীরকে রোগ থেকে রক্ষা করে এবং হজমে শক্তিশালী করে। আর অন্ত্র পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। প্রাকৃতিক এন্টি অক্সিডেন্ট ভরপুর যা শরীরের ক্ষতিকর টক্সিন দূর করতে সহায়তা করে।

আপেল

সহজ হজম ও অন্ত্র সুস্থ রাখার জন্য আপেল হচ্ছে  একটি জনপ্রিয় ফল। পৃথিবীর সব দেশি পাওয়া যায়। আপেলে রয়েছে প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ। যেমন পেকটিন নামক দ্রবণীয় ফাইবার যা অন্ত্রের ভাল ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে। এতে ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও সামান্য ক্যালসিয়াম রয়েছে। আপেল অন্ত্রের ভেতরে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করে এবং ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য ক্ষেত্রে উপকারী ফল। এর ফল বাজারে সব সময় পাওয়া যায়। কিন্তু দাম বেশির কারণে মানুষ খুব একটা খেতে পারে না। কিন্তু আপেল আমাদের শারীরিক সুস্থতার জন্য অনেকটাই সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

সেদ্ধ ডিম

সেদ্ধ ডিম একটি সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার। ডিম সেদ্ধ করলে এতে থাকা পুষ্টিগুণ নষ্ট না হয়ে শরীরে সহজে গ্রহণযোগ্য হয়। যারা সহজে হজমযোগ্য খাবার চান এবং অন্ত্র সুস্থ রাখতে চান তাদের জন্য সেদ্ধ ডিম একটি নিরাপদ ও কার্যকর খাদ্য। সেদ্ধ ডিমে রয়েছে উচ্চ মানের প্রোটিন যা শরীরের পেশি গঠন ও কোষ মেরামতের সাহায্য করে। এছাড়া এতে থাকা ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১২, আয়রন, ফসফরাস এবং জিঙ্ক। এ পুষ্টিগুলো হাড় মজবুত করে, রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ভাজা বা তেলযুক্ত ডিমের তুলনায় সেদ্ধ ডিম অনেক সহজে হজম হয়। তাই দিনে ১-২ খাওয়া ভালো। তবে সকালে বা দুপুরে সেদ্ধ ডিম খাওয়া ভালোদ।

মৌরি

মৌরি একটি পরিচিতি প্রাকৃতিক মসলা ও ঔষধি উপাদান। আমাদের দেশে খাবারের পর মৌরি জীবনের প্রচলন বহু পুরনো। মৌরি মূলত হজম শক্তিশালী করা এবং অন্ত্রকে আরাম দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং নিয়মিত অল্প পরিমাণে খেলে হজমজনিত নানা সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। মৌরিতে রয়েছে প্রচুর ডায়োটারি ফাইবার, ক্যালসিয়াম,আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম এবং ভিটামিন সি। এছাড়াও এতে থাকা প্রাকৃতিক এন্টিঅক্সিডেন্ট ও এনিথল নামক যৌগ যা হজমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মৌরি ক্যালসিয়াম হার মজবুত করতে সাহায্য করে এবং আয়রন রক্তস্বল্পতা কমাতে সাহায্য করে। মৌরি পাকস্থলীর হজম  রসের নিঃসরণ বাড়ায় যার ফলে খাবার দ্রুত ও সহজে হজম হয়। খাবারের পর এক চা চামচ মৌরি চিবিয়ে খাওয়া ভালো। বাড়াতে এক চা চামচ মরি পানিতে ভিজিয়ে সকালে সে পানি পান করা। আবার মৌরি চা হিসেবে খাওয়া যায়। নিয়মিত ও সঠিক নিয়মে মৌরি খেলে হজম শক্তিশালী হয় এবং অন্ত্র সুস্থ থাকে এবং পেটের নানা সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

আরো পড়ুনঃ শরীরে পানি শূন্যতা দূর করার ৮টি সহজ উপায় 

পর্যাপ্ত পানি

পানি আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মানব দেহের প্রায় ৬০-৭০% অংশ পানি দিয়ে গঠিত। পানি ছাড়া শরীরের কোন অঙ্গ সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। বিশেষ করে হজম প্রক্রিয়া ও অন্ত্র সুস্থ রাখতে পানির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানির অপর নাম জীবন। পানি না খেলে মানুষ বাঁচতে পারে না। তাই আমাদের প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাওয়া উচিত। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে গ্যাস্ট্রিক, পেট ফাঁপা ও নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। পানি নিজের কোন ক্যালোরি বা ভিটামিন সরবরাহ করে না কিন্তু এটি শরীরের সব ভিটামিন, খনিজ ও পুষ্টি উপাদান শোষণের সহায়তা করে। পানি রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখে, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ অক্সিজেন ও ও পুষ্টি শরীরের অঙ্গ পতঙ্গ তে পৌঁছে দেয়। পানি খাবার ভাঙতে এবং হজম এনজাইম কে সংক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। পানি কম পান করলে মল শক্ত হয়ে যায়। তাই প্রতিদিন অনন্ত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত। সকালে ঘুম থেকে উঠে ১-২ গ্লাস এবং খাবারে আধাঘন্টা আগে বা পরে পাননি পান করা উচিত। তবে একসাথে অনেক পানি না খেয়ে অল্প অল্প খাওয়া ভালো।

FAQ: প্রায় জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্নঃ হজম শক্তির বৃদ্ধির খাবার গুলো কি?

উত্তরঃ জিরা, এলাচ,  দারুচিনি, লবঙ্গ, টক দইয়ের ঘোল, লেবু মধু ও ভেজানো কিসমিস এগুলো হজম রস বাড়ে গ্যাস ও বদ হজম কমায়।

প্রশ্নঃ পেটে খাবার হজম না হলে করনীয় কি?

উত্তরঃ পেটে খাবার হজম না হলে হালকা সহজ খাবার যেমন সেদ্ধ ভাত দই খাবেন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন। এছাড়া হালকা হেঁটে বা পেঁপে আদার মতো প্রাকৃতিক হজম সহ খাবার গ্রহণ করুন।

প্রশ্নঃ হজম শক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম কোনগুলো?

উত্তরঃ হজম শক্তি বাড়ানোর জন্য হালকা হাটা,  সাঁতার বা জগিং করা। পেটের জন্য হালকা স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম যেমন পেট টোর্সন,কেপ্টিং এক্সারসাইজ উপকারী। এ সব ব্যায়াম অন্ত্র সক্রিয় করে খাবার দ্রুত হজম করে।

উপসংহার সহজ হজম ও অন্ত্র সুস্থ রাখার ১০টি সেরা খাবার

সহজ হজম ও অন্ত্র সুস্থ রাখার সঠিক খাবার নির্বাচন ও নিয়ম মেনে খাওয়া খুবই জরুরী। প্রাকৃতিক হালকা ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেলে হজম ভালো থাকে এবং শরীর থাকে সুস্থ। তাই আজ থেকে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে হলে খাদ্য ভাসের ছোট পরিবর্তন আনতে হবে তাহলে বড় উপকার পাওয়া সম্ভব। তাই সঠিক খাবার খাওয়া সময় মত খাবার গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করে সহজে হজম ও অন্ত্রের যত্ন নেয়া আমাদের সবার জন্য খুবই জরুরী। এতক্ষণ মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সামিজা৪২ কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url